Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-১০-২০১৬

আইএসে যোগ দেয়ার ভর্তি ফর্ম ফাঁস

আরাফাত পারভেজ


আইএসে যোগ দেয়ার ভর্তি ফর্ম ফাঁস

দামেস্ক, ১০ মার্চ- কয়েক বছর আগেও বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসী সংগঠন বলতে মানুষ বুঝতো আল কায়েদাকে। ৯/১১ এর হামলার মধ্যে দিয়ে মহাশক্তিধর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করায় তারা এতোটা পরিচিতি পায়। আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন মার্কিনীদের হাতে নিহত হন ২০১১ সালে। এরপর থেকেই বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসী সংগঠনের জায়গাটি দখল করতে শুরু করে ইসলামিক স্টেট। ইরাক এবং সিরিয়াতে ঘাঁটি গেড়ে তারা এখন হামলা করছে সারা বিশ্বে। তাদের নাম ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে। মানুষ ছুটে যাচ্ছে তাদের দলে যোগ দিয়ে জিহাদ করতে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আইএস কিভাবে নিয়োগ দেয় নতুন নতুন যোদ্ধা? 

আইএস নিয়ে মানুষের কৌতূহলের অনেকগুলো বড় কারণের একটি হচ্ছে তাদের গোপনীয়তা। যদিও সবাই জানে তারা ইরাক এবং সিরিয়ায় রয়েছে, কিন্তু তাদের কার্যক্রমে মেনে চলা হয় চরম গোপনীয়তা। সারা পৃথিবী যখন একসাথে একটি দলের পেছনে লাগে তখন এটা না করে উপায় নেই। তবে আইএসের লোকের অভাব নেই। প্রতি মুহূর্তে তাদের বাহিনীতে যোগ দিচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। এমনকি শিশুরা পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না। তাদের লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক গবেষণাও হয়েছে এপর্যন্ত ।

কিন্তু অতি সম্প্রতি আইএসের একগাদা কাগজপত্র ফাঁস হয়ে গেছে গণমাধ্যমে। এতে করে তাদের কার্যক্রম সম্বন্ধে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া গেছে। এই সমস্ত নথিতে দেখা যায়, আইএসে যোগ দিতে ইচ্ছুক নতুন বিদেশি যোদ্ধাদের তালিকা। তালিকাতে যোদ্ধাদের জাতীয়তা, রক্তের গ্রুপ এবং জিহাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

সিরিয়ার একটি সংবাদপত্র জামান আল-অয়াসল ১২২ পৃষ্ঠার এই নথি প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে এই নথি তাদের সরবরাহ করেছে আইএসের একজন দলত্যাগী সদস্য। জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বলেছেন, নথিগুলো এখন তাদের হাতে রয়েছে। তবে তারা কিভাবে এগুলো পেয়েছেন সেটা জানান নি। সংবাদপত্র মতে,  নতুন লোক নিয়োগ করার জন্য ব্যবহৃত এই নথিগুলোতে পর্যাপ্ত খুঁটিনাটি তথ্য রয়েছে। এগুলোকে বলা যেতে আইএসের ভর্তি ফর্ম।

ফর্মের ডান পাশের কোনায় রয়েছে আইএস পতাকা। একেবারে উপরে বামপাশের কোনায় রয়েছে সীমান্তে প্রবেশের আইএস ষ্ট্যাম্প। আরবিতে লেখা শব্দগুলো কম্পিউটার টাইপ করা হয়েছে। ফর্মের একেবারে শেষে রয়েছে ‘প্রাইভেট’ লেখা ষ্ট্যাম্প। ফর্মে ২৩টি প্রশ্ন রয়েছে প্রার্থীদের জন্য। 

প্রার্থীদের পূরণ করা ফর্মের একটিতে দেখা যায়, একজন অস্ট্রেলীয় যোদ্ধা লিখেছেন, তিনি আত্মঘাতী যোদ্ধা হতে চান। তবে তিনি সল্প দৃষ্টি সম্পন্ন লোক হওয়ায় আত্মঘাতী যোদ্ধা হওয়াটা তার জন্য একটা সমস্যা হয়ে দেখা দেবে। তিনি যে ম্যানুয়াল গিয়ারের গাড়ি চালাতে পারেন না সেটাও ফর্মে উল্লেখ ছিল।   

এই সমস্ত নথি মতে, আইএস বিশ্বের অনেক দেশ থেকেই তাদের লোক নিয়োগ করে। এর মধ্যে সিরিয়া, ইরাক, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, ফ্রান্স এবং জার্মানি রয়েছে। ফর্মে যে ২৩টি প্রশ্ন রয়েছে সেগুলোতে যোদ্ধাদের বয়স, জন্মস্থান, রক্তের গ্রুপ এবং অভিজ্ঞতা উপরে প্রশ্ন রয়েছে। তাছাড়া আনুগত্য নিয়ে যেমন প্রশ্ন রয়েছে, তেমনি নতুন যোদ্ধারা কি শুধু যুদ্ধ করতে চায়, নাকি আত্মঘাতী হতে চায়, তার উপরেও প্রশ্ন রয়েছে।

ফর্মগুলোর বেশিরভাগেই তারিখ দেয়া আছে ২০১৩ সালের। জার্মান পুলিশের একজন মুখপাত্র মারকুস কথস বলেছেন, এই নথিগুলো আসল এবং বিশ্বাসযোগ্য বলেই আমাদের মনে হয়েছে। আইএসে যোগ দিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের যে ২৩টি প্রশ করা হয় সেগুলো হচ্ছে : 

--আসল নাম 
--নতুন যে নাম নিতে ইচ্ছুক 
--মায়ের নাম 
--রক্তের গ্রুপ 
--জন্ম তারিখ/ জাতীয়তা 
--বৈবাহিক অবস্থা 
--ঠিকানা এবং জন্মস্থান 
--শিক্ষাগত যোগ্যতা 
--শরিয়া আইন মানেন কিনা 
--পূর্বের পেশা 
--যে সমস্ত দেশ ভ্রমণ করেছেন 
--কোন সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছেন 
--প্রবেশের তারিখ 
--কে পাঠিয়েছে আইএসে
--পূর্বের জিহাদের অভিজ্ঞতা 
--যোদ্ধা নাকি আত্মঘাতী হামলাকারী হতে চান 
--কোন ব্যাপারে বিশেষ জ্ঞান আছে 
--বর্তমান পেশা এবং কর্মস্থল 
--ব্যক্তিগত যে সমস্ত জিনিস পেছনে ফেলে এসেছেন 
--আনুগত্যের মাত্রা 
--ভবিষ্যতে যোগাযোগের ঠিকানা 
--মৃত্যুর দিন তারিখ এবং স্থান 
--বাড়তি নোট

এন/২০:২২/১০ মার্চ

মধ্যপ্রাচ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে