Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১০-২০১৬

৪৮ কেন্দ্রে তিন মাস ওষুধ সরবরাহ বন্ধ

৪৮ কেন্দ্রে তিন মাস ওষুধ সরবরাহ বন্ধ

খুলনা, ১০ মার্চ- খুলনার ৯টি উপজেলার ৪৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে তিন মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রতি মাসে সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমছে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গুরুপ্রসাদ ঘোষ বলেন, ‘অধিদপ্তর থেকে ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ না থাকায় মাঠপর্যায়েও দু-তিন মাস ধরে সরবরাহ বন্ধ। মৌখিক তথ্য অনুযায়ী, এ সমস্যা সমাধানে আরও দু-তিন মাস লাগবে। আমরা সাধ্যমতো সেবা দিচ্ছি। তবে শুধু পরামর্শ নেওয়ার জন্য তো রোগীরা আসবেন না, এটাই স্বাভাবিক। ওষুধের সরবরাহ না থাকায় রোগী আগের চেয়ে কমে গেছে।’

গত মঙ্গলবার দাকোপ উপজেলার কৈলাসগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন দীনবন্ধু মিত্র। তিনি বলেন, ‘গরমকাল আসে গ্যাছে, এলাকায় জলের সংকট খুব। নোংরা জলে চান (গোসল) করতি হচ্ছে। গায়ে চুলকায়, অতিষ্ঠ হয়ে ওষুধ নিতি আসলাম। ডাক্তার কলো ওষুধ নি। আগের সপ্তাহ প্যাটে ব্যথার জন্যি আলাম, তাও ওষুধ দিতি পারল না। ওষুধ না থাকলি শুধু শুধু লোক দেখাতি ডাক্তার বসার দরকার কী?’

ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (এসএসিএমও) মাহমুদ হাসান বলেন, যে পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ করা হয় তাতে এক সপ্তাহ পার হয় না। তারপরও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় টেনেটুনে মাস চালানো হতো। তিন মাস ধরে ওষুধ না পাওয়ায় প্রতিদিন রোগীদের গালমন্দ শুনতে হচ্ছে। ওষুধ ছাড়া ব্যবস্থাপত্র লিখে দিলে তাঁরা নিতে চান না।

একই দিন দাকোপের কামারখোলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে গিয়েও দেখা যায়, রোগীরা শুধু ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ফিরছেন। সেখানে আসা বিউটি বেগম নামের একজন রোগী বলেন, ‘আশপাশে ক্লিনিক নেই। উপজেলা সদরও এখান থেকে অনেক দূরে। আমরা গরিব মানুষ, টাকা দিয়ে ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। সরকারি হাসপাতালে যদি ওষুধ না থাকে, তা আমরা যাব কোথায়?’

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্র জানায়, খুলনার দাকোপ উপজেলায় ৭টি, বটিয়াঘাটায় ৩টি, তেরখাদায় ৪টি, দিঘলিয়ায় ৪টি, রূপসায় ৪টি, ডুমুরিয়ায় ১৩টি, ফুলতলায় ৩টি, কয়রায় ৫টি এবং পাইকগাছায় ৫টি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র আছে। এসব কেন্দ্রে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে প্রতি মাসে একটি করে ডিডিএস (ড্রাগ অ্যান্ড ডাইটারি সাপ্লিমেনটেশন) কিটস বা প্যাকেট পাঠানো হয়। এতে বিভিন্ন পরিমাণে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপ, ড্রপ, ক্রিমসহ ২৬ ধরনের ওষুধ থাকে। গত ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এ কিটস পাঠানো হয়নি।

খুলনার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পণ্যাগার থেকে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের ৩৪টি উপজেলায় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। সেখানকার আঞ্চলিক সরবরাহ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও রূপসা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিলারা ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় পণ্যাগার থেকে দুই মাস ধরে ওষুধ পাই না, তাই সরবরাহ করতে পারছি না। বেশির ভাগ ডিডিএস কিটস বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কেনা হয়। ওষুধের কেনাকাটার বর্তমান প্রক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংক থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। তাই ওষুধ কেনা যাচ্ছে না।’
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে পাওয়া নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে রোগীর সংখ্যা কমে আসছে। গত নভেম্বর মাসে গর্ভবতী, শিশু ও সাধারণ রোগী মিলিয়ে ৪০ হাজার ৯৬৬ জন সেবা নিয়েছেন। ডিসেম্বরে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৪৫৭ জনে। জানুয়ারিতে তা আরও কমে হয়েছে ২৫ হাজার ৯৮৬ জন।

এস/১৬:৩০/১০ মার্চ

খুলনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে