Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১০-২০১৬

উত্তরের সফল ডেইরি খামারি মিনা

সৈকত আফরোজ আসাদ


উত্তরের সফল ডেইরি খামারি মিনা

পাবনা, ১০ মার্চ- নারী হিসেবে সব প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন পাবনার স্কুল শিক্ষিকা মাহফুজা মিনা।

তীব্র ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর একাগ্রতায় এখন মিনা একজন সফল ডেইরি ব্যবসায়ী।

পাবনার বেড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বনগ্রামের প্রয়াত আব্দুল মজিদ মাস্টারের একমাত্র সন্তান মাহফুজা মিনা ২০০০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে যোগ দেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতায়।

 সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তাগিদ থেকে ২০১০ সালে দুটি গরু নিয়ে ডেইরি ফার্ম শুরু করেন মিনা। মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে এখন প্রায় ৪৮টি গরু নিয়ে জেলার অন্যতম বৃহৎ ডেইরি ফার্মের মালিক তিনি। পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সফল উদ্যোক্তার স্বীকৃতিও।

প্রকৌশলী স্বামী, দুই সন্তান নিয়ে সুখের সংসার হলেও মিনা ভুগছিলেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়ের সংকটে।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমি মেয়ে স্ত্রী মা ও শিক্ষিকা এই পরিচয়গুলিতে যথেষ্ট সুখী; কিন্তু দেশের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় না থাকায় আমি খুবই হতাশায় ভুগছিলাম। বাবা ডেইরি ব্যবসা শুরুর পরপরই মারা গেলে আমি তার ব্যবসার হাল ধরি।”

“শুরুতেই অনেকেই নানা ধরনের কথা বলে আমার মন খারাপ করে দিত। আজ যখন বিভিন্ন সভা সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আমাকে মডেল হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন তখন আমি সত্যিই গর্ব অনুভব করি।” 
বর্তমানে সব খরচ বাদে খামার থেকে বছরে ১০ লাখেরও বেশি টাকা আয় হয় বলে জানান মিনা। 

গরুর পাশাপাশি তার খামারে ভেড়া আর ছাগলও রয়েছে। তবে এসব পশুর সংখ্যা বেশি না হলেও ভবিষ্যতে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রায় আট বিঘা জমি নিয়ে মাছ, হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুর একটি সমন্বিত খামার তৈরির কাজও শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

এ খামারে বর্তমানে ১৪ জন কর্মচারী রয়েছেন।

কর্মচারীরা জানান, বর্তমানে এই খামার থেকে বিভিন্ন মাংস প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত গরু ও ভেড়া সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন উৎপাদন হয় প্রায় ৩৫০ লিটার দুধ।

মিনার মা নাজমুন নাহার বলেন, “ছেলে সন্তান না থাকায় এক সময় চরম হতাশ ছিলাম; কিন্তু আমার মেয়ের সাফল্যে আজ তার বাবার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।”
ছেলে সন্তানের জন্য সেই আক্ষেপ আর নেই বলে জানান তিনি।

মিনার সহকর্মী বিবি পাইলট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদত হোসেন বলেন, “প্রথমদিকে মিনার কাজকর্ম দেখে পাগলামী মনে হতো। এখন তার সফলতায় আমরা গর্বিত।”

 

এস/০২:০০/১০ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে