Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-০৯-২০১৬

বাড়িয়ে তুলুন নিজের ধৈর্যশক্তি

আফসানা সুমী


বাড়িয়ে তুলুন নিজের ধৈর্যশক্তি

ধৈর্য হচ্ছে, দেরি সহ্য করতে পারার ক্ষমতা, রেগে না গিয়ে বা মর্মাহত না হয়ে অপেক্ষা করতে পারা। প্রতিদিনই অধৈর্য হওয়ার মত অনেক ঘটনা ঘটে। কিন্তু তখনি আপনি একজন ধৈর্যশীল মানুষ হতে পারবেন, যখন সেই সব ঘটনা ঠান্ডা মাথায় সমাধান করতে পারবেন অথবা সে বিষয়ে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

বিলম্ব, অসুবিধা এবং বিরক্তি- এই তিনটি বিষয়ে নিজেকে সামলে নেয়াই ধৈর্য। মানুষের স্বাভাবিক একটা ধৈর্যধারণ ক্ষমতা থাকে। ঘটনা অনেক সময় সেটাকে অতিক্রম করে যায়। আবার মানুষও অনুশীলনের মাধ্যমে তাঁর ধৈর্যধারণ ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

আপনি যখন ধৈর্য ধারণ করে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবেন তখন নিজেই নিজের মধ্যে আনন্দ অনুভব করতে পারবেন। আপনার আত্মবিশ্বাসও বাড়বে, নিজের জীবনের ঝামেলাও কমবে। আর অধৈর্য হলে আপনি সমস্যা সমাধান তো করতে পারবেনই না, অযথা স্ট্রেস বেড়ে আপনার ক্ষতি হবে।
মনোবিজ্ঞানী টনি বার্নহারড তাঁর বই How to Wake Up: A Buddhist-Inspired Guide to Navigating Joy and Sorrow and How to Live Well with Chronic Pain and Illness: A Mindful Guide) তে ধৈয্যধারণ এবং এর প্রয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন।

কিভাবে ধৈর্য বাড়াবেন?

১। অধৈর্যকে চিহ্নিত করুন
যখন কোন ঘটনা আমাদের পছন্দমত ঘটে না, যেমন হয়ত দীর্ঘক্ষণ জ্যামে আটকে আছি, বা কারো অপেক্ষা করছি তখন একসময় আমরা অধৈর্য বোধ করতে পারি। নিজেই বুঝতে পারবেন নিজের মানসিক অবস্থা। কঠিন কিছু নয়। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। ভাবুন, আপনি কি করতে চান বা কোন কাজটি হচ্ছে না বলে আপনি অধৈর্য। অর্থাৎ, আপনি জ্যামে বসে থেকে বিরক্ত, কারণ আপনার অফিসে দেরি হচ্ছে। বিকল্প পথে অফিসে যাওয়ার চেষ্টা করুন। অথবা যখন রেগে যাচ্ছেন, কারণ আপনার বন্ধুটি এখনও আসছে না। তাঁর পরিচিতদের ফোন করে তাঁর খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করুন।

অধৈর্যের কারণ যা হয়,

১। আমরা সব কিছুই নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী প্রত্যাশা করি।
২। আমরা চাই মানুষও আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবে।
৩। বেশিরভাগ সময় আমাদের প্রত্যাশা হয় বাস্তবতা বর্জিত।

এই ক্যাটাগরিগুলোর বিষয়ে ভাবুন। নিজেকে শান্ত করুন।

২। আপনার মস্তিষ্ক এবং শরীরে অধৈর্যের প্রভাব খেয়াল করুন
নিজেকে অধৈর্য হতে দিয়ে আপনি মেনে নিচ্ছেন যে আপনার মধ্যে ধৈর্য কম। এর সাথে সাথে বাড়বে আপনার উদ্বিগ্নতা, স্ট্রেস। আপনার মানসিক অবস্থার প্রভাব পড়বে শরীরেও। যখন মন শান্ত হবে, তখনো এর রেশ থাকবে। অতিরিক্ত রাগ, উত্তেজনায় আপনার রক্তচাপও বাড়তে পারে। তাই ধৈর্য হারাবার আগে এসব ব্যাপারে ভাবুন। এই আত্মপর্যালোচনা আপনার মনকে শান্ত রাখবে। নিজেই নিশ্চয় নিজের ক্ষতি করতে চাইবেন না!

৩। অধৈর্যকে ধৈর্যের দিকে নিয়ে যান
এটি একটি অনুশীলনের বিষয়। ধৈর্য ধারণের অনুশীলন করুন। আত্মপ্রশান্তির জন্য এই পদক্ষেপ নিন। ওই সময়গুলো মনে করুন যখন মানুষ আপনার অধৈর্য আচরণে কষ্ট পেয়েছেন। অথবা এমন কোন মুহুর্ত যা আপনাকে লজ্জিত করে। হউত কোন কখনো এমন কোন বিষয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং রেগে গিয়েছিলেন প্রিয় মানুষটির উপর যেখানে হয়ত তাঁর কোন দোষ বা অন্যায় ছিল না। এই ঘটনাগুলো মনে করুন।

আবার এমন কাজে অংশ নিতে পারেন যাতে মনে প্রশান্তি বজায় থাকে। ভাল কোন বই পড়ুন। বেড়াতে যান। আপনার ছোট্ট বাগানটিতে সময় কাটান। গান শুনুন। মনোযোগ বিচ্যুতি আপনাকে শান্তি দেবে।

সর্বশেষ, আপনি মেডিটেশন বা ধ্যানের আশ্রয় নিতে পারেন। ধ্যান খুবই ভাল এবং সহায়ক সমাধান। আপনি যতই অধৈর্য, বদরাগী হোন ধীরে ধীরে ধ্যানের মাধ্যমে ধৈর্য বাড়াতে পারবেন। আপনার ইচ্ছা, আগ্রহ, অনুশীলনের চেয়ে বড় কোন সহায়ক বস্তু হতে পারে না।

আর/১০:৩৭/০৯ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে