Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-০৯-২০১৬

‘যত খুশি-তত দুঃখ’

‘যত খুশি-তত দুঃখ’
এ বছরের ‘স্বাধীনতার পদক’ সম্মাননাপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দুই রূপকার প্রয়াত রফিকুল ইসলাম (বামে) এবং এম এ সালাম।

অটোয়া, ০৯ মার্চ- একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি অর্জনে অগ্রণী ভূমিকার জন্য রফিকুল ইসলামকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার স্ত্রী বুলি ইসলাম।

প্রয়াত স্বামীর এই সম্মান অর্জনের খবর জেনে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে বসবাসরত বুলি ইসলাম টেলিফোনে বলেন, “এ গৌরব আর অহংকার গোটা প্রবাসের, সমগ্র বাঙালির। দেশ মাতৃকার প্রতি প্রবাসীদের মমত্ববোধের আরেকটি স্বীকৃতি মিললো এ পুরস্কারের মধ্য দিয়ে।

“এ জন্যে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যত খুশি- তত দুঃখ। উনি বেঁচে থাকলে এমন গৌরবের বিষয়কে সবাই একযোগে উপভোগ করতে পারতাম।”

২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর মারা যান কুমিল্লার সন্তান রফিকুল ইসলাম। তিনি স্ত্রীসহ দুই ছেলে মাশফিকুল ইসলাম জ্যোতি ও তাশফিকুল ইসলাম জয়ন্তকে রেখে গেছেন। তারাও মায়ের সঙ্গে ভ্যাঙ্কুভারেই থাকেন। এ পুরস্কার নিতে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় যেতে চান বলেও জানান বুলি ইসলাম।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জনে রফিকুলের যৌথ উদ্যোগের সঙ্গী আবদুস সালামকেও এবার স্বাধীনতা পদক দিতে যাচ্ছে সরকার। তারাসহ ১৪ জন এবার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পাচ্ছেন। আগামী ২৪ মার্চ ঢাকায় তাদের পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একসঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানে ভূষিত হলেও প্রয়াত বন্ধু রফিকুল ইসলাম বেঁচে না থাকায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন সম্মাননা প্রাপ্ত এমএ সালাম।

তিনি বলেন, “বন্ধু রফিকুল ইসলাম বেঁচে থাকলে আজ আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম, তার কথা খুব মনে করছে। দেশের জন্যে, ভাষার জন্যে এ এক বিরাট অহংকারের ঘটনা। যদিও আমরা ঐ পদক্ষেপ নিয়েছিলাম কোনো ধরনের পুরস্কারের প্রত্যাশায় নয়।”


স্ত্রী এবং দুই ছেলের সঙ্গে রফিকুল ইসলাম। মৃত্যুর দুই বছর আগের ছবি।

চট্টগ্রামের রাউজানের সন্তান সালাম কানাডায় বৃটিশ কলম্বিয়া ফেরি কর্পোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ১৬ বছর চাকরির পর বর্তমানে অবসরে রয়েছেন। একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে জাতিসংঘে চিঠি পাঠানোর কথা স্মরণ করে এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন তিনি।

এম এ সালাম বলেন, “সেই সময়ের জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানের কাছে প্রথম চিঠিটি লিখেছিলেন বন্ধু রফিকুল ইসলাম। এরপর আমিসহ আরও কজন বিদেশি সম্পৃক্ত হই ওই কাজে। “আমরা কাজ করার সময় জানানো হয় যে, এ প্রস্তাবটি উত্থাপিত হতে হবে কোনো সদস্য রাষ্ট্রের দ্বারা। সাথে সাথে সে সময়ের সরকারের নীতি-নির্ধারকদের মাধ্যমে বিষয়টি শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছানোর পর তিনি কাল বিলম্ব করেননি। তাই আমি মনে করছি, এ পুরস্কারের ভাগিদার সেদিনের এবং আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।”

২৩ বছর ধরে কানাডায় বসবাসরত এই বাঙালি বলেন, “আমার স্ত্রী বর্তমানে ঢাকায় রয়েছে। এ পুরস্কার নেওয়ার আমিও যেতে আগ্রহী। তবে টিকিট পাব কি না সংশয়ে রয়েছি।”

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রূপকার হিসেবে দুই প্রবাসীকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ইউএস কমিটি ফর সেক্যুলার ডেমক্রেটিক বাংলাদেশ, মুক্তিযোদ্ধা যুবকমান্ড, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা।

এক বিবৃতিতে তারা বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা  এবং বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে সমুন্নত রাখার জন্যে কর্মরত প্রবাসীদেরকে সম্মান জানানোর জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এফ/১০:৫৮/০৯ মার্চ

কানাডা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে