Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০৯-২০১৬

হাদি-মাহদির সমাধি চিহ্নিত সংরক্ষণের উদ্যোগ

উজ্জ্বল মেহেদী


হাদি-মাহদির সমাধি চিহ্নিত সংরক্ষণের উদ্যোগ

সিলেট, ০৯ মার্চ- সৈয়দ হাদি ও সৈয়দ মাহদি। সিলেটে ব্রিটিশবিরোধী প্রথম যুদ্ধে শহীদ দুই ভাই। নগরের শাহি ঈদগাহ এলাকায় হয়েছিল সেই যুদ্ধ। আর তাঁরা সমাহিত হয়েছিলেন পাশের নয়াসড়ক এলাকায়। টিলা ভূমির ঝোপঝাড়ের একটি স্থান এতকাল লোকমুখে শহীদ হাদি ও শহীদ মাহদির সমাধি হিসেবে চিহ্নিত ছিল। দুই শতাব্দী আগের সেই ইতিহাস যেন আবার ফিরে এসেছে নতুন প্রজন্মের কাছে। দুই শহীদের সমাধিস্থল চিহ্নিত করেছে ‘বৃহত্তর সিলেট ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি’।

কমিটির সদস্যদের চেষ্টায় সমাধিস্থল চিহ্নিত হওয়ায় সংরক্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে এখন। সিলেট সিটি করপোরেশন দুই শহীদের সমাধি সংরক্ষণ করে সেখানে স্মারক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি নয়াসড়কে সমাধিস্থল খুঁটি দিয়ে চিহ্নিত করেছে সংরক্ষণ কমিটি। সৈয়দ হাদি ও সৈয়দ মাহদির আত্মদানের বিষয়টি ইতিহাসের পাতা থেকে প্রথম আলোচনায় আসে ১৯৮৭ সালে। তৎকালীন সিলেট পৌরসভার উদ্যোগে বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির অষ্টম জাতীয় ইতিহাস সম্মেলন হয় সিলেট শহরে। ওই সম্মেলনে জাতীয় ইতিহাস গবেষকদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রথম শহীদ হিসেবে স্বীকৃত হন সৈয়দ হাদি ও সৈয়দ মাহদি।

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, পলাশী যুদ্ধের ২৫ বছরের মাথায় ১৭৮২ সালে সংঘটিত হয়েছিল সিলেটের ওই যুদ্ধ। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী দিনটি ছিল ১০ মহরম। ওই সময় রবার্ট লিন্ডসে ছিলেন সিলেটের রেসিডেন্ট বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর। লিন্ডসের সুসজ্জিত বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন শহরের কুমারপাড়া-সংলগ্ন ঝরনার পারের ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ পরিবারের দুই ভাই সৈয়দ হাদি ও সৈয়দ মাহদি। লোকমুখের ইতিহাসে তাঁরা ‘হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া’ নামে খ্যাত।

সেই দিন অপরাহ্ণে ঘোড়ায় চড়ে সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে শাহি ঈদগাহ ময়দানে হাজির হন বিদ্রোহী সৈয়দ হাদি ও সৈয়দ মাহদি। খোলা তরবারি হাতে এগিয়ে যান দুই ভাই। লিন্ডসেকে আশুরা অনুষ্ঠানের সীমানায় প্রবেশে বাধা দেন তাঁরা। আগ্নেয়াস্ত্রের বিরুদ্ধে খোলা তরবারি হাতে অসম এক যুদ্ধ বাধে। ইংরেজ বাহিনী ধরাশায়ী হওয়ার উপক্রম হলে একপর্যায়ে তাদের পাল্টা আক্রমণে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সৈয়দ হাদি ও সৈয়দ মাহদি। যুদ্ধস্থল শাহি ঈদগাহের অদূরে নয়াসড়ক এলাকায় সমাহিত করা হয়েছিল দুই শহীদকে।

জাতীয় ইতিহাস সমিতির সম্মেলনে বিশদভাবে আলোচিত সৈয়দ হাদি-সৈয়দ মাহদির বিষয়ে ব্যক্তিগত কৌতূহল থেকে ঐতিহাসিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে রেখেছেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, রবার্ট লিন্ডসের লিখিত একটি বইয়ে এ কাহিনির স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। সাপ্তাহিক বিচিত্রায় মুনতাসীর মামুনের লেখা ‘লিন্ডস সাহেবের সিলেট গমন’ শীর্ষক নিবন্ধেও হাদি-মাহদির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এটিই ছিল ভারতবর্ষের স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রথম যুদ্ধ। বৃহত্তর সিলেট ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক সিলেটের মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজীবী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। সদস্যসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম। আর সদস্যরা হলেন হারুনুজ্জামান চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জুবায়ের সিদ্দীকী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার জামিল আহমদ চৌধুরী, সাম্যবাদী দল সিলেটের সভাপতি ধীরেন সিংহ ও ন্যাপ মহানগর সহসভাপতি কোরেশ আহমদ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব হলেন রুহুল ফারুক। তাঁরা ৬ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে গিয়ে স্থানটি চিহ্নিত করেন।

আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আসলে আমাদের মাটিই হচ্ছে লুপ্তপ্রায় ইতিহাসের বড় এক সাক্ষী। দুই শহীদের সমাধি এত দিন মুখে মুখে চিহ্নিত করা ছিল। ঐতিহাসিক তথ্য নিয়ে সেটি আবার নতুন করে কমিটির মাধ্যমে চিহ্নিত করায় সিটি করপোরেশনও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ কাজটি সম্পন্ন হলে গৌরবের একটি ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে চির জাগরূক করে রাখার ব্যবস্থা সুরক্ষিত হবে।’

সমাধিস্থল চিহ্নিত হওয়ায় একটি গুচ্ছ প্রকল্পে সংরক্ষণকাজ চলতি অর্থবছরে করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব। তিনি বলেন, এ কাজ শেষে সমাধিস্থলের রাস্তা ও পরবর্তী সময়ে স্মারক নির্মাণে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ উদ্যোগ নেবে।

এস/০২:০০/০৯ মার্চ

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে