Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-০৯-২০১৬

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক কার্গো ব্যবসা বন্ধের আশঙ্কা

মো.মহিউদ্দিন


মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক কার্গো ব্যবসা বন্ধের আশঙ্কা

চট্টগ্রাম, ০৯ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক কার্গো ব্যবসা বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খালাস জটিলতার কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাগেজ রুলের আওতায় আনা প্রায় ৬০০ টন পণ্য আটকে থাকার কারণে এ আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এসব পণ্য চারমাস ধরে পড়ে থাকায় একদিকে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।অন্যদিকে প্রায় ৬ কোটি টাকা ডেমারেজ আসার কারণে বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী ও পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পণ্যের দামের চেয়ে ডেমারেজ ও শুল্ককর বেশি হওয়ায় এসব পণ্য প্রবাসীরা নিতে পা্রবেন কিনা সে বিষয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক কার্গো ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, কার্গো ব্যবসা বন্ধ থাকার কারণে বেকার হয়েছে প্রায় ৩ হাজার প্রবাসী শ্রমিক। বিমান ভাড়া দিয়ে পণ্য এনে বিপুল পরিমান ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বিমানবন্দরে শেডের ডেমারেজ মওকুফ না করলে পণ্যগুলো ছাড় করানো সম্ভব হবে না। তাই মানবিক বিষয় বিবেচনা করে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় সচল রাখতে ডেমারেজ মওকুফের দাবি জানান প্রবাসীরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনি জটিলতার কারণে গত বছরের নভেম্বর থেকে ব্যাগেজ রুলের আওতায় আনা প্রায় ৬০০ টন পণ্যের খালাস প্রক্রিয়া বন্ধের পর থেকে কার্গো ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও প্রবাসী শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে কমেছে সরকারি রাজস্ব আয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ব্যাগেজ রুলের আওতায় আনা পণ্য থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪২ কোটি ২৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আদায় হয় ৩৭ কোটি ৯৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা। বিগত সময়ে প্রতি মাসে গড় রাজস্ব আদায়ের হার ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭৭ হাজার হলেও গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কেবল ৬ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

জানা গেছে, অনেক দেনদরবারের পর নিয়ম মেনে পণ্যগুলো খালাস দিতে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে আদেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এরপর থেকে পণ্য খালাস নিচ্ছেন প্রবাসীরা। তবে অতিরিক্ত ডেমারেজ গুনার কারণে অনেকেই পণ্য খালাস নিতে পারছেন না। কারণ পণ্যের মূল্যের চারগুণের বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। যা সব প্রবাসীর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ডেমারেজ মওকুফ চেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেমনের কাছে আবেদন জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে কার্গো ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইউএই কার্গো অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ।


নীতিমালা করা হোক:
সংগঠনের সভাপতি আনোয়ারুল আশরাফ চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই ব্যাগেজ রুলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ফরওয়াডিং লাইসেন্স নিয়ে কার্গো ব্যবসা চলছে। কিন্তু গত নভেম্বর থেকে হঠাৎ করেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসব পণ্য খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।

সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাগেজ নীতিমালা না থাকার কারণে পণ্য খালাস বন্ধ করে দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নীতিমালা না থাকলে তা প্রণয়ন করা হোক। কিন্তু এটি না হওয়া পর্যন্ত আগের নিয়মেই খালাস দেওয়া দরকার। নীতিমালা তৈরি হলে তা মেনেই আমরা পণ্য আনবো।

রেমিটেন্স প্রদানকারী ও তাদের পরিবারের স্বার্থে সরকারের রাজস্ব আহরণের দিক বিবেচনা করে ব্যাগেজ আমদানির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে শারজা-আজমান কার্গো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মুসলেহ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, আমরা নীতিমালা অনুসরণ করেই পণ্য নিয়ে আসবো।

ডেমারেজ মওকুফের দাবি:
মানবিক দিক বিবেচনা ও রেমিটেন্স প্রদানের ধারা অব্যাহত রাখতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের ডেমারেজ মওকুফের জন্য সংশ্লিষ্ট্ কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন শারজা-আজমান কার্গো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আযম তালুকদার।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। অধিকাংশই নিম্ন আয়ের। ফলে নিয়মিত দেশে আসতে পারে না। তাই পরিবারের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় কিছু দ্রব্য পাঠিয়ে থাকেন। কিন্তু গত চারমাস ধরে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রবাসীদের পরিবার।

চারমাস বিমানবন্দরে আটকে থাকার কারণে বিপুল পরিমাণ ডেমারেজ দিয়ে পণ্য খালাস সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি তা মওকুফের দাবি জানান।

অভিবাসীদের মালামাল বিবেচনায় নিয়ে অর্থদণ্ড ও জরিমানা মওকুফের দাবি জানিয়ে শারজা-আজমান কার্গো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মুসলেহ উদ্দিন বলেন, আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

আইন মেনে খালাস দেওয়া হচ্ছে:
ব্যাগেজ রুলের আওতায় আনা কার্গো পণ্য বিমানবন্দরে আটকে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রিজভি আহমেদ বলেন, আইনি জটিলতার কারণে পণ্য গুলোর খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল।

কার্গো ব্যবসায়ীরা ভুল করে নিয়ে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা চেয়েছি। আইনি কাঠামো ঠিক রেখে আটক পণ্যগুলো খালাস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আমরা এখন পণ্য খালাস প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

আর/১২:২৯/০৯ মার্চ

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে