Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.1/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০৮-২০১৬

বাহুবলের এসআই বরখাস্ত, ওসিকে বরখাস্তের সুপারিশ

বাহুবলের এসআই বরখাস্ত, ওসিকে বরখাস্তের সুপারিশ
ওসি আব্দুর রহমান, এসআই জিয়াউর রহমান জিয়া

হবিগঞ্জ, ০৮ মার্চ- হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় চার শিশু হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে গতকাল রোববার বাহুবল থানার এক উপপরিদর্শককে (এসআই) সাময়িক বরখাস্ত ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বরখাস্তের সুপারিশ করেছেন জেলা পুলিশ সুপার। 

এই হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছিল চার শিশুর পরিবার। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় ও জেলা আদালতের পরিদর্শক কাজী কামাল উদ্দিনের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র। গত বৃহস্পতিবার কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে বলে জানা গেছে। 

প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গতকাল বাহুবল থানার এসআই জিয়াউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত ও ওসি আবদুর রহমানকে বরখাস্তের সুপারিশ করে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমানকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন। 

হবিগঞ্জের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের পঞ্চায়েতের দ্বন্দ্বে গত ফেব্রুয়ারিতে খুন হয় মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া শুভ (৯), আবদুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১১), আবদাল মিয়ার ছেলে মনির (৭) ও আবদুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৮)। ১৭ ফেব্রুয়ারি উদ্ধার করা হয় এই চার শিশুর লাশ। 

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী আবদাল মিয়া অভিযোগ করেন, একসঙ্গে চার শিশু নিখোঁজ হলে গত ১২ ফেব্রুয়ারি পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বাহুবল থানায় গেলে ওসি (তদন্ত) আবদুর রহমান ও এসআই জিয়াউর রহমান ঘটনাটিতে গুরুত্ব দেননি। শিশুগুলোকে উদ্ধারের ব্যাপারে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন তাঁরা। 

বাদীর ভাষ্যমতে, ওই দিন ওসি বলেছিলেন, ‘আজ মামলা লেখার লোক নাই, কাল আসেন।’ পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থানায় গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ চার শিশুর বাড়িতে যায় তদন্ত করতে। এ সময় পুলিশ অভিভাবকদের বলে, ‘আমরাও খুঁজছি, আপনারও খোঁজেন, তসবি পড়েন, আর আল্লাহকে ডাকেন।’ নিখোঁজের পাঁচ দিনেও শিশুদের খোঁজ পাওয়া না গেলে ১৬ ফেব্রুয়ারি ওই অভিভাবকদের থানায় ডেকে অপহরণ মামলা নেয় পুলিশ। এর এক দিন পর চার শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয় সুন্দ্রাটিকির এক বালুছড়া থেকে।

মামলার বাদী আবদাল মিয়া গতকাল বলেন, ‘শুরু থেকেই যদি পুলিশ তৎপর থাকত, হয়তো শিশুগুলোকে বাঁচানো যেত।’

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে