Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০৮-২০১৬

রিজার্ভ থেকে চুরি করা অর্থের বড় অংশই উদ্ধার হয়নি

রিজার্ভ থেকে চুরি করা অর্থের বড় অংশই উদ্ধার হয়নি

ঢাকা, ০৮ মার্চ- অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে রাখা রিজার্ভের টাকা চুরি যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গতকাল সোমবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।

মোট ৮০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার চুরি করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা থেকে অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়। তবে চুরি যাওয়া অর্থের বড় অংশই উদ্ধার করা যায়নি।

এদিকে, অন্য এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি যাওয়ার বিষয়ে কিছুই জানি না। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক আমাকে কিছু জানায়নি। আমি বিষয়টি পত্রিকায় পড়েছি।’

বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একটি বক্তব্য দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক থেকে ‘হ্যাকড’ করে চুরি যাওয়া টাকার একটি অংশ এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকার গন্তব্য শনাক্ত করে তা ফেরত আনতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সক্রিয় রয়েছে। ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ টাকা ফেরত আনার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে দেশে ও দেশের বাইরে থেকে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অপ্রকাশিত রাখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে চুরি যাওয়া টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে বিএফআইইউর মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ বলেন, টাকা ফেরত পাওয়ার স্বার্থে এ বিষয়ে আপাতত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ছাড়া এ ঘটনার বিষয়ে একাধিক দেশ ও প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের ব্যাংক হিসাবে রক্ষিত বাংলাদেশের স্থিতি থেকে হ্যাক করে অর্থ চুরি করা হয়েছে। এর একটি অংশ গেছে শ্রীলঙ্কায়, আরেকটি অংশ গেছে ফিলিপাইনে। সম্প্রতি ফিলিপাইনের একটি ইংরেজি দৈনিকে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাতে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিলিপাইনে পাচার হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনে অর্থ পাচারের ঘটনায় সে দেশের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষ দেশটির আদালতে মামলা করেছে এবং আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলো ফ্রিজ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সাইবার বিশেষজ্ঞ পরামর্শক ও ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন টিমও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের ইনকোয়েরার-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফিলিপাইন থেকে ১০ কোটি ডলার বা ৮০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। এটিই ফিলিপাইনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থ পাচারের ঘটনা। যার একটি অংশ বাংলাদেশি ব্যাংক থেকে গেছে।
বাংলাদেশ থেকে কীভাবে ফিলিপাইনে অর্থ পাচার হয়ে গেল, সে সম্পর্কে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দেশটির মাকাতি শহরে অবস্থিত রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের একটি শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ ফিলিপাইনে আসে। এতে ওই ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপকের সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এরপর অবৈধভাবে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী ফিলরেম নামের এক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। এভাবে হাতবদল হয়ে সবশেষে ফিলরেমের মাধ্যমে ওই ১০ কোটি ডলার ফিলিপাইন থেকে আবার অন্য দেশে পাচার হয়ে যায়। আর যে তিনটি ক্যাসিনোর হাত ঘুরে তা অন্য দেশে পাচার হয়েছে সেগুলো হলো সোলাইরি রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনো, সিটি অব ড্রিমস ম্যানিলা ও মাইডাস হোটেল অ্যান্ড ক্যাসিনো।
অর্থ পাচারের এ ঘটনার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ফিলিপাইনের এএমএলসির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইনকোয়েরার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, পাচার হয়ে আসা অর্থের একটি অংশ যে বাংলাদেশ থেকে এসেছে, প্রাথমিক তদন্তে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ থেকে কীভাবে এ অর্থ ফিলিপাইনে এসেছে এবং কারা তার সঙ্গে জড়িত, তা বের করতে তদন্ত চলছে।

ইনকোয়েরার-এর নিজস্ব অনুসন্ধান অনুযায়ী, পাচার হয়ে আসা এ অর্থ ফিলিপাইনের নিজস্ব মুদ্রা পেসোতে রূপান্তর হয়ে পাঁচটি আলাদা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে একটি বড় করপোরেট হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। ওই বড় করপোরেট হিসাবটি একজন চীনা-ফিলিপিনো ব্যবসায়ীর বলে ধারণা করছে এএমএলসি। ওই ব্যবসায়ী ফিলিপাইনের বিভিন্ন ক্যাসিনোতে বড় অঙ্কের জুয়ার লেনদেন করে থাকেন বলেও প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী দল।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে