Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০৭-২০১৬

এবার ফসলি জমি ও বসতভিটায় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র

হাসনাইন ইমতিয়াজ


এবার ফসলি জমি ও বসতভিটায় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র

ঢাকা, ০৭ মার্চ- রামপাল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে দেশে-বিদেশে প্রতিবাদের যে দামামা বেজে উঠেছে তা থামার আগেই আবারো এমনই এক পরিকল্পনা হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার। এবার সুন্দরবন ধ্বংস করে নয়, কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে ফসলি জমি ও বসতভিটা উচ্ছেদ করে। এরই অংশ হিসেবে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে আরো একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। কয়লাচালিত এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের প্রকল্পটি যৌথভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) ও চীনের নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল বাস্তবায়ন করবে।

দেশের তৃতীয় বৃহৎ পায়রা সমুদ্রবন্দরের কাছে প্রস্তাবিত এ কেন্দ্রের জন্য ৯১৮ একর জমি অধিগ্রহণ করবে সরকার। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার নিশানবাড়িয়া, ধানখালি এবং লোন্দা মৌজাভুক্ত ভূমির ২৫ দশমিক ৭৯ একর বসতভিটা এবং ৮৯২ দশমিক ৩৫ একর চাষযোগ্য ফসলি জমিতে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

জমি অধিগ্রহণের অনুরোধ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসককে একটি চিঠি দিয়েছে আরপিসিএল।

এ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ও আরপিসিএল’র প্রধান প্রকৌশলী সেলিম ভূঁইয়া জানান, শিগগিরই নরিকো'র সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এওইউ) সই হবে। এওইউ এর খসড়া নিয়ে চলতি মাসের ১৫ তারিখ একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরেক সরকারি প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানিও পটুয়াখালীতে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এটিও চীনের একটি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত হচ্ছে। যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠনে ২০১৪ সালে দুই প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হয়।

আরপিসিএল বলছে, প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে নরিনকো সহায়তা করবে। জি টু জি ভিত্তিতে চীনের কনসেনসনাল ঋণের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে চায়না এক্সিম ব্যাংক এবং এশিয়ান ইন্ফ্রোস্টাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ঋণ নেয়ার কথা সরকারকে জানানো হয়েছে।  

উল্লেখ্য, গ্যাসের স্বল্পতায় সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে বেশি ঝুঁকছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত গৃহীত বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা অনুসারে ২১ হাজার ৭৮৫ মেগাওয়াটের ২৪টি কয়লা চালিত কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ১০ হাজার ১৭০ মেগাওয়াটের ৯টি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি উদ্যোগে ১০ হাজার মেগাওয়াটের ৭টি বৃহৎ কেন্দ্র নির্মাণের কথা রয়েছে। বেসরকারি খাতেও সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের ৭টি প্রকল্প রয়েছে।
 
এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে বাগেহাটের রামপালে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে। যদিও সুন্দরবনের কাছে বলে এ প্রকল্প নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও বিরোধিতা রয়েছে। 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে