Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.7/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-০৭-২০১৬

অক্সিজেন নেই ঢাকায় নদীর পানিতে

অক্সিজেন নেই ঢাকায় নদীর পানিতে

ঢাকা, ০৭ মার্চ- ঢাকার নদীর অধিকাংশ স্থানের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা শূন্যের কোঠায় বলে জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। রাজধানীর কলাবাগানে সোমবার পবা কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত পবার একটি বিশেষজ্ঞ দল নদীর দূষণ পরীক্ষা ও দখল-ভরাট পর্যবেক্ষণ করে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীর পানি দূষণে ঢাকা মহানগরীর জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হুমকির সম্মুখীন। প্রতিদিন এ মাত্রা বেড়েই চলেছে।

এ সময় পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পবার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, সহ-সম্পাদক প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, সমন্বয়কারী আতিক মোরশেদ, পল্লীমা গ্রিনের সদস্য সচিব আনিসুল হোসেন তারেক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পবার একটি বিশেষজ্ঞ দল চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ ৪টি নদীর দূষণ পরীক্ষা ও দখল-ভরাট পর্যবেক্ষণ করে। পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায় বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীর প্রায় অধিকাংশ স্থানের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা শূন্যের কোঠায়। নদীর দূষিত পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় পানির প্রয়োজন মেটাতে আমরা নির্বিচারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছি। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর ১০ ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ত পানি উজানে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী দূষণমুক্ত ও পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করা না হলে এবং বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে পানির অভাবে ঢাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে এখনই সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া নদীগুলোর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন না থাকায় মৎস্য ও জলজ প্রাণীর বিলুপ্তিসহ নদীগুলো মৃত প্রায়। ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ এলাকার পয়ো ও গৃহস্থালী বর্জ্য, শিল্পকারখানা ও হাসপাতালের কঠিন বর্জ্য, হাজারীবাগ এলাকায় অবস্থিত ট্যানারিসমূহের বর্জ্য, শিল্পকারখানার বর্জ্য বিশেষ করে টেক্সটাইল ডায়িং কারখানা, নৌযান নির্মাণ, মেরামত ও রংকরণ, নৌযান থেকে নির্গত তেল এবং নৌযানের বর্জ্য নদী দূষণের অন্যতম কারণ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এদিকে ঢাকা মহানগরীতে পয়োবর্জ্যের পরিমাণ ১৪ লাখ ঘনমিটার। এর মধ্যে পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিশোধনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসা ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন পাগলা পয়োবর্জ্য পরিশোধনাগারের মাধ্যমে মাত্র ৫০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পরিশোধন করছে। বাকি ১৩ লাখ ৫০ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত অবস্থায় সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীর পানির গুণগত মানের অবনতিসহ মাছ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতি, শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি ও গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার অনুপযোগী হচ্ছে। আর জীবাণুজনিত দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এ সমস্যা সমাধানের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়, নতুন পয়োবর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপন, গৃহস্থালী বর্জ্য পানি প্রবাহে ফেলা থেকে বিরত থাকা, ট্যানারিগুলো জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর, বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপন ও বর্জ্য পরিশোধন করা, শিল্পকারখানায় বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপন ও নিয়মিত তা পরিচালনা করা, নৌযানের ডিজাইনে বর্জ্য সংরক্ষণ বা ধারণ করার স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা, বিআইডব্লিউ কর্তৃক নৌযানের বর্জ্য সংগ্রহকরণ ও তা পরিশোধনপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা করা, নৌযানের বর্জ্য ও তেল নদীতে ফেলা থেকে বিরত থাকা, সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা ইত্যাদি।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে