Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-০৬-২০১৬

হজের অর্থসংক্রান্ত ফাইল গায়েবে সাবেক ধর্মসচিব!

হজের অর্থসংক্রান্ত ফাইল গায়েবে সাবেক ধর্মসচিব!

ঢাকা, ০৬ মার্চ- প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে সৌদি সরকারের অনুমোদন পেয়ে শেষ মুহূর্তে পাঠানো পাঁচ হাজার হজযাত্রীর অর্থসংক্রান্ত ফাইলটি গায়েবের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ধর্মসচিব চৌধুরী বাবুল হাসানের দিকে। ফাইল গায়েবের ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তিন কর্মকর্তা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে এই অভিযোগের হদিস মিলেছে।

এই তিন কর্মকর্তার পাশাপাশি সচিব বাবুল হাসানকেও কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে মন্ত্রী ও সচিবের মৌখিক নির্দেশে ইতিমধ্যে তিন কর্মকর্তা জবাব দিয়েছেন। তবে বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সাবেক ধর্মসচিব এখনো জবাব দেননি।

সম্প্রতি ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ধর্মসচিব আব্দুল জলিল এ-সংক্রান্ত নথির খোঁজ করলে ঘটনাটি ধরা পড়ে।

সাবেক ধর্মসচিব চৌধুরী বাবুল হাসানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব বলেন, “মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তিন কর্মকর্তা শোকজের জবাব দিয়েছেন, সচিব স্যার জবাব দেননি।”

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৫ হজ মৌসুমে হজ ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি এবং হজ এজেন্সির মালিকদের সংগঠন হাব-এর (হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন) নেতাদের অপকর্ম ও ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টার ঘটনা চাপা দিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব চৌধুরী বাবুল হাসানের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের নথি গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও হাব নেতাদের বিরুদ্ধে হজের ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ও এ-সংক্রান্ত অর্থের হিসা্বের নথি খুঁজে না পেয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুল জলিল তার দপ্তরের পিএস আবদুল খালেক, পিও ইমামুল হক ও আরেক কর্মকর্তা আবসারকে শোকজ করেন। গত বুধবার এর জবাব দেন তারা।

জানা যায়, গত হজ মৌসুমে নিয়মানুযায়ী অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে মোয়াল্লেম ফি ও বাড়িভাড়ার টাকা জমা দিয়েও সৌদি সরকারের কোটার কারণে হজে যেতে পারছিলেন না ৩০ হাজার হজযাত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অনুরোধে সৌদি সরকার পাঁচ হাজার অতিরিক্ত হজযাত্রী পাঠানোর অনুমোদন দেয়।

এই হজযাত্রীর পাঠানোর ক্ষেত্রে ৪৫ কোটি টাকার গোলমাল হয়। এর মধ্যে ১৭ কোটি টাকা সরকারের, যা মোয়াল্লেম ফি হিসেবে সরকার জমা দিয়েছিল, বাকি ২৮ কোটি টাকা হজযাত্রীদের। এই টাকার বিষয়টি আড়াল করতে ওই পাঁচ হাজার হজযাত্রীর সংশ্লিষ্ট নথি গায়েব করে দেয়া হয়, যাতে ঘটনা প্রমাণ করা না যায়।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুল জলিল বলেন, গত বছর হজের শেষ দিকে পাঁচ হাজার হজযাত্রী পাঠানোর জন্য ৩৩ কোটি টাকা দেয় সরকার। ওই টাকা এজেন্সিগুলো সাময়িক ঋণ হিসেবে নিলেও এখনো তা ফেরত দেয়নি। কোন এজেন্সির কাছে কত টাকা পাওনা, তা জানার জন্য সংশ্লিষ্ট ফাইলটি খুঁজতে গিয়ে তা পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় ফাইলটি স্থানান্তর বা সংরক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এরই মধ্যে শোকজ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, তিন কর্মকর্তা শোকজের জবাবে বলেছেন, সাবেক সচিব বাবুল হাসানের দপ্তরে ছিল ফাইলটি। সচিব আগে থেকেই গুরুত্ব অনুসারে বিভিন্ন ফাইল তার ড্রয়ারে তালাবদ্ধ করে রাখতেন। সচিবের দপ্তরে সাবেক উপসচিব (হজ) নাসির উদ্দিনের অবাধ যাতায়াত ছিল। তিনিও এই ফাইল সম্পর্কে জানতেন।

কর্মকর্তারা জানান, গত বছর হজের সময় ধর্মসচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকা বাবুল হাসান গত ৩১ জানুয়ারি যোগ দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। ওই দিন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন আবদুল জলিল।

শোকজের জবাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের একান্ত সচিব (পিএস) আবদুল খালেক লিখেছেন, হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নথিটি সচিবের দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবছার হোসেন গত ১৯ জানুয়ারি অতিরিক্ত সচিবের (প্রশাসন) দপ্তরের গতিবিধি রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষরান্তে গ্রহণ করেন। একই তারিখে নথিটি সচিবের (চৌধুরী বাবুল হাসান) অনুমোদনের জন্য তার একান্ত সচিবের টেবিলে দেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও সচিব নথিটিতে স্বাক্ষর করেননি।

আবদুল খালেক  আরো উল্লেখ করেন, ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন ধর্মসচিব তার শেষ কর্মদিবসে চলমান প্রায় ৯০টি নথিতে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু হজ শাখার ২০১৫ সালের হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নথিটিতে স্বাক্ষর করেননি। আবদুল খালেক আরো বলেছেন, অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি সচিব তার ড্রয়ারে তালাবদ্ধ করে রাখতেন। সচিব শেষ কর্মদিবসে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে যাওয়ার সময়ও হজ ব্যবস্থাপনার নথিটি তার  (আবদুল খালেক) বা তাদের কারো কাছে দিয়ে যাননি।

আবদুল খালেক আরো বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে সাবেক ধর্মসচিব চৌধুরী বাবুল হাসান ভারপ্রাপ্ত ধর্মসচিবের কক্ষে ঢোকেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত ধর্মসচিব সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ছিলেন। সাবেক সচিব কক্ষে ঢুকে তার কাছে থাকা চাবি দিয়ে ড্রয়ার খুলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য সারসংক্ষেপের কভারে পেঁচানো এক বা একাধিক নথি বের করে নিজ হাতে নিয়ে গেছেন। তখন আবদুল খালেকসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও কেউ ভয়ে সাবেক সচিবকে কিছু জিজ্ঞেস করেননি। সচিবও বলেননি তিনি কী নিয়ে যাচ্ছেন।

শোকজ নোটিশ পাওয়া অন্য দুই কর্মকর্তাও প্রায় একই রকম জবাব দিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সহকারী প্রোগ্রামার ইমামুল হক এক জায়গায় লিখেছেন, সাবেক সচিব যখন ভারপ্রাপ্ত সচিবের অনুপস্থিতিতে ড্রয়ার খুলে নথি নিয়ে যান, তখন তাদের মনে হয়েছিল, অতি গুরুত্বপূর্ণ নথি না হলে তিনি (সাবেক সচিব) নিজে এসে নথি নিতেন না।

জানা যায়, ধর্ম মন্ত্রণালয় এজেন্সিগুলোর কাছে টাকা ফেরত চেয়ে দুই দফা পত্র দিলেও হাব দুই কিস্তিতে মাত্র ১৬ কোটি টাকা ফেরত দেয়। বাকি ১৪ কোটি টাকার কোনো খোঁজ নেই। ওই ১৪ কোটি টাকা ফেরত না দিয়ে এজেন্সিগুলোর মোয়াল্লেম ফির জন্য সরকারি ফান্ডের যে অ্যাকাউন্টে টাকা রাখা আছে, সেখান থেকে সমন্বয় করার কথা বলে হাব। তবে এতে সাড়া না দিয়ে মন্ত্রণালয় টাকা আদায়ের পদক্ষেপ নিলে তখনই জড়িতরা ফাইলটি গায়েব করে ফেলে।

হাবের সাবেক সভাপতি মো. জামালউদ্দিন সম্প্রতি মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে জানিয়েছেন, ওই পাঁচ হাজার হজযাত্রীর কাছ থেকে হাব আড়াই লাখ করে টাকা নিলেও খরচ হয়েছে জনপ্রতি এক লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এ হিসাবে হাবের কাছে এখনো ওই ক্ষতিগ্রস্ত হাজিদের আরো প্রায় ২৮ কোটি টাকা জমা আছে। হাব সেই টাকাও দিচ্ছে না।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে