Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০৬-২০১৬

মীর কাসেমের আপিল পুনঃশুনানির দাবি

মীর কাসেমের আপিল পুনঃশুনানির দাবি

ঢাকা, ০৬ মার্চ- মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর আপিল বিষয়ে তীব্র সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। খাদ্যমন্ত্রী এই মামলার পুনঃশুনানি দাবি করে তাতে প্রধান বিচারপতি এবং রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেন।

গতকাল শনিবার ধানমন্ডির বিলিয়া মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের বিচারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র: সরকার, বিচার বিভাগ ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় দুই মন্ত্রী এই দাবি জানান। ৮ মার্চ মীর কাসেম আলীর আপিলের রায় হবে। এ রায় দেওয়ার দুই দিন আগে এই দাবি জানানো হলো।

এই মামলার আপিলের শুনানিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দলের কাজ নিয়ে প্রধান বিচারপতির অসন্তোষ ও মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, অ্যাটর্নি জেনারেলও একই সুরে কথা বলছেন। গতকালের আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক প্রধান বিচারপতির মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।

ওই গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে বক্তারা আরও যেসব মন্তব্য করেছেন, তা আদালত অবমাননাকর বিবেচনায় প্রকাশ করা হলো না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রধান বিচারপতি এ মুহূর্তে দেশের বাইরে আছেন। তাঁর সঙ্গে পরামর্শ না করে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতি বর্তমানে নেপালে রয়েছেন এবং সোমবার তিনি দেশে ফিরবেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিচারাধীন মামলা বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রফিক-উল হকও।

যোগাযোগ করা হলে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, মন্ত্রীদের দাবির সপক্ষে আদৌ কোনো তথ্য-প্রমাণ আছে কি না, সেটা জানা নেই। যেকোনো মামলার বিচারকাজে ভুলত্রুটি থাকতে পারে। সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ইত্যাদি দেখে যদি আদালত মনে করেন, মামলা ত্রুটিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়েছে, সঠিক তথ্য উঠে আসেনি, সে ক্ষেত্রে আদালতই নতুন করে মামলাটি শুনানির জন্য পাঠাতে পারেন। এ জন্য কারও দাবির প্রয়োজন হয় না।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে দুজন মন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এতে প্রমাণ হয়, সরকার যেকোনো পন্থায়, এমনকি বিচারকদের হুমকি দিয়ে হলেও আসামিকে সাজা দিতে চায়। তিনি মনে করেন, দুই মন্ত্রীর বক্তব্য বিচার বিভাগকে হেয় ও অবমাননা করে। সর্বোচ্চ আদালতের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিচার বিভাগকে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

মীর কাসেম আলীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব আরও বলেন, বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে তাঁদের দাবি বিচার বিভাগের প্রতি অনাস্থার শামিল।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের পরিচালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরও অংশ নেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুল হুদা, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সহসভাপতি কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী, সংবাদ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, জনকণ্ঠ-এর নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল-মালুম ও তুরিন আফরোজ। সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্য পাঠ করে শোনান তাঁর মেয়ে নাদিয়া চৌধুরী।

উল্লেখ্য, গতকালের আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। তাই এ দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করে বলেন, যুদ্ধাপরাধীরা ভোট দিতে পারবেন না। তাঁরা নির্বাচনেও অংশ নিতে পারবেন না।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে