Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০৫-২০১৬

টিকিটের জন্য হাহাকার

তারেক মাহমুদ


টিকিটের জন্য হাহাকার

ঢাকা, ০৫ মার্চ- মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ২৫ হাজারের মতো। কিন্তু কালকের এশিয়া কাপ ফাইনালের জন্য ২৫ লাখ টিকিট ছাড়লেও বোধ হয় যথেষ্ট হতো না। সবারই ইচ্ছা মাঠে এসে খেলা দেখার। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ করার সাধ্য বিসিবিরও নেই।

এবারের এশিয়া কাপজুড়েই টিকিটের জন্য হাহাকার চলছে। বাংলাদেশ দলের ম্যাচে গ্যালারিতে থাকছে উপচে পড়া দর্শক। স্টেডিয়ামের বাইরে যে পরিমাণ দর্শক হতাশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাঁদের দিয়েও ছোটখাটো একটা স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরিয়ে ফেলা যায়। বাংলাদেশ-ভারত ফাইনালে সংখ্যাটা বাড়বে স্বাভাবিক। বাড়বে টিকিট না পাওয়ার হাহাকারও।

এশিয়া কাপের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে আছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। অনেক দর্শকের অভিযোগ, আগের ম্যাচগুলোতে ব্যাংকে গিয়ে টিকিট পাওয়া যায়নি। সব টিকিট নাকি আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। অভিযোগের আঙুল বিসিবি ও ব্যাংকের দিকেই। কেউ বলছেন বিসিবি ইচ্ছে করে কম টিকিট দিচ্ছে, কারও অভিযোগ ব্যাংকের লোকজনই সাধারণ দর্শকদের কাছে কম টিকিট বিক্রি করে বেশিটা নিজেরা রেখে দিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই বলে ‘এত টিকিট কোথায় যাচ্ছে’ প্রশ্নটা থাকছেই।

মানুষের তবু আশায় বসতি। ইউক্যাশের মাধ্যমে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের পাঁচটি শাখা থেকে টিকিট সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও দর্শক সশরীরে টিকিট কিনতে পারছেন শুধু মিরপুর ১১ নম্বর শাখা থেকে। ফাইনালের টিকিটের জন্য কাল বিকেল থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে গেছে দর্শকদের দীর্ঘ সারি। আজ সকালে টিকিট বিক্রি শুরু হতেই যদি কাঙ্ক্ষিত টিকিটটি হাতে পাওয়া যায়! তবে তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ হলো, ইউক্যাশ ও সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে বিক্রি হবে গ্যালারির ধারণক্ষমতার ৩০ শতাংশেরও কম টিকিট। তার মানে অধিকাংশ মানুষকেই ফিরতে হবে খালি হাতে। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের হেড অব করপোরেট জাভেদ ইকবালও কাল রাতে মুঠোফোনে সে রকমই আভাস দিলেন, ‘বিসিবির কাছ থেকে বিক্রির জন্য আমরা যে পরিমাণ টিকিট পেয়েছি, তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। সবার টিকিট পাওয়ার নিশ্চয়তা তাই দেওয়া যাচ্ছে না।’ ব্যাংক কর্মকর্তাদের নিজেদের টিকিট রেখে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, ‘অভিযোগটি একেবারেই ঠিক নয়। আমাদের ওপর ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কড়া নির্দেশ আছে আমরা যেন নিজেদের জন্য কোনো টিকিট না রাখি। আমরা শতভাগ স্বচ্ছতার মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করছি।’ টিকিটের অপ্রতুলতার কারণেই অনেকে ব্যাংকে এসে টিকিট পাচ্ছেন না বলে তাঁর দাবি।

বিস্ময়কর হলেও সত্যি, টিকিটের জন্য হাহাকার জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও। দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হলে প্রতি ম্যাচেই চার-পাঁচটি করে সৌজন্য টিকিট পান খেলোয়াড়েরা। এর বাইরেও চাইলে বিসিবির কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে টিকিট কিনে নিতে পারেন তাঁরা। মুশফিকুর রহিম যেমন প্রতি ম্যাচেই ২৫-৩০টি টিকিট কিনে থাকেন। কিন্তু ফাইনালের জন্য আরও বেশি টিকিটের চাহিদা দিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় এই ব্যাটসম্যান, ‘ফাইনালে আমার অন্তত ৫০-৬০টি টিকিট দরকার। সে রকমই চেয়েছি। কিন্তু যে অবস্থা, পাব বলে মনে হয় না।’

নড়াইল থেকে বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজন না এলে বাড়তি টিকিট কেনেন না মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু দল এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠায় অধিনায়কও এখন চাপে। কালকের ম্যাচের জন্য তাঁর ২০-২৫টি টিকিট দরকার, ‘ফাইনাল বলে একটু বেশি টিকিট চেয়েছি। কিন্তু পাব কি না কে জানে! কোথাও নাকি টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।’ মিরপুরের ইনডোরে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময়ই মুঠোফোনে পরিচিত কেউ টিকিট চাইলেন মাশরাফির কাছে। এ প্রান্ত থেকে ধমকে উঠলেন তিনি, ‘আমি ম্যাচ খেলব, আমিই মাঠে ঢুকতে পারব কি না জানি না। তুমি আমার কাছে টিকিট চাও!’

খেলোয়াড়দের টিকিটের চাহিদা বিসিবিতে যায় ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের মাধ্যমে। কিন্তু তিনিও এবার কোনো আশা দিতে পারছেন না, ‘আগের সব ম্যাচেই খেলোয়াড়দের চাহিদা অনুযায়ী টিকিট দিতে পেরেছি। কিন্তু ফাইনালের জন্য ওরা মোট ১ হাজার ৪০০ টিকিট চেয়েছে। এত টিকিট আমি কোথায় পাব?’

একই অবস্থা বিসিবির পরিচালকদেরও। বিসিবি থেকে তাঁদেরও টিকিট কেনার সুযোগ থাকলেও ফাইনালের আগে তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে নাকি এক পরিচালক ১০০টি টিকিট চেয়ে মাত্র ৩০টি টিকিট কিনতে পেরেছিলেন। ফাইনালের জন্য আরও বেশি চাহিদা দিলেও কাল রাত পর্যন্ত সংশয়ে ছিলেন আদৌ টিকিট পাবেন কি না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক পরিচালক টিকিটের অনুরোধ পেতে পেতে অস্থির, ‘যাদের সঙ্গে বহু বছর ধরে যোগাযোগ নেই, যারা কোনো দিন ক্রিকেটের ধারেকাছে দিয়েও যায়নি, তারাও ফোন করে টিকিট চাচ্ছে। কাউকেই দিতে পারছি না। এ রকম বিব্রতকর অবস্থায় কখনো পড়িনি।’

বড় ম্যাচে টিকিটের চাপ সারা বিশ্বেই থাকে। তবে ২০১১ বিশ্বকাপের সময় থেকে বাংলাদেশে এই হাহাকার কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কারণটা এর আগে বিসিবির কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন। মোট টিকিটের প্রায় ৪০ শতাংশ ‘সৌজন্য টিকিট’ হিসেবে চলে যায় সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতা সংস্থার ‘সেবা’য়। এবার সংখ্যাটা দ্বিগুণের কাছাকাছি বলে জানিয়েছে বোর্ড সূত্র। ফাইনালের টিকিট সে কারণেই চলে গেছে সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে।

এসব ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারতেন বিসিবির টিকিট ও সিটিং কমিটির প্রধান ইসমাইল হায়দার মল্লিক। কিন্তু কাল সারা দিনই তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। পদের কারণেই টিকিটের আবদার সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে তো তাঁর কাছেই! ফোন ধরেননি বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরীও।

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে