Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০৫-২০১৬

আবার সেই হারবিন!

আরিফুজ্জামান তুহিন


আবার সেই হারবিন!

ঢাকা, ০৫ মার্চ- কাজ পাওয়ার জন্য গত বিএনপি সরকারের সময় একটি বিদেশি কম্পানি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কিছু কর্মকর্তাকে বড় অঙ্কের ঘুষ দিয়েছিল। টঙ্গীতে ৮০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পেতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকেও ২০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

এ-সংক্রান্ত মামলায় মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ৪০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। ঘুষের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সিটি ব্যাংক এনএ’র সিঙ্গাপুর শাখায় জমা করেছিলেন মামুন। ঘুষদাতা প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে চীনের হারবিন ইলেকট্রিক। তবে মামুনের জেল-জরিমানা হলেও পিডিবির কর্মকর্তাদের কিছু হয়নি।

ইস্টার্ন রিফাইনারির তিন মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যর্থ হওয়ায় হারবিনকে ওই সময় কালো তালিকাভুক্তও করেছিল সরকার। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে হারবিনই ঘুষ দেওয়ার রীতি চালু করে।

গত বিএনপি আমলে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। একটি টঙ্গীতে ৮০ মেগাওয়াটের, অন্যটি ফেঞ্চুগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াটের। দুটির কাজই পায় হারবিন ইলেকট্রিক। দরপত্রে ভুল তথ্য দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হয় প্রতিষ্ঠানটি। কাজ পাওয়ার দুই বছর পরও ফেঞ্চুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারেনি হারবিন। ফলে সরকার বেকায়দায় পড়ে। নতুন করে আর দরপত্র আহ্বান করেনি সরকার। আবার সেই হারবিনের অশুভ ছায়া পড়েছে পিডিবিতে।

জানা গেছে, খুলনায় ২০০-৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বৈত জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিলেটের শাহজীবাজারে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ হারবিন ইলেকট্রিককে পাইয়ে দিতে মরিয়া পিডিবির কিছু কর্মকর্তা।

খুলনার কেন্দ্রটির জন্য দরপত্রে অংশ নেওয়া অন্য কম্পানিগুলোর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে পিডিবির মূল্যায়ন কমিটি। এর সুবিধা পেয়েছে হারবিনের কনসোর্টিয়াম। হারবিনের জন্যই এমন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

আর শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্রে এমন শর্ত রাখা হয়েছে যাতে হারবিন ছাড়া অন্য কেউ অংশ নিতে না পারে।

খুলনা ২০০-৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র বিজয়ীকে গত বছরের ২৪ আগস্ট প্রত্যয়নপত্রও দেন পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খোন্দকার মাকসুদুল হাসান। সম্প্রতি তিনি অবসরে গেছেন।

সূত্র জানায়, পিডিবির ১৬৩২তম বোর্ডসভায় হারবিন-জিয়াংসুকে দরপত্র বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বাকি রয়েছে অর্থনীতি বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ওঠায় বিদ্যুৎ বিভাগ ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে। এখনো প্রস্তাব ওই কমিটিতে তোলেনি তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বলেন, ‘হারবিন-জিয়াংসুকে কাজ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব অর্থনীতি বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে ওঠানোর সিদ্ধান্ত এ মুহূর্তে নেই। অন্তত আমার জানা নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখছি। কোনো ত্রুটি থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।’

হারবিনকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে পিডিবির কিছু কর্মকর্তার অবৈধ সুযোগ নেওয়ার অভিযোগ জানানো হয় খোদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে। কম্পানিটির অনুকূলে তাদের অনৈতিক তৎপরতার কথা জ্বালানি উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও বিদ্যুৎসচিবকেও জানানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, হারবিনের ঘুষের বিষয়টি খুব আলোচিত হওয়ায় বিএনপি সরকার বড় ধরনের সংকটে পড়েছিল। সেই হারবিন আবার পিডিবির ঘাড়ে ভর করেছে। হারবিনের পেছনে ‘ফ’ আদ্যক্ষরের একজন দেশি এজেন্ট আছেন। তাঁর কোনো অফিস নেই। দুই হাতে টাকা ছড়াচ্ছেন তিনি। হারবিনের জন্য এই সরকারও বিপদে পড়বে বলে তাঁর আশঙ্কা।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে পিডিবি খুলনায় ২০০-৩০০ মেগাওয়াটের একটি দ্বৈত জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। ২৭টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও চূড়ান্তভাবে মাত্র সাতটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে, এসবের ছয়টি যৌথ দরপ্রস্তাব। যৌথ দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল পাওয়ার চায়না হুবেই ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন, হংইয়াং পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও বাংলাদেশের এনার্জিপ্যাক; চীনের হারবিন ইলেকট্রিক ও জিয়াংসু ইটার্ন কম্পানি লিমিটেড; চীনের সাংহাই ইলেকট্রিক গ্রুপ ও ইতালির এনসলারাদো; চীনের সিএনটিআইসি ও সিসিওইসি; চীনের দংফেং ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল ও গ্রিসের জেএন্ডপি অ্যাভাক্স এবং চীনের জিইডিআই ও সুইজারল্যান্ডের আলস্টম। একক দরপ্রস্তাবটি ছিল চীনের জিপিইসির।

সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল সাংহাই-এনসলারাদো; তারা ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার দর উল্লেখ করেছিল। আর সর্বোচ্চ দরদাতা ছিল হারবিন-জিয়াংসু; তারা ২৯ কোটি ২০ লাখ ডলার দর উল্লেখ করেছিল। এনার্জিপ্যাক ও চীনের হুবেই ইলেকট্রিকের দরপ্রস্তাব ছিল ২২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের।

জানা গেছে, দরপত্রের শর্তে বলা হয়েছিল, ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উপযোগী প্রস্তাব দিতে হবে। কেউ ৩০০ মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতার কেন্দ্র নির্মাণের উপযোগী প্রস্তাব দিলেও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ৩০০ মেগাওয়াটের প্রস্তাব হিসেবেই ধরা হবে, অতিরিক্ত ক্ষমতাকে মূল্যায়ন করা হবে না। ছয়টি দরপ্রস্তাব এ শর্ত অনুযায়ী করা হয়। হারবিন ৩৫৭ মেগাওয়াটের কেন্দ্র নির্মাণের উপযোগী প্রস্তাব দেয়। পিডিবির দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি অতিরিক্ত ক্ষমতাকে মূল্যায়ন করে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করে।

দরপত্র মূল্যায়নে পিডিবির কারসাজি : হারবিনকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি অন্য কম্পানিগুলোর দরপ্রস্তাবের ভুল ব্যাখ্যা করেছে। কোথাও তথ্যের বিকৃতিও ঘটিয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন করা হয় মূলত পয়েন্টের ভিত্তিতে। প্রস্তাব বিভিন্ন অংশে ভাগ করে পয়েন্ট দেওয়া হয়। যে দরদাতা সর্বাধিক পয়েন্ট পান তাঁকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অন্যান্য কম্পানির দরপ্রস্তাবের বেশকিছু বিষয়ের ভুল ব্যাখ্যা করে তাদের কম পয়েন্ট দিয়েছে মূল্যায়ন কমিটি, আর বেশি দিয়েছে হারবিনকে।

এনার্জিপ্যাক ও হুবেই ইলেকট্রিকের যৌথ দরপ্রস্তাবে চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে ৩ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে কেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়। এতে কেন্দ্র নির্মাণে খরচ হওয়ার কথা ৫৮৭ কোটি টাকা। কিন্তু পিডিবির কর্মকর্তারা ওই প্রস্তাবের সুদের হার দেখায় ৩.২ শতাংশ। এতে কেন্দ্র নির্মাণের খরচ আরো ৭ কোটি টাকা বেড়ে যায়। ফলে তাদের পয়েন্ট কমে যায়। ডিসকাউন্ট হারেও কারসাজি করেছে পিডিবি। প্রতিষ্ঠান দুটি বছরে ১২ শতাংশ হারে ডিসকাউন্ট করার প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রতিবছর দুই কিস্তিতে ১৫ বছরে মোট ৩০টি কিস্তির মাধ্যমে কেন্দ্র নির্মাণের অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছিল তারা। কিন্তু প্রথম বছরের ১২ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেখানো হলেও পরের ১৪ বছরে ডিসকাউন্ট দেখানো হয়নি মূল্যায়নপত্রে। এতেও পয়েন্ট কমেছে তাদের।

দরপ্রস্তাব মূল্যায়নে সবচেয়ে বড় জালিয়াতি করা হয়েছে হিট রেট নিয়ে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে যত বেশি হিট রেট হবে তত বেশি জ্বালানির প্রয়োজন হবে। উল্লেখ্য, একই জেনারেটরকে বেশি লোডে চালালে জ্বালানি খরচ কমে যায়। আর কম লোডে চালালে জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। হিট রেটের হিসাব এর নিরিখেই করা হয়। হিট রেট বেশি হলে জ্বালানি খরচও বেশি হয়।

দরপত্রে বলে দেওয়া হয়েছিল, ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উপযোগী প্রস্তাব দিতে হবে। কেউ বেশি ক্ষমতার কথা উল্লেখ করলেও অতিরিক্ত ক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হবে না। ছয়টি প্রস্তাব নিয়ম অনুযায়ীই করা হয়। হারবিনের প্রস্তাবে গ্যাসভিত্তিক ৩৫৭ আর ডিজেলভিত্তিক ৩৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়। ৩৫৭ মেগাওয়াট দেখানোয় হিট রেট দাঁড়ায় ৬৩৮২ জুলে। অথচ ৩০০ মেগাওয়াট দেখালে তাদের হিট রেট হতো ৭৭৮৪ জুল। অন্য ছয় প্রস্তাবে হিট রেট ছিল ৬৩৮২ জুল। হারবিনের ৩৫৭ মেগাওয়াট বিবেচনায় নেওয়ায় তাদের হিট রেটও দাঁড়ায় ৬৩৮২ জুলে। ফলে তাদের পয়েন্ট বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে এনার্জিপ্যাকের পরিচালক রেজানুল কবির বলেন, ‘আমাদের দরপ্রস্তাবের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। কার্যত ভুল মূল্যায়নের শিকার হয়েছে। আমরা যা বলিনি, যে প্রস্তাব দিইনি তাও আমাদের ওপর চাপানো হয়েছে। এতে আমাদের পয়েন্ট কমে গেছে। যথাযথ মূল্যায়ন হলে আমরা বিজয়ী হতাম।’

নাম প্রকাশ না করে পিডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘পিডিবির কিছু কর্মকর্তা হারবিনকে কাজ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অন্যান্য কম্পানির দরপ্রস্তাবের বিকৃত ব্যাখ্যা করেছেন তাঁরা।’

অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে নালিশ : হারবিনকে অনৈতিক সুযোগ দেওয়ায় দরপত্রে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও বিদ্যুৎসচিবের কাছে আলাদাভাবে লিখিত নালিশ জানিয়েছে।

গ্রিসের কম্পানি জেঅ্যান্ডপি অ্যাভাক্সের জ্বালানি পরিচালক থিওদোরোস আর্সেনিউ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা এক চিঠিতে বলেন, হারবিন-জিয়াংসু কনসোর্টিয়ামকে পিডিবি অনৈতিক সুবিধা দিয়েছে। তিনি দরপত্র মূল্যায়ন দ্রুত বাতিলের অনুরোধ জানান। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অভিযোগের বিষয়ে পিডিবির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার মাকসুদুল হাসানের কাছে জানতে চাওয়া হয়। পিডিবি চেয়ারম্যান জবাবে বলেন, ‘হারবিন-জিয়াংসু মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন দরদাতা বিবেচিত হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

গত বছরের ২৩ আগস্ট বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে পরিচয় গোপন রেখে একটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, হারবিন-জিয়াংসু কম হিট রেট দেখিয়ে যে দরপ্রস্তাব দিয়েছে দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী তার মূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। কেন্দ্র নির্মাণের কাজ তারা পেলে সরকারের ৫০০ কোটি টাকা লোকসান হবে।

গত বছরের ২৬ আগস্ট বিদ্যুৎসচিবকে দেওয়া আরেকটি অভিযোগপত্রে বলা হয়, পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ (বর্তমানে সদস্য, উৎপাদন) এবং একজন পরিচালক ও একজন নকশাবিদ হারবিন-জিয়াংসুকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে কাজ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

শাহজীবাজারেও হারবিন : গত জানুয়ারিতে পিডিবি সিলেটের শাহজীবাজারে ১০০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এতে অদ্ভুত শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। সেটি হলো—বিদ্যুৎকেন্দ্রটির টারবাইনের ক্ষমতা হতে হবে ১০০ মেগাওয়াট। এমন ক্ষমতার টারবাইন শুধু যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জেনারেল ইলেকট্রিক কম্পানি (সংক্ষেপে জিই) তৈরি করে। বাংলাদেশে জিই ১০০ মেগাওয়াটের গ্যাস-টারবাইন শুধু হারবিনের কাছে বিক্রি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কারণে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিতে পারবে না। ফলে কাজটি হারবিনই পাবে যদি পিডিবি সিদ্ধান্ত না বদলায়।

এ বিষয়ে জানতে পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. শামসুল হাসান মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে