Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০৪-২০১৬

খুলনায় চিকিৎসকদের ধর্মঘট, রোগীর ভোগান্তি

খুলনায় চিকিৎসকদের ধর্মঘট, রোগীর ভোগান্তি

খুলনা, ০৪ মার্চ- খুলনার তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তাকে মারধরের প্রতিবাদে এবং এ ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতাসহ জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন চিকিৎসকেরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে জেলার সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে টানা ২৪ ঘণ্টার এ ধর্মঘট পালন শুরু হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। 

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখা, প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাক্টিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমপিএ) ও প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিসিডিওএ) একযোগে এ ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করে। 

আজ নগরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে টিকিট কাউন্টারসহ চিকিৎসকদের কক্ষও। এতে রোগীরা এসে ফিরে যাচ্ছেন। আর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকলেও রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে। 
দুপুর ১২টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, বিভাগটি একেবারে ফাঁকা। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও আবাসিক সার্জনের কক্ষসহ সব চিকিৎসকের কক্ষ বন্ধ। এ বিভাগে কর্তব্যরত কয়েকজন কর্মচারী বলেন, আজ কোনো চিকিৎসক আসেননি। সব শাখা বন্ধ থাকায় রোগীরা এসে ফিরে গেছেন। 

এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চোখের চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা শীলা রানি। তিনি বলেন, ‘আজ চিকিৎসকদের ধর্মঘট তা জানতাম না। ডাক্তার নেই তাই চলে যেতে হচ্ছে।’ 

তবে এ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। এখানে কয়েকজন চিকিৎসকও আছেন। জানতে চাইলে এ বিভাগে কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার ফারুক বলেন, জরুরি কোনো রোগী এলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

হাসপাতালের অন্তবিভাগে (ইনডোর) গিয়ে কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকে কোনো চিকিৎসক রোগী দেখতে আসেননি। তবে সেখানে কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছিলেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, অনেক রোগীর ওষুধ বদল বা কোনো উন্নত টেস্ট (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) করা প্রয়োজন। কিন্তু চিকিৎসকেরা না থাকায় তাঁরা এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না। রোগীদের সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

রোগীদের একই ধরনের দুর্ভোগ দেখা গেছে খুলনা সদর (জেনারেল) হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালেও। জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎ​সা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, সকাল থেকে চিকিৎসকেরা এসেছেন। কিন্তু তাঁরা কোনো চিকিৎসা সেবা দেননি। তবে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 
এ ব্যাপারে খুলনার সিভিল সার্জন রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। তবে আমি ধর্মঘটের পক্ষপাতী নই। ধর্মঘট হলে গরিব রোগীরাই বেশি দুর্ভোগের শিকার হন।’ 

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) খুলনা জেলা শাখার সভাপতি শেখ বাহারুল আলম বলেন, তেরখাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত অবস্থায় চিকিৎসককে মারধরে জড়িতরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে চিকিৎসকেরা ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট করছেন। চিকিৎসকদের ধর্মঘট মানেই রোগীদের ভোগান্তি। কিন্তু সেই রোগীদের যাঁরা নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, সেই সব চিকিৎসকদের যারা মারধর করছে সেসব মানুষের কোনো বিচার হচ্ছে না। কাল শুক্রবারের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে বিএমএ খুলনা জেলা শাখা আরও বড় কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেরখাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত অবস্থায় চিকিৎ​সা কর্মকর্তা শেখ আবদুল্লাহ আল মামুনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এসএম অহিদুজ্জামানসহ কয়েকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আবদুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে অহিদুজ্জামানসহ পাঁচজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। 

তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান খান বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে আসামি কারাগারে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার আসামি অহিদুজ্জামান পলাতক বলে জানান ওসি।

খুলনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে