Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০৩-২০১৬

সাধ্যের বাইরে গ্যাস দিতে বাধ্য পেট্রোবাংলা

হাসনাইন ইমতিয়াজ


সাধ্যের বাইরে গ্যাস দিতে বাধ্য পেট্রোবাংলা

ঢাকা, ০৩ মার্চ- গ্যাস স্বল্পতায় দিনে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতির উন্নয়নে সার কারখানা বন্ধ রেখে বিদ্যুতে বেশি গ্যাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যেই পেট্রোবাংলার আপত্তি সত্ত্বেও আরো গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এমনকি গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখন চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহে রাজি হতে পেট্রোবাংলাকে বাধ্য করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জে ৩৬৭ মেগাওয়াটের একটি দ্বৈত জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ভারতের ল্যানকো ইনফ্রটেক কোম্পানিকে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। কিন্তু কোম্পানিটি সময় মতো নিরাপত্তা জামানত জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর এ চুক্তি বাতিল করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপর একই স্থানে ৪১৪ মেগাওয়াটের একটি কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যৌথভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠান নর্থয়েস্টপাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজোকো) ও সিঙ্গাপুরের সিম্বকর্প ইউটিলিটস পিটিই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

ল্যানকোর সঙ্গে চুক্তি সময় প্রস্তাবিত কেন্দ্রের ক্ষমতা ধরা হয়েছিল ৩৬৭ মেগাওয়াট, এজন্য গ্যাসের চহিদা নির্ধারণ করা হয় দৈনিক ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস। প্রকল্পের নির্মাতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন ক্ষমতাও বাড়িয়ে ৪১৪ মেগাওয়াট করা হয়, যার জন্য গ্যাসের চাহিদা ধরা হয় দৈনিক ৭৩ এমএমসিএফ। বাড়তি গ্যাস বরাদ্দে বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের মাধ্যমে পেট্রোবাংলাকে অনুরোধ করা জন্য গত বছরের ১৭ নভেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেয় নওপাজোকো। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৩ নভেম্বর ‍বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জ্বালানি বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়।

পেট্রোবাংলা গত ১১ জানুয়ারি এক পত্রের মাধ্যমে এ বিষয়ে নেতিবাচক মতামত দেয়। গ্যাস সরবারহের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিরাজমান প্রেক্ষাপটে পূর্বপ্রতিশ্রুত দৈনিক ৫৫ এমএমসিএফ গ্যাসের অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের নতুন প্রতিশ্রুতি প্রদান করা যথাযথ হবে না।

পেট্রোবাংলার নেতিবাচক জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে একটি সভা করে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম. জ্বালানি সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমেদসহ ঊর্ধবতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, ‘তাদের অবহিত না করে গ্যাস ভিত্তিক কেন্দ্রের প্রকল্প গ্রহণ সঠিক হয়নি।’ এ সময় বিদ্যুৎ সচিব বলেন, ‘এ প্রকল্পের বিষয়ে পেট্রোবাংলাকে যে করেই হোক রাজি হতে হবে। ভবিষ্যতে অন্য প্রকল্পের বিষয়ে আগেই পেট্রোবাংলার অনুমোদন নেয়া হবে।’

এভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে পেট্রোবাংলা অতিরিক্ত গ্যাস দিতে রাজি হয়। উল্লেখ্য, পেট্রোবাংলাকে না জানিয়ে গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের এমন অভিযোগ পুরনো। পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর এ বিষয়ে অনেকবার বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর তথ্য মতে, সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র রয়েছে ৫৫ টি, যাদের উৎপাদন ক্ষমতা ৭ হাজার ১৫৯ মেগাওয়াট। এরমধ্যে সরকারি খাতের ২২ কেন্দ্রে উৎপাদন ক্ষমতা ৪ হাজার ৪৩৭ মেগাওয়াট। আর বেসরাকরি খাতের ৩৩ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৭৩২ মেগাওয়াট।

বিদ্যুতের জন্য দিনে ১ হাজার ৫৪২ এমএমসিএফএফ গ্যাস লাগে। এর মধ্যে সরকারি কেন্দ্রের জন্য গ্যাস প্রয়োজন ৯৬৮ এমএমসিএফডি গ্যাস। আর বেসরকারি কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজন ৫৭৪ এমএমসিএফডি গ্যাস।

দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে ১ মার্চ দেয়া হয় ৯০৬ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ দিনে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে, যা তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এর মধ্যে গ্যাস স্বল্পতায় ভুগছে এমন ১৯টি সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার  ৮৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়নি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে