Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০৩-২০১৬

চাঁদে সাঈদীর মুখ: গুজব-সহিংসতার তিন বছর

চাঁদে সাঈদীর মুখ: গুজব-সহিংসতার তিন বছর

বগুড়া, ০৩ মার্চ- মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুখ চাঁদে দেখার গুজব ছড়িয়ে বগুড়ায় চালানো তাণ্ডবের তৃতীয় বার্ষিকী আজ (৩ মার্চ)। ২০১৩ সালের এদিনে এ গুজব ছড়িয়ে ব্যাপক সহিংসতা চালায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা।

এদিন ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে হাজার-হাজার নারী পুরুষ লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। সকাল থেকে তারা হামলা চালায় থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, সরকারি-বেসরকারি অফিস ছাড়াও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি ঘর এবং মুক্তিযোদ্ধা অফিসে।

সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে মধ্যরাত থেকেই এমন গুজব চারদিকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর ৩ মার্চে ভোরের আলো ফোটার আগেই জামায়াত-শিবিরের হাজার-হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নেমে আসে রাস্তায়। পরিকল্পিতভাবে পাড়া মহল্লা থেকেও সাঈদী ভক্তদের নামানো হয় রাস্তায়। শুরু হয় সাঈদীর মুক্তির দাবিতে মিছিল। লাঠিসোটা হাতে মিছিলে নামানো হয় নারী এবং শিশুদেরও। সবগুলো মিছিলই অগ্রসর হতে থাকে শহরের দিকে। এরপর শুরু হয় তাণ্ডব।

জেলার শাজাহানপুর, নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া, শেরপুর উপজেলা সদর এবং শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। বগুড়া শহরের তিনটি পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া ছাড়াও বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিনে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় ১৭টি দপ্তরের সবকিছু। শাজাহানপুরে থানা ঘেরাও করে সেখানে আটকে পড়া পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা হামলা চালানো চেষ্টা করা হয়। আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। এতে মারা যায় নারীসহ ৬ জন। পরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে থানা রক্ষা করা হয়। এছাড়াও বগুড়া শহর এবং মোকামতলায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় আরো ৮ জন। ওই দিন সকাল ১০টার পর পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়াও আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আরো ১৯টিসহ সর্বমোট ৭৫টি মামলা করা হয়। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাড়াও আসামি করা হয় দেড় লক্ষাধিক মানুষকে।

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনসহ গ্রেপ্তার করা হয় ৮৪৩ জনকে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাড়ে চার হাজার নেতাকর্মীর নামে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে আজও এসব মামলার বিচার কাজ শুরু করা যায়নি।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতেই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিত ভাবে সেদিন ওই তাণ্ডবলীলা চালিয়েছিল। তবে পুলিশ সাহসীকতার সঙ্গে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এবং পরে অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করতে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

বগুড়া জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মতিন জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হলেও আইনি নানা জটিলতায় তাদের বিচার শুরু হয়নি এখনও। আসামিদের অনেকে পলাতক থাকায় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। তবে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সব চেষ্টা অব্যাহত আছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে