Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০৩-২০১৬

সুমাইয়ার মর্মস্পর্শী বর্ণনায় শহুরে মানুষের নির্দয়তা

সুমাইয়ার মর্মস্পর্শী বর্ণনায় শহুরে মানুষের নির্দয়তা

ঢাকা, ০৩ মার্চ- রাজধানীর উত্তরায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে তিন জনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চলছে তদন্ত। মারা গেছে গৃহকর্তা মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা প্রকৌশলী শাহীন শাহনেওয়াজ এবং দু’সন্তান ১৫ বছরের শার্লিন আর ১৬ মাস বয়সী জায়ান। ৯৫ শতাংশ দগ্ধ শরীর নিয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন শাহীনের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার।

সুমাইয়ার বড় ভাই নওশাদ জামান বোনের কথা রেকর্ড করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। এতে উঠে এসেছে সেই ঘটনার মর্মান্তিক বর্ণনা। তিনি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। কম দগ্ধ হওয়ায় চিকিৎসা নেয়ার পর এখন আত্মীয়ের বাসায় আছেন তাদের আরেক সন্তান জারিফ।

ওই অডিও পোস্টে স্বজনদের সঙ্গে আলাপকালে সুমাইয়া আক্তার বলছেন, ‘চিৎকার দিয়ে নামতেছি- আগুন লাগছে সাহায্য করেন। বাঁচান বাঁচান। গায়ে তো আগুন। তিন আর চার নম্বর ফ্লোর থেকে দরজা খুলছে। আমাদের দেখে দরজা বন্ধ করে দিছে। স্পষ্ট মনে আছে। সাত তলা থেকে নামছি। তিন তলার লোকেরা একটা তোষক দিয়ে যদি জড়ায়া ধরতো। একটা তোষক না হয় পুড়তো। আমার বাচ্চাগুলো তো বাঁচতো।’

ফেসবুকে প্রকাশিত অডিও লিংক

অডিওতে সুমাইয়া বলেন, তাদের বাসার চুলায় গ্যাসের পাওয়ার কম ছিল। ‘বাসায় উঠলাম সিলিন্ডার গ্যাস ছিল না। তিনদিন কিনে খেয়েছি খাবার। তারপর মিস্ত্রি এসে রাইজার বাড়িয়ে পাওয়ার ঠিক করে দিচ্ছে। তারপরও গ্যাস লিক করতো। গ্যাসের গন্ধ পাইছি। জানালা খোলা রাখতাম।’

তিনি জানান, গ্যাসের গন্ধ পেয়ে রাতেও তার স্বামী মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন। তারপরও গন্ধ নাকে আসায় তিনি বলেন, ‘মনে হয় উপরে ছাদ থেকে আসতেছে’।

‘চুলা অল্প জ্বালিয়ে চায়ের পানি দিছি। ওর আব্বু বললো ঘরে গ্যাসের গন্ধ আসছে, ফ্যানটা ছেড়ে দেই। ফ্যান ছেড়ে জানালা খুলে দেয়ার জন্যে। জায়ান ওর বাবার কোলে। যেই ফ্যানটা ছেড়ে দেবার পরে দাউ দাউ করে আগুন। সেকেন্ডের মধ্যে, এতো আগুন। আসলে ডাইনিং রুমটাই গ্যাস ভরা ছিল। শার্লিনের রুম ছিল রান্না ঘরের পাশেই। একটা জানালা সম্ভবত বন্ধ ছিল।’

‘আমি আর শার্লিনের আব্বু নামছি। আগুন জ্বলতেছে গায়ে। চিৎকার দিয়ে নামতেছি- আগুন লাগছে সাহায্য করেন। বাঁচান বাঁচান। তিন আর চার নম্বর ফ্লোর থেকে দরজা খুলছে। আমাদের দেখে দরজা বন্ধ করে দিছে। একটা তোষক দিয়ে যদি জড়ায়া ধরতো। একটা তোষক না হয় পুড়তো। আমার বাচ্চাগুলো তো বাঁচতো। কত মানুষ সব তাকায়া আছে। কেউ আগায় না ‘

‘পরে নিচে নেমে, কাপড় তো পুড়ে গেলো। নিচে ছিল ছালার চট। টাইনা গায়ে দিছি। কত মানুষ, সবাই তাকায়া আছে, কেউ আগায় না। বলছি আমি মহিলা একটা চাদর দেন। কেউ দেয় না। বিল্ডিং এর মহিলারা কেউ দেয় না... আল্লাহ মাফ করুক সবাইকে।’

‘পরে নিচে নেমে চিৎকার দিয়ে দারোয়ানকে বললাম আমার দু ছেলে উপরে আটকা পড়ছে, আপনারা তাড়াতাড়ি যান। তারা যেতে যেতে শার্লীন পুড়ে গেছে।’

‘শার্লিন পুড়েছে বেশি, গায়ে পা থকথক হয়ে গেছে। শার্লিন বলে, আমি তো বাঁচবো না আমাকে মাফ করে দিয়ো আম্মু। আমি বলি, বাবা তুই বাঁচিস, আমি মইরা যাই। মানুষ এরকম হয়। একি খারাপ না? কেউ কাউরে একটু সাহায্য করে না। এটা কি কথা?’

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে