Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০৩-২০১৬

বছর বছর পর্যটক হারাচ্ছে সুন্দরবন

উত্তম মণ্ডল


বছর বছর পর্যটক হারাচ্ছে সুন্দরবন

খুলনা, ০৩ মার্চ- কয়েক বছরের ব্যবধানে সুন্দরবনে পর্যটক কমেছে অর্ধেকের বেশি। দেশি পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকও কমছে ব্যাপক হারে। ফলে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা খুলনা অঞ্চলের পর্যটনশিল্প পড়েছে হুমকির মুখে। পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এ খাতে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে গুনছেন লোকসান।

দেশে রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বিদেশি পর্যটকেরা সুন্দরবনের ভারতীয় অংশের প্রতি ঝুঁকছেন বলে জানান ব্যবসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বন সংরক্ষক, খুলনা কার্যালয়ে সুন্দরবন পূর্ব এবং পশ্চিম বন বিভাগের দেওয়া গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে সুন্দরবনে এসেছিলেন দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৮ জন পর্যটক। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সংখ্যাটা এক লাখে নেমে আসে। অর্থাৎ মাত্র চার বছরের ব্যবধানে পর্যটকের সংখ্যা কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে। মাঝের ২০১২-১৩ অর্থবছরে পর্যটক ছিলেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১৭ জন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট পর্যটকের সংখ্যা আরও কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৪০ জনে।
শুধু দেশি পর্যটক নয়, উল্লেখযোগ্য হারে কমছে বিদেশি পর্যটকও। বন বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে সুন্দরবনে বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন ৪ হাজার ১৬ জন। পরের কয়েক বছরে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমবেশি হয়েছে। তবে সম্প্রতি তা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে।

২০১২-১৩ অর্থবছরে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল আগের বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি, ৪ হাজার ৩৭০ জন। এরপর থেকে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ওঠানামার মধ্যে থাকলেও মোটের ওপর তাতে রীতিমতো ভাটার টান। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৬৬২ জন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে হয় ৩ হাজার ৮৬৮ জন। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের (জুলাই ২০১৫-জানুয়ারি ২০১৬) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই সময়ে বিদেশি পর্যটক এসেছেন মাত্র ১ হাজার ৭১০ জন।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন বিদেশি হত্যা এর পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে পর্যটন ব্যবসায় যুক্তদের শঙ্কা।

পর্যটকদের নির্ধারিত প্রবেশ ফি দিয়ে এবং স্থান বিশেষে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে ঢুকতে হয়। অভয়ারণ্য এলাকায় যেতে দেশি পর্যটকদের ১৫০ টাকা ও বিদেশিদের ১ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব দিতে হয়। ১০০ ফুটের নিচের নৌযানকে প্রতিদিন অবস্থানের জন্য তিন হাজার টাকা এবং ১০০ ফুটের বেশি নৌযানকে চার হাজার টাকা দিতে হয়।

সুন্দরবনে পর্যটকদের যাওয়ার ব্যবস্থা করে, এমন পাঁচটি ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলেও পর্যটক হ্রাসের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা বলছেন, ভরা মৌসুমেও বিদেশি পর্যটকের দেখা নেই। দেশি পর্যটকের সংখ্যাও খুব কম। আশা ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা থেমে আসায় পর্যটক বাড়বে, কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ।

রয়েল ভিশন ট্যুরিজমের স্বত্বাধিকারী সাহেদ মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘দেশি পর্যটক যেমন কম পাচ্ছি, তেমনি জানুয়ারিতে একজনও বিদেশি পর্যটক পাইনি।’ বেঙ্গল ট্যুরসের ব্যবস্থাপক শাহ জামান খান বলেন, ‘দুই বিদেশি নিহত হওয়ার পর আমাদের ২৩-২৪টি গ্রুপ ট্যুর বাতিল হয়ে গেছে। গত বছর হরতাল-অবরোধের মধ্যেও যা পর্যটক ছিল, এবার তা-ও পাচ্ছি না।’

পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ছাড়াও প্রচারের অভাবকে দায়ী করেন সুন্দরবন ট্যুর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. ফারুক। তিনি বলেন, বিদেশিরা সুন্দরবনের ভারতীয় অংশের প্রতি ঝুঁকছেন।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (সুন্দরবন পশ্চিম) সাঈদ আলী সম্প্রতি বলেন, কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় সহজে সবাই ঢুকতে পারছেন না। ফলে দেশি পর্যটক কমে গেছে বলে মনে হচ্ছে। সুন্দরবন নিয়ে প্রচারণার ব্যাপারে তিনি বলেন, সামনে প্রকল্প আসছে। তখন প্রচার-প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খুলনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে