Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.7/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০২-২০১৬

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত

ঢাকা, ০১ মার্চ- সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালটাই যত সমস্যা তৈরি করেছে। এরপর আরও তিনবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে ছিলেন, প্রতিবারই একই জুজু কাজ করেছে যুবরাজ সিংকে ঘিরে। পারবেন তো ফাইনালের সেই ২১ বলে ১১-এর কালো দাগটা মুছে ফেলতে?

একটু ভুল হলো, বিশ্বকাপ ফাইনালের দাগ তো মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তবে মনের ভার তো হালকা করা সম্ভব। এশিয়া কাপে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেকে হালকা করে নিলেন যুবরাজ। দলকে জেতালেন, আরেকটি টুর্নামেন্টের ফাইনালেও ওঠালেন। তাঁর ১৮ বলে ৩৫ রানের ইনিংসটি ভারতকে শেষ দিকে সহজেই এনে দিয়েছে ৫ উইকেটের জয়। এ জয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।

শুধু যুবরাজের কথা বললে অবশ্য বিরাট কোহলি অভিমান করতে পারেন। না হলে ভারতের জয়ে কোহলির ভালো খেলা—প্রায় ধ্রুবক হয়ে যাওয়া বিষয়টিও তো ছিল। ৪৭ বলে ৫৬ রানের ইনিংসটি হয়তো ঠিক ‘কোহলীয়’ আগ্রাসী নয়, তবে দলের প্রয়োজন বিবেচনায় যথার্থই। সবুজ পিচে ১৩৯ রানের লক্ষ্য, তাতে ভয়ংকর হয়ে ওঠা নুয়ান কুলাসেকারার আউট সুইংয়ে ১৬ রানেই দুই ওপেনার নেই। এমন সময়ে আগ্রাসনের চেয়ে তো হাল ধরা বেশি প্রয়োজন ছিল। 

ঠিক সেটিই করলেন কোহলি। অবশ্য রান তাড়া করাটা তো তাঁর সম্ভবত দুনিয়াতে সবচেয়ে পছন্দের ব্যাপারগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাটিংয়ে তাঁর গড় যেখানে ৩৫.৮৮, তাড়া করতে গেলেই সেটি বেড়ে হয়ে যায় ৭৩.৪৪! ১৩ ফিফটির ৮টিও পরে ব্যাটিংয়ের সময়। ব্যাপারটা যেন এমন, চ্যালেঞ্জ যত বেশি, কোহলি তত বেশি আগ্রাসী। 

কাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও আরেকবার নিজের পছন্দের পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করে গেলেন কোহলি। ৭ চারে সাজানো ইনিংসটিই ভারতের জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। দুই ওপেনারকে হারানোর পর সুরেশ রায়নার সঙ্গে ৫৪ রানের জুটিতে বিপর্যয় কাটালেন। এরপর আগ্রাসনের ব্যাটনটা যুবরাজকে দিয়ে নিজে শুধু পার্শ্ব নায়কের ভূমিকা নিয়ে নিলেন। যুবরাজ আউট হয়ে গেলেও ধোনিকে নিয়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন কোহলি।
তবে কোহলির ইনিংসটি ভিত্তি গড়ে দিলেও জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে আসলে যুবরাজের ইনিংসটি। যখন ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন, দলের দরকার ওভারপ্রতি আট রানের ওপর। ৩ ছক্কা, ৩ চারে সাজানো ইনিংসটি শেষে যখন আউট হলেন, রানরেটটা নেমে গেছে সাড়ে পাঁচে। ধোনি-কোহলিদের জন্য রাস্তাটা সাজিয়ে দিয়ে গেছেন যুবরাজ। 

এর আগে মিরপুরের সবুজ পিচে টস হেরে ব্যাট করার ‘দুর্ভাগ্য’ মেনে নিতে হলো শ্রীলঙ্কাকে। শুরুতেই পুনরুজ্জীবিত আশিষ নেহরার সুইং ও উজ্জীবিত জসপ্রিত বুমরার গতির সামনে পড়ে নড়ে গেল লঙ্কান ওপেনিং। তৃতীয় ওভারে চান্ডিমাল আউট হলেন নেহরার বলে, পরের ওভারেই বুমরার শিকার শেহান জয়াসুরিয়া। এশিয়া কাপে যেন একটা নীতি মেনেই বোলিং করছেন বুমরা—প্রতি ম্যাচেই চতুর্থ ওভারে উইকেট। মজার ব্যাপার, বাংলাদেশ ম্যাচে এই বাঁহাতি পেসার উইকেট পেয়েছেন ৩.২ ওভারে, পাকিস্তান ম্যাচে ৩.৩, শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ৩.৪! 

ধারাপাত মেনে বুমরা আর নেহরার ‘নিয়মমাফিক’ পাওয়ার প্লের উইকেটের পরে শ্রীলঙ্কান ইনিংসের গল্পটা শুরু করেও টেনে নিতে না পারার আক্ষেপের। দিলশান, কাপুগেদারা, ম্যাথুস—দলের তিন মূল ব্যাটসম্যান ‘ওয়ানডে’ গতিতে ব্যাট করে বিশ-ত্রিশের ঘরে আউট হয়ে গেছেন। এরপরও স্কোর ১৩৫ পার করল, তার মূল অবদান অপেক্ষাকৃত কম স্বীকৃত তিন ব্যাটসম্যানের। সিরিবর্ধনার ১৭ বলে ২২, পেরেরার ৬ বলে ১৭ ও কুলাসেকারার ৯ বলে ১৩ রানের ইনিংসগুলো শ্রীলঙ্কাকে তো কিছুটা লড়াই করার মতো রান দিয়েছেই, সঙ্গে নিরপেক্ষ দর্শকদের একটু টি-টোয়েন্টির স্বাদও দিয়েছে।

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে