Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০১-২০১৬

নদী রক্ষায় তেলবাহী জাহাজের লাইসেন্সে কঠিন শর্ত

হাসনাইন ইমতিয়াজ


নদী রক্ষায় তেলবাহী জাহাজের লাইসেন্সে কঠিন শর্ত

ঢাকা, ০১ মার্চ- দ্বিস্তর ও দুই কাঠামোবিশিষ্ট (ডাবল বটম ও ডাবল হাল) জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো জাহাজে তেল পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আসছে। চলতি বছর থেকে এক স্তর ও এক কাঠামো বিশিষ্ট তেলবাহী জাহাজের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না বলে জ্বালানি বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তেল পরিবহনের নিরাপত্তার জন্য নৌ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
 
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারের দ্বি-বার্ষিক ভাড়া বৃদ্ধি এবং ট্রানজিট লসের হার নির্ধারণী এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
 
ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) মানদণ্ড অনুসারে তেলবাহী ট্যাংকার হতে হয় দ্বিস্তর ও দুই কাঠামোবিশিষ্ট। কিন্তু বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজের এক তৃতীয়াংশই এক স্তর কাঠামো বিশিষ্টি। এতে প্রায়ই তেলবাহী জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ে।

সূত্র জানিয়েছে, সুন্দরবন এলাকায় যেসব জাহাজ ডুবছে তার বেশিরভাগই এক স্তরবিশিষ্ট। এসবের তলা ফেটে যায়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে এক প্রকোষ্ঠের একটি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল ছড়িয়ে পড়ে।
 
বৈঠকের সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পরিবহন বহরে ট্যাংকার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে বেসরাকরি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো সরাসরি ফার্নেস অয়েল আমদানি করায় জ্বালানি তেল পরিবহনে বেসরকারি ট্যাংকারের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে।
 
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, চলতি বছর থেকে ৪০ বছরের উর্ধ্বের কোনো জাহাজের দ্বি-পাক্ষিক তেল পরিবহন চুক্তি নবায়ন করা হবে না। আর ৩০ বছরের নিচে জাহাজের ক্ষেত্রে এক বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা য হবে। তবে সে ক্ষেত্রে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাহাজগুলোকে অবশ্যই ‘ডাবল হাল ডাবল বোটম’ হতে হবে। একই সঙ্গে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন থাকতে হবে।
  
তথ্য মতে, বিপিসি বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জ্বালানিতেল মাদার ভেসেলে থেকে (বড় জাহাজ) থেকৈ লাইটার জাহাজে করে (ছোট জাহাজ) প্রথমে চট্রগ্রামে অবস্থিত তিন তেল বিপনন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিপোতে খালাস করে। পরে অন্য ছোট ছোট ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানের তেলের ডিপোতে পাঠানো হয়।

অধিকাংশ ট্যাংকার এক প্রকোষ্ঠ ও কাঠামোর হওয়ায় অন্য জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে জ্বালানি তেলই নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষিত করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে সব মিলিয়ে ২১৯টি ট্যাংকার রয়েছে যা অভ্যন্তরীণ রুটে তেল পরিবহন করে। এরমধ্যে ৫১টি দ্বিস্তর ও দুই কাঠামোবিশিষ্ট, বাকি সবগুলোই এক স্তরবিশিষ্ট।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের পর দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করায় জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে করে অনেক ব্যবসায়ী বালুবাহী এক প্রকোষ্ঠের জাহাজকে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকরে পরিণত করে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিপিসির এক শ্রেণীর দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজসে এসব ট্যাংকার তেল পরিবহনের অনুমতি পায়।

এসময় রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল সরবরাহের জন্য ৭৮টি জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে মাত্র ৩৩টি উপকূল এলাকায় তেল পরিবহন করতে সক্ষম। বাকি ৪৫টি দেশের অভ্যন্তরে তেল পরিবহনে অনুমতিপ্রাপ্ত। এই ৭৮টি জাহাজ নিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিটিওএ)।

অন্যদিকে ১৯৭৩ সাল থেকে তেল পরিবহন করে আসছে বাংলাদেশ তেলবাহী জাহাজ মালিক সমিতি (বিওটিওএ)। তাদের মোট ১০৯টি জাহাজে সরকারের অনুমোদন রয়েছে। এরমধ্যে ৯১টি উপকূল এলাকায় তেল বহনের কাজে নিয়োজিত। ১৮টি অগভীর নৌপথের তের পরিবহনের কাজ করার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে