Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.4/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-০১-২০১৬

৪০ লাখ মানুষের জন্য গণশৌচাগার ৩৩টি!

সুজন ঘোষ


৪০ লাখ মানুষের জন্য গণশৌচাগার ৩৩টি!

ঢাকা, ০১ মার্চ- চট্টগ্রাম নগরের ৪০ লাখ মানুষের জন্য গণশৌচাগার রয়েছে মাত্র ৩৭টি। এর মধ্যে চালু রয়েছে ৩৩টি। ফলে ১ লাখ ২১ হাজার ২১২ জন নগরবাসীর জন্য গড়ে মাত্র একটি গণশৌচাগার রয়েছে। জনসংখ্যার বিবেচনায় গণশৌচাগারের সংখ্যা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা। বিষয়টি স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও।
চালু থাকা গণশৌচাগারগুলোর পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবহারকারী, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং এ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, নারীরা ব্যবহার করতে পারেন, এমন সুবিধা নগরের কোনো গণশৌচাগারে নেই। কয়েকটি গণশৌচাগারের বাইরের অংশে খোলা জায়গায় টাকার বিনিময়ে পুরুষদের জন্য গোসল করার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এভাবে প্রকাশ্যে রাস্তায় গোসল করার বিষয়টি শোভন নয়।

চট্টগ্রাম নগরের গণশৌচাগার নিয়ে সম্প্রতি জরিপ করেছে বেসরকারি সংস্থা দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র (ডিএসকে)। সংস্থার কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার উজ্জ্বল শিকদার বলেন, জরিপে দেখা গেছে চালু থাকা গণশৌচাগারের মধ্যে মাত্র চারটি স্বাস্থ্যসম্মত। বাকিগুলোর অবস্থা অস্বাস্থ্যকর। তবে চালু থাকা শৌচাগারগুলোর মধ্যে একটিও নারীদের ব্যবহারের উপযোগী নয় বলে জানান তিনি।

সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, দুই বছর আগে চট্টগ্রাম নগরে ৪৩টি গণশৌচাগারগুলো ছিল। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় করপোরেশনের নিজস্ব উদ্যোগে কাঁচাবাজারের জন্য ভবন নির্মাণ, সড়ক ও নালা সংস্কারের কারণে ছয়টি শৌচাগার ভেঙে ফেলা হয়। বাকি ৩৭টির মধ্যে ফইল্যতলী বাজার, আবদুল মাবুদ সওদাগর হাট, দামপাড়া পুলিশ লাইন ও শাহ আমানত মার্কেটের শৌচাগারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। করপোরেশনের দাবি, এসব শৌচাগার ব্যবহার করা হতো না। যে কারণে চারটি শৌচাগার ইজারা নিতে এ বছর আগ্রহী কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩৩টি গণশৌচাগার ইজারা দিয়ে এ বছর করপোরেশন আয় করেছে ৯৭ লাখ ১২ হাজার টাকা। বাংলা সনের প্রথম দিন থেকে করপোরেশন গণশৌচাগার ও হাটবাজার ইজারা দেয়।

নগরবাসীর তুলনায় গণশৌচাগারের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলে স্বীকার করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি বলেন, চালু থাকা গণশৌচাগারগুলো সংস্কার করার পরিকল্পনা করপোরেশনের রয়েছে। শৌচাগারের সংখ্যা আরও বাড়ানোর বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।

পর্যাপ্ত ও পরিচ্ছন্ন গণশৌচাগারের দাবিতে গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরে দুই ঘণ্টা প্রচারণা চালান এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের কয়েকজন বিদেশি শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের চট্টগ্রামের সভানেত্রী লতিফা কবির বলেন, চাকরি, বাচ্চাদের স্কুলে আনা-নেওয়াসহ বিভিন্ন কাজে নারীদের ঘরের বাইরে যেতে হয়। কিন্তু নগরে নারীদের জন্য গণশৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। অথচ এটি খুবই দরকার।

গতকাল রোববার দুপুরে নগরের বকশিরহাট কাঁচাবাজার এলাকার গণশৌচাগারে গিয়ে দেখা যায়, শৌচাগারের পাঁচটি কক্ষই ব্যবহার অনুপযোগী। কমোডগুলো ভেঙে গেছে। কক্ষের মেঝেতে জমেছে শেওলা। দরজা-জানালগুলো ভাঙা। ছাদের পলেস্তারা খসে লোহার রড বেরিয়ে পড়েছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরুপায় হয়ে এই শৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে। নারীদের ব্যবহারের জন্য এখানে ব্যবস্থা নেই।

বকশিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল মোতালেব, জিয়াউল হক ও মোহাম্মদ সেলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংস্কারের অভাবে শৌচাগারের কক্ষগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভেতরের অবস্থা আরও খারাপ। কিন্তু বাজারে আর কোনো শৌচাগার নেই। তাই বাধ্য হয়ে এটি ব্যবহার করছেন তাঁরা।

বকশিরহাট থেকে আধা কিলোমিটার দূরে লালদীঘির দক্ষিণ-পূর্ব পাড়ের গণশৌচাগারে গিয়ে দেখা যায়, বাইরের দেয়ালে শেওলা জমেছে। দরজাগুলোও জরাজীর্ণ। নারীদের জন্য শৌচাগারে পৃথক ব্যবস্থা নেই। শৌচাগারের নোংরা পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় দুই ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রুবেল ও জামাল হোসেন। তাঁরা বলেন, টাকা দিয়ে এই শৌচাগার বাধ্য হয়ে তাঁরা ব্যবহার করেন।

শৌচাগারের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে ইজারাদারের নিয়োগ করা তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ কালাম বলেন, কিছুদিনের মধ্যে শৌচাগারটি সংস্কার করা হবে।

তবে লালদীঘির দক্ষিণ-পূর্ব পাড় থেকে ১০০ মিটার দূরের পশ্চিম পাড়ের গণশৌচাগারের অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন দেখা যায়। তবে শৌচাগারের তত্ত্বাবধায়ক জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতিদিনই শৌচাগারটি পরিষ্কার করা হয়। নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা না থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি।

লালদীঘি থেকে আধা কিলোমিটার দূরের কে সি দে সড়কের গণশৌচাগারটির অবস্থাও জরাজীর্ণ। শৌচাগারের ছয়টি কক্ষের দরজা দড়ি দিয়ে কোনো রকমে আটকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কমোডগুলোও অপরিচ্ছন্ন। ইজারাদার দুদু মিয়ার ভাগনে রেজাউল করিম শৌচাগারের তত্ত্বাবধায়ক। তিনি দাবি করেন, শৌচাগারের নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বাস্তবে এর কোনো প্রমাণ মেলেনি। কে সি দে সড়কের দুই ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিন ও রাজীব দেবনাথ অভিযোগ করেন, পাঁচ-ছয় বছর ধরে গণশৌচাগারটি সংস্কার করা হয় না। দরজার ছিটকিনি নেই। মেঝেতে ময়লা থাকে সব সময়।

লালদীঘি থেকে এক কিলোমিটার দূরে কাজীর দেউড়ি মোড়ের গণশৌচাগারে নারীদের জন্য সংরক্ষিত কক্ষ থাকলেও পুরুষেরাও সেসব কক্ষ ব্যবহার করেন। গতকাল বেলা একটার দিকে গিয়ে দেখা যায়, শৌচাগারে নারীদের জন্য সংরক্ষিত একটি কক্ষ থেকে বের হয়ে আসছেন এক পুরুষ।

শৌচাগারের তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, নারীরা গণশৌচাগার ব্যবহার করেন না। নিরুপায় হলে কখনো কখনো আসেন। তিনি বলেন, নারীদের জন্য শৌচাগারের সংরক্ষিত কক্ষগুলো খালি থাকে। তখন তা ছেলেরা ব্যবহার করে।

কেবল ইজারাদারের হাতে ছেড়ে দিয়ে নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান। তিনি বলেন, গণশৌচাগারের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া দরকার। করপোরেশন সমন্বয়ের কাজটি করবে। এতে সুফল পাবে নগরবাসী। একই সঙ্গে মানসম্মত গণশৌচাগারের সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে