Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-২৯-২০১৬

ক্ষমতাসীন দল থেকে সরে দাঁড়ালেন মাহাথির

ক্ষমতাসীন দল থেকে সরে দাঁড়ালেন মাহাথির

কুয়ালালামপুর, ২৯ ফেব্রুয়ারী- মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন দল ‘ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন’ (ইউএমএনও)‘দুর্নীতিকে সমর্থন করছে’ অভিযোগ তুলে দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মাহাথির এখনও দেশটির অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। বলা হয় তার হাত ধরেই মালয়েশিয়া বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে।

মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর নাজিবের পদত্যাগের দাবি জানান মাহাথির।

রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহাথির বলেন, “আমি এটাকে আর ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) বলব না। এটি এখন নজিবের দল। দুর্নীতির সমর্থন করে এমন একটি দলের অংশ হওয়ায় আমি অস্বস্তি বোধ করছি। এটা আমাকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে।”

নাজিবের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

তবে যোগাযোগমন্ত্রী সালেহ সাইদ কেরুয়াক একটি ব্লগে লেখেন, “যদি মাহাথির ইউএমএনও কে আক্রমণ করা অব্যাহত রাখতে চান তবে ইউএমএনও’র বাইরে গিয়েই তার এটা করা উচিত।”

১৯৮১ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মাহাথির। ৯০ বছর বয়সী মাহাথির ইউএমএনও থেকে সরে দাঁড়ালেও অন্য কোনো দলে যোগ দেবেন না বা নতুন কোনো দল তৈরি করবেন না বলে জানিয়েছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে তিনি একটি ‘কোর গ্রুপ’ গঠন করবেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

“আমরা শুধুমাত্র একটি বিষয়ে একমত। সেটি হল, নাজিবের হাত থেকে পরিত্রাণ।”

সংসদে ইউএমএনও’র পর্যাপ্ত সংখ্যাগোরিষ্ঠতা থাকায় বিরোধীরা নাজিবকে সরাতে পারবে না। তবে মূল হুমকি আসতে পারে দলের ভেতর থেকেই। মাহাথিরের সরে যাওয়া ওই হুমকিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

যদিও নাজিব শক্ত হাতে দলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন।

নাজিবের সমর্থকরা মাহাথিরের ছেলে মুখরিজকে কেদাহ রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে।

গত সপ্তাহে ইউএমএনও’র ডেপুটি প্রেসিডেন্ট মুহিউদ্দিন ইয়াসিনকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। যিনি মাহাথিরের মিত্র এবং নাজিবের সমালোচনা করেছিলেন।

এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ইউএমএনও থেকে সরে দাঁড়ালেন মাহাথির। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগোরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে তিনি সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

তার পরিপ্রেক্ষিতেই ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আহমেদ বাদাউইকে সরিয়ে নাজিবকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। এরপর সেবছরই ফের দলে যোগ দিয়েছিলেন মাহাথির।

গত বছর জুলাইয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাজিবের ব্যক্তিগত একাউন্টে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার জমা হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর উৎস কি জানতে চেয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

অনেক জল ঘোলা হওয়ার পর জানুয়ারিতে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল নাজিবকে যাবতীয় অপরাধমূলক কাজ ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত ঘোষণা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে জমা হওয়া অর্থকে সৌদি রাজপরিবারের উপহার বলে ঘোষণা করেন।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে