Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-২৮-২০১৬

যুগ পেরোলেও বিচার পায়নি হুমায়ুন আজাদের পরিবার

প্রকাশ বিশ্বাস


যুগ পেরোলেও বিচার পায়নি হুমায়ুন আজাদের পরিবার
২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হন হুমায়ুন আজাদ।

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারী- ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারের সুরাহা হয়নি লেখক-অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হত্যাকাণ্ডের। বিজ্ঞানমনস্কতা-ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের পক্ষে লেখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এই অধ্যাপকও আক্রান্ত হয়েছিলেন বইমেলা চলাকালে। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বাংলা একাডেমি থেকে বেরিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশ দিয়ে টিএসসির দিকে এগিয়ে আসতে সন্ত্রাসীর চাপাতির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলেন তিনি।

কয়েক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই বছর অগাস্টে গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান এই লেখক। পরে ১২ অগাস্ট মিউনিখে নিজের ফ্ল্যাট থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। হামলার পরদিন হুমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশে অধিকতর তদন্তের পর তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। তবে হুমায়ুন আজাদকে হামলার পর ঠিক ১২ বছর পার হলেও এখনও বিচার পায়নি তার পরিবার।

হুমায়ুন আজাদের বড় মেয়ে মৌলি আজাদ শনিবার বলেন, “আমরা দীর্ঘ দিন ধরে খুনিদের শাস্তির অপেক্ষায় আছি। এখন দ্রুত মামলার বিচার শেষ হোক- তাই চাই।” এ মামলার বিচার কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে বইমেলায়ও এদিন মানববন্ধন হয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ সামাদ বলেন, “যেভাবে শিশু হত্যার বিচার দ্রুত হচ্ছে সেভাবে প্রথাবিরোধী লেখক আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আমাদের সহকর্মী-সহযোদ্ধার এ হত্যার বিচার অতি দ্রুত শেষ করার দাবি জানাই।” লেখক ও প্রকাশক ছাড়াও জাতির মঙ্গলের জন্যই এই বিচার দ্রুত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, “মৌলবাদী-উগ্রবাদী শক্তি বারবার আমাদের স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আঘাত করে চলেছে। তারা আমাদের হুমায়ুন আজাদ, লেখক অভিজিৎ ও প্রকাশকক দীপনকে হত্যা করেছে।

“আমি চাই যুদ্ধাপরাধের বিচারের মতো এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়।” প্রথমে একটি একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে এটি হত্যামামলায় পরিণত হয়। হুমায়ুন আজাদের উপর হামলার ঘটনায় ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন হয়।

আসামিরা হলেন- মো. মিজানুর রহমান মিনহাজ ওরফে শফিক ওরফে শাওন ওরফে হামিম ওরফে হাসিম, আনোয়ারুল  আলম ওরফে ভাগ্নে শহীদ, নূর মোহাম্মদ শামীম ওরফে জে এম মবিন ওরফে সাবু, সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে সজীব ওরফে তাওহিদ এবং হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাকিব ওরফে রাসেল।

আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। আসামিদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ শামীম ওরফে সাবু, মিনহাজ ও সালেহীন পলাতক আছেন। মিনহাজ ও সালেহীনকে ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ছিনিয়ে নিয়েছিল জঙ্গিরা। সাবু শুরু থেকেই পলাতক আছেন।

হুমায়ুন আজাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ওয়াজে বিষোদগার করা জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রথমে আসামি করা হলেও পরে বাদ দেয়া হয় তাকে। দুই বছর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচিত যে ১০টি মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেয় তার মধ্যে হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলাও রয়েছে। তারপরেও এখনও সাক্ষ্যগ্রহণই শেষ হয়নি এ মামলায়।

ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমীনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের মোট ৫৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছিল ২০১৪ সালে। এরপরে এক বছরের বেশি সময় পেরোলেও নতুন কারও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। মামলার অন্যতম তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক (বর্তমানে অবসরে) কাজী আবদুল মালেক আবারও এ মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করায় বিচার কাজ কার্যত ঝুলে গেছে।

২০১৪ সালে প্রথম সাক্ষ্য দেওয়া মালেক সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে সাক্ষ্য দেন। আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারিও এই মামলায় তার বাকি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রয়েছে। এছাড়া গত বছর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের হরতাল-অবরোধে নিরাপত্তাজনিত কারণে কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে হাজির না করায় থেমে যায় হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার বিচার। মামলার বিচার ঝুলে থাকার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ‘অবহেলা ও অদক্ষতাকে’ দায়ী করেছেন কয়েকজন আইনজীবী।

আইনজীবী জীবনানন্দ চন্দ জয়ন্ত বলেন, “রাজনৈতিক সুবিধাবাদই হুমায়ুন আজাদ হত্যা বিচারের অন্তরায় হিসাবে কাজ করছে। সরকারের মধ্যেই অনেক পাকিস্থানপন্থি রয়েছেন, যারা এই হত্যার বিচারের শেষ দেখতে  চায় না। আর তদন্ত কর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষের অদক্ষতার কারণও বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় কাজ করছে।” হুমায়ুন আজাদের এক সময়ের ছাত্র আইনজীবী মনোরঞ্জন ঘোষ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ‘অদক্ষতার’ কথা বলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হেলাল বলেন, “মামলা প্রমাণের জন্যই আরও ভালো করে সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। কারণ এ মামলায় ঘটনাস্থলের আশপাশে হুমায়ুন আজাদের অনেক পরিচিত লোক থাকলেও সরাসরি ঘটনাস্থলে ছিলেন এমন কারও সাক্ষী তদন্তেও আসেনি। প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবেও আদালতে কেউ সাক্ষ্য দেননি। “কিন্তু মামলার অভিযোগতো সত্য। সে কারণে মামলা প্রমাণে অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ের পর্যবেক্ষণে একটু সময় লাগছে।”

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে