Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-২৮-২০১৬

২০ বছরে চীনে ‘যৌন বিপ্লব’ ঘটেছে

মিজানুর রহমান


২০ বছরে চীনে ‘যৌন বিপ্লব’ ঘটেছে

বেইজিং, ২৮ ফেব্রুয়ারী- গত ২০ বছরে চীনের মানুষের যৌনতার অভ্যাস ও রুচির যে পরিবর্তন হয়েছে, সেটিকে ‘বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রথম নারী যৌনবিজ্ঞানী লি ইনহে। দীর্ঘদিন ধরে যৌনতা বিষয়ে চীনের মানুষর রুচি ও আগ্রহ নিয়ে কাজ করছেন তিনি। যৌনতার উপর করা এক জরিপ শেষে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, ১৯৮৯ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৫.৫ শতাংশ মানুষ বিয়ের আগে সেক্স করেছে। অথচ মাত্র দুই বছর আগে করা আরেক জরিপে দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ মানুষই বিয়ের আগে সেক্স করেছে।
যৌনতা বিষয়ে ২০ বছর আগে ও পরের জরিপ শেষে এই পরিবর্তনকে ‘যৌনতার বিপ্লব’ আখ্যায়িত করছেন। সারা জীবনে চীনে যত পরিবর্তন দেখেছেন লি, এর মধ্যে যৌন রুচি ও আগ্রহের পরিবর্তনই সবচেয়ে বেশি চোখে লাগছে তার। তাই এ পরিবর্তনকে ‘বিপ্লব’ অাখ্যায়িত করতে দ্বিধা করেননি তিনি। তার অবস্থানের বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।

১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বিয়ের আগে সেক্স করা ছিল চীনে বড় ধরনের অপরাধ। এ অপরাধকে ‘মাস্তানি’র মতো বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বিচার করা হতো।

পতিতাবৃত্তি ও পর্নোগ্রাফির ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিপ্লব ঘটেছে চীনে।

১৯৯৬ সালে পতিতাবৃত্তি আয়োজনের অপরাধে চীনের একটি পানশালা মালিকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। অথচ চীনে এখন পতিতাবৃত্তি খুবই সাধারণ ঘটনা। পতিতাবৃত্তির জন্য এখন আর কড়া শাস্তিও দেওয়া হয় না। সর্বোচ্চ সে পানশালা বা নাইটক্লাবটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

৮০’র দশকের মতো এখনও পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, প্রকাশ বা বিতরণ এবং সেক্স পার্টির আয়োজনের শাস্তি মৃত্যুুদণ্ড। কিন্তু এখন একই অপরাধের শাস্তি খুবই নগন্য। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পর্নো উৎপাদক দেশ চীন। কিন্তু কেউ তাদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করে না, এজন্য তাদেরকে ‘ধরা’ সম্ভব হচ্ছে না।

ওই সময়ের বেশিরভাগ সময়ই পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কাটিয়েছেন লি। চীনে ফিরে গিয়ে দেখলেন সেখানে মাও সে তুংয়ের প্রবর্তিত কঠোন আইন ও বিধি নিষেধ চলছে।

চীনে কমিউনিস্ট শাসনের শুরুর দিকে ‘প্রেম’ ‘ভালোবাসা’ বিষয়ক লেখাকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির লেখা হিসেব গণ্য করা হতো। ১৯৫০-এর শেষের দিকে এসে লেখকরা তাদের লেখায় প্রেম ভালোবাসার কথা লিখতে পারতেন। কিন্তু ১৯৮০ সালের আগ পর্যন্ত সেক্স নিয়ে যে কোনো ধরনের লেখালেখি ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
১৯৯৮ সালে লি তার ‘দ্য সাবকালচার অব হোমোসেক্সুয়ালিটি’ বইটি প্রকাশ করেন। তবে বইটি সবাই কিনতে পারত না। নিয়োগকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে সাধারণ চাকরিজীবীরা এবং প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র কর্মকর্তারা শুধু বইটি কিনতে পারত।

লি’র আরেকটি বই 'The Subculture of Sadomasochism' যখন প্রকাশিত হয়, তখন সময়ের তুলনায় এটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছিল। এর জন্য বহু হুমকিও পেয়েছেন লি।
লি ইনহে বলেন, ‘আমাকে বলা হলো বইটির সব কপি পুড়িয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু তখন পর্যন্ত বইটির ষাট হাজার কপি বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। তাই হুমকিদাতাদের উদ্দেশ্য পুরোপুরি হাসিল হলো না। ‘
সমকামিতা নিয়ে তার একটি অনুবাদগ্রন্থ চীনের প্রকাশকরা প্রকাশ করেনি। বহুগামিতা নিয়ে তার গবেষণা বইটির জন্য একজন প্রকাশক খুঁজে পেতে মূল চীনের বাইরে হংকংয়ে যেতে হয়েছিল লি-কে।
তবে কমিউনিস্ট পার্টি আস্তে আস্তে যৌনতাকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখতে শুরু করে এবং লি-কে তার একাডেমিক গবেষণা ও লেখালেখির জন্য কিছুটা ছাড় দিতে শুরু করে। 

সেক্স অব চীন বইয়ে লি’র সহলেখক ড. হাইকিং ইউ বলেন, লি হচ্ছে এমন একজন লেখক যিনি যৌনতা বিষয়ক লেখালেখিতে নিজেকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পেরেছিলেন। প্রথমে সবাই তাকে অপছন্দ করলেও তিনি পরে তার সহকর্মী, পাঠকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলেন।’

লি’র মতে, ১৯৭৯ সালে কমিউনিস্ট সরকার যখন এক সন্তান নীতির প্রবর্তন করে, তখন চীনের মানুষের যৌনরুচির বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।

লি ইনহে বলেন, ‘চীনের মানুষের উপর জোর করে এক সন্তান নীতি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল, হয় আপনি সেক্স করা ছেড়ে দিন, নইলে বিকল্প উপায় বেছে নিন। মানুষ বিকল্পভাবে সেক্স করার উপায় বের করার জন্য হন্যে হয়ে উঠল। তখনই তারা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে শুরু করল’।
চীনে সমকামী বিয়ে নিষিদ্ধ। এমন-কি সমকামীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গত বছর প্রকাশিত এত গোপন ভিডিওতে দেখা গেছে, ডাক্তাররা সমকামিতা দূর করার জন্য মানুষদেরকে ইলেকট্রিক শক দিচ্ছেন। যদিও দেশটির একটি আদালত পরে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

তবে লি মনে করেন, চীনে সমকামী নারী ও পুরুষ এখনও নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখেন। তবে গত কয়েক বছর ধরেই সমকামীরা নিজেদের সামনের দিকে আনতে শুরু করেন।

২০১১ সালে দেশটির শীর্ষস্থানীয় চায়না ডেইলি সমকামীদের নিয়ে একটি ইতিবাচক আর্টিকেল প্রকাশ করে। এরপর থেকে অন্যান্য মিডিয়াগুলোও সমকামীদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হয়েছে।
 
সমকামী বিয়েকে বৈধতা দেওয়ার জন্য লি নিজেও চীনের পার্লামেন্টে বেশ কিছু প্রস্তাব করেছেন। যদিও দেশটিতে এখনও বিষয়টি সর্বজনস্বীকৃত নয়, তবে তিনি আশাবাদী। 

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে