Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-২৬-২০১৬

আমিরাতকে ৫১ রানে হারাল বাংলাদেশ

আমিরাতকে ৫১ রানে হারাল বাংলাদেশ

ব্যাট হাতে শেষ দিকে সময়োপযোগী এক ইনিংসে বাংলাদেশকে লড়ার মত রান এনে দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ফিল্ডিংয়ে নিলেন দারুণ এক ক্যাচ। বল হাতে ২ উইকেট। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ পেল প্রথম জয়।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৫১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। আমিরাত ১৭.৪ ওভারে গুটিয়ে যায় ৮২ রানে।

টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম পরে বোলিং করে প্রতিপক্ষকে অল আউট করল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম পুঁজি নিয়ে জয়ও এটিই। ২০১২ সালে বেলফাস্টে আয়ার‌ল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪৬ রান করে মাশরাফিরা জিতেছিল ১ রানে।

সাকলাইন হায়দারকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মাহমুদউল্লাহ। তার বলে এগিয়ে এসে কাভারে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন হায়দার।

ছক্কা হাঁকানোর প্রতিশোধ নিতে বেশি দেরি করেননি তাসকিন আহমেদ। তার বলে ফাইন লেগ দিয়ে সীমানা ছাড়া করেছিলেন মোহাম্মদ উসমান। এক বল বিরতিতে তাতে বোল্ড করে দলকে জয়ের আরও কাছে নিয়ে যান তাসকিন।

চমৎকার ব্যাটিং, দারুণ ফিল্ডিংয়ের পর বোলিংয়েও অবদান রাখলেন মাহমুদউল্লাহ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ তার বলে হিট উইকেট হয়ে ফিরে গেছেন।

পরের ওভারে আঘাত হেনেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার বলে স্টাম্পড হয়েছেন ফাহাদ তারিক।

দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে পরপর দুই অফ কাটারে মোহাম্মদ শাহজাদ ও স্বপ্নিল পাতিলকে বিদায় করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ফিরতি ক্যাচ নিয়ে শাহজাদকে ফেরান তিনি। মিডঅনে স্বপ্নিলের সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

টানা দুই ওভারে আঘাত হানেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বিপজ্জনক রোহান মুস্তফাকে আউট করা দেশসেরা এই পেসার বিদায় করেছেন শাইমান আনোয়ারকে (৪ বলে ১)। মাশরাফির বলে পয়েন্টে মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ এক ডাইভিং ক্যাচে পরিণত হন তিনি।

নিজের বলে মুস্তাফিজুর রহমান ঠিক মতো ফিরতি ক্যাচ ধরতে না পারায় বেঁচে গিয়েছিলেন রোহান মুস্তফা (১৭ বলে ১৮)। তবে বেশি দূর এগোতে পারেননি তিনি। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে সেই মুস্তাফিজকেই ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন তিনি।

দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হেনেছে বাংলাদেশ। আল আমিন হোসেনের বলে মিডঅনে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন মোহাম্মদ কালিম (৫ বলে শূন্য)।

শুরুটা ভালো হলেও বাংলাদেশ পথ হারাল ইনিংসের মাঝে। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ এক রকম একাই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন লড়ার মত একটা স্কোর।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

আগের দিন দারুণ শুরু করা শ্রীলঙ্কাকে যেভাবে ইনিংসের পরের ধাপে বেঁধে ফেলেছিল আমিরাত, এদিন একই ভাবে তারা  আটকে রাখল বাংলাদেশকে। বৃহস্পতিবার ১০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ছিল ১ উইকেটে ৭২, কিন্তু পরের ১০ ওভারে লঙ্কানরা করতে পেরেছিল আর মাত্র ৫৭। এবার ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ৭৪, শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৫৯! সেটাও শেষ ওভারে ১৭ রানের সৌজন্যে।

প্রথম ম্যাচের মতো উইকেট এবার ঘাসে ভরা নয়। তবে যথারীতি আছে ঘাসের ছোঁয়া। টস জিতে তাই বোলিংয়ে আমিরাত। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানালেন, টস জিতলে তিনি ব্যাটিংই বেছে নিতেন।

বাংলাদেশের শুরুটা ছিল সতর্ক। প্রথম ৪ ওভারে ২২ রান তোলেন সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ মিঠুন। নিস্তরঙ্গ ম্যাচ প্রাণের ছোঁয়া পায় পঞ্চম ওভারে।

জীবন পান বাংলাদেশের দুই ওপেনারই। টাইমিংয়ের গড়বড়ে বল আকাশে তুলেছিলেন মিঠুন। মিড অফ থেকে শাহজাদ পেছন দিকে ছুটে বল হাতে ছোঁয়ালেও মুঠোয় জমাতে পারেননি তালুতে। এক বল পর আকাশে বল তুলে বেঁচে যান সৌম্যও। থার্ডম্যানে ক্যাচ ছাড়েন সাকলাইন।

যেখানে দুটি উইকেট হারাতে পারত বাংলাদেশ, সেই ওভারেই বাড়ে রানের গতি। ফ্রি হিট লং অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন মিঠুন। পরের বলেই দারুণ টাইমিংয়ে চার।

পরের ওভারের প্রথম বলে শাহজাদের মিডিয়াম পেসকে মিড উইকেট গ্যালারিতে পাঠান সৌম্য। কিন্তু আরও একবার সম্ভাবনায় ইনিংসের অপমৃত্যু বাজে শটে, তুলে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন মিড অনে (১৩ বলে ২১)।

শাহজাদের পরের ওভারেই টানা দুটি ছক্কা ও চারে রানের গতিটা ধরে রেখেছিলেন মিঠুন। কিন্তু আরেক প্রান্তে অফ স্পিনার রোহান মুস্তাফাকে প্রথম ওভারেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড উইকেট সীমানায় ধরা পড়েন সাব্বির (৪)।

মিঠুন এগিয়ে যাচ্ছিলেন প্রথমবার পঞ্চাশ ছোঁয়ার দিকে। পারলেন না নিজের হাস্যকর ভুলে। মুস্তাফার ঝুলিয়ে দেওয়া বলে ডিফেন্স করেই কী মনে করে ছুট লাগালেন! বল ছিল পাশেই, আমিরাতের কিপার চকিতে বল তুলে ভেঙে দেন বেলস (৪১ বলে ৪৭)।

দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা মোহাম্মদ নাভিদের বলে বাজে এক শটে বিদায় নেন মুশফিকুর রহিমও (৪)। ১ উইকেটে ৭২ থেকে বাংলাদেশ তখন আচমকাই ৪ উইকেটে ৮৩!

জাভেদের লেংথ বলে দারুণ এক পুল শটে ছক্কায় বৃত্ত ভাঙার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। জাভেদের ফুলটসে দৃষ্টিকটু ভাবে বোল্ড সাকিব আল হাসান (১৩)। পরের বলেই লং অনে উড়িয়ে আউট ইমরুল কায়েসের বদলে একাদশে আসা নুরুল হাসান।

রানের খাতা খুলতে পারেননি অধিনায়ক মাশরাফিও। দলের স্কোরকার্ড তখন বিবর্ণ। শেষ ওভারে মুস্তাফাকে এক ছ্ক্কা ও চারে ১৭ রান নেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি ২৭ রানে।

বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমে তখন কিছুটা স্বস্তি। দায়িত্ব বাকিটুকু বোলারদের।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে