Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-২৬-২০১৬

ক্লাবে দরাজ রাজ্য, মাথা কুটছে শিল্প

গার্গী গুহঠাকুরতা


ক্লাবে দরাজ রাজ্য, মাথা কুটছে শিল্প

কলকাতা, ২৬ ফেব্রুয়ারি- মেলা-উৎসবের জন্য তাঁর কোষাগারের দ্বার অবারিত। হাজার হাজার ক্লাবকে বছর বছর টাকা জোগাতেও কোনও খামতি নেই। মুঠো বন্ধ শুধু শিল্পের বেলায়। নিয়ম মেনে লগ্নি করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা আদায় করতে পারেনি বেশির ভাগ শিল্প সংস্থাই। যে ঘটনাকে শিল্পায়নের প্রতি রাজ্যের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলেই মনে করছে শিল্পমহল।

২০০৮ সালে শিল্পস্থাপনে উৎসাহ দিতে একটি প্রকল্প ঘোষণা করেছিল তৎকালীন বাম সরকার। শিল্প মহলের অভিযোগ, তৃণমূল জমানা আসার পরে একশোর বেশি সংস্থা সেই প্রকল্পে ছাড় পাওয়ার যোগ্য হলেও এক পয়সাও পায়নি। যারা পেয়েছে, তাদেরও পুরো আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়নি। এর পর ২০১৩ সালে নতুন আর্থিক সুবিধা প্রকল্প ঘোষণা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তাতে সুযোগ-সুবিধার পরিমাণ এক লাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তিক্ত অভি়জ্ঞতার জেরে সাড়া পড়েনি শিল্পমহলে। গত আড়াই বছরে সেই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছে মাত্র ২৪টি সংস্থা।

কী ভাবে পাওয়া যায় সরকারি সুবিধা? ইনসেনটিভ পাওয়ার জন্য প্রথমে ডিরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রিজ বা শিল্প অধিকর্তার দপ্তরে সংস্থার নাম নথিভুক্ত করতে হয়। তার পর মেলে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট পার্ট ওয়ান (আরসি পার্ট ওয়ান)। সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়ার এটাই প্রথম ধাপ। এর পর নিতে হয় আরসি পার্ট টু বা এলিজিবিলিটি সার্টিফিকেট। একেবারে শেষ ধাপে রয়েছে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার শংসাপত্র। এই তিনটি শংসাপত্র হাতে এলেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা সরকারের। তবে প্রায় কোনও সুবিধাই নগদে মেলে না। সংস্থার কাছ থেকে বিক্রয় কর বাবদ যে টাকা সরকারের প্রাপ্য, তা কাটছাঁট করেই মেটানো হয় ইনসেনটিভ। সরাসরি ছাড় একমাত্র পাওয়া যায় বিদ্যুৎ মাসুলে। শংসাপত্র দেখালে প্রথম পাঁচ বছর সরকারি ডিউটি দিতে হয় না শিল্প সংস্থাকে।

২০০৮ সালের প্রকল্পে যন্ত্রপাতি কেনার খরচের উপর ১২ থেকে ১৫ শতাংশ এবং সুদের উপর ২৫ শতাংশ ভর্তুকি, নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করলে তাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং ইএসআই বাবদ খরচের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি ছিল ভ্যাট ও বিদ্যুৎ বিলের উপর ছাড়। এ সব সুবিধাই রয়েছে তৃণমূল সরকারের তৈরি নতুন প্রকল্পে। সঙ্গে রয়েছে বাড়তি সুবিধাও। যেমন, বিক্রয় কর। এ ক্ষেত্রে ছাড়ের পরিমাণ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। ক্ষমতায় আসার দু’বছরের মধ্যে আর্থিক সুবিধা এক লাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়ে শিল্পমহলের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু সেই মুগ্ধতা ফিকে হতে সময় নেয়নি। বাম আমলের আর্থিক সুবিধা প্রকল্পে প্রাপ্য টাকা দেওয়ার গতি শ্লথই ছিল। শিল্পোন্নয়ন নিগমের তথ্য বলছে, সেই সময় মাত্র ১১টি সংস্থাকে ইনসেনটিভ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল জমানায় এসে ওই প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা দেওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি সূত্রের মতে, ওই প্রকল্পের আওতায় থাকা সংস্থাগুলির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১৫০০ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু তাদের অধিকাংশই আর্থিক সুবিধার মুখ দেখেনি। লগ্নিকারীদের অভিযোগ, সব শর্ত পূরণ করেও সরকারি শংসাপত্র জোটেনি। আর শংসাপত্র না-পাওয়ায় মেলেনি আর্থিক সুবিধাও। যে সব সংস্থা শংসাপত্র পেয়েছে, তারাও সকলে আর্থিক সুবিধা পায়নি।

এই তথ্য রয়েছে শিল্পোন্নয়ন নিগমের ওয়েবসাইটেই। সেখানে মোট ৪৯টি সংস্থার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৪টি সংস্থাকে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও ২৩টি সংস্থা কানাকড়ি পায়নি। যে তালিকায় রয়েছে আইএফবি অ্যাগ্রো, কমলদীপ ইস্পাত, গ্লোবাল কাস্টিংস, লালওয়ানি ফেরো অ্যালয় ও খাদিম ইন্ডিয়ার মতো সংস্থা। বাকি সংস্থাগুলিও সব আর্থিক সুবিধার  মুখ দেখেনি। 

এ ব্যাপারে শিল্পমহলের মূল অভিযোগের তির শিল্প অধিকর্তার দপ্তরের দিকেই। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নানা অছিলায় শংসাপত্র দিতে গড়িমসি করে শিল্প অধিকর্তার দফতর। এবং পরে সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার অজুহাতে ইনসেনটিভ নাকচ করে দেওয়া হয়। শিল্পমহলের এই অভিযোগ নিয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি শিল্পসচিব কৃষ্ণ গুপ্ত ও শিল্প অধিকর্তা রূপেন চৌধুরী।

রাজ্য সরকারের ভূমিকায় স্বাভাবিক ভাবেই হতাশ শিল্পমহল। তাঁদের প্রশ্ন, বছরভর উৎসব বা পাড়ার ক্লাবে দান-খয়রাতির জন্য টাকার অভাব না-হলে শিল্পের জন্য হচ্ছে কেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিল্পকর্তার কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী নিয়ম করে শিল্পপতিদের সাহায্য করার কথা বলেন। গত মাসে ‘বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট ২০১৬’-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও বলেছেন, তাঁর সরকার শিল্পপতিদের কর্মী হিসেবে কাজ করবে।

কিন্তু তাঁর অগ্রাধিকারটা আসলে কী, সেটা তো এই বিভেদ থেকেই বোঝা যায়।’’ একই সুরে আরেক বণিককর্তা বলেন, ‘‘এমনিতেই জমি নীতি আর সিন্ডিকেটের তোলাবাজির জেরে রাজ্যে শিল্প বলতে প্রায় কিছু নেই। সামান্য যে ক’টি কারখানা চলছে তারাও ইনসেনটিভ না-পেলে পাততাড়ি গোটানোর কথা ভাববে। নিদেনপক্ষে সম্প্রসারণ তো করবেই না।’’
আশ্বাস সত্ত্বেও প্রাপ্য না পেয়ে ক্রমেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে শিল্পমহল।

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে