Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-২৩-২০১৬

কার স্বার্থে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রশ্ন রাশেদার

কার স্বার্থে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রশ্ন রাশেদার

সিলেট, ২৩ ফেব্রুয়ারী- কার স্বার্থে রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হচ্ছে? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সহ-সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপেদষ্টা ড. রাশেদা কে চৌধুরী।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সুলেমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রশ্ন করেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সংস্থা (বেলা) ও বাপা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। 

রাতারগুল জলারবন ও সিলেট বিভাগের বনাঞ্চল নিয়ে সুশীল সমাজের উদ্যোগ বিয়ষক সংবাদ সম্মেলনে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘সুন্দরবনের রামপালে পরিবেশ ধ্বংস করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা সেখানে বিকল্প প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু সরকার তা শোনেনি।’

সিলেটের অবৈধ স্টোন ক্র্যাশিং মেশিন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সিলেটে অবৈধভাবে ১৩শ’ স্টোন ক্রাশার মেশিন চালানো হচ্ছে। আদালত এগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবু বন্ধ করা হচ্ছে না। এসব স্টোন ক্রাশার মেশিন মালিকরা কতটুকু লম্বা?’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সংস্থার (বেলা) নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট রেজওয়ানা হাসান। 

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রেজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশে সংরক্ষণের আইন থাকলেও গাছ সংরক্ষণের কোনো আইন নেই। তাই আদালতে এ বিষয়ে তেমন কিছু করার থাকে না। তাই দেশে বড় বড় গাছগুলো কেটে উজাড় করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘অতীতে ঢাকা থেকে সিলেট আসতে অনেক বড় বড় গাছ চোখে পড়ত। কিন্তু এখন ওইসব গাছ আর নেই।’ 

দেশে ১৭ শতাংশ বনাঞ্চল ছিল জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে মাত্র ৭ শতাংশ বনাঞ্চল রয়েছে। এর মধ্য থেকে সিলেটের তিনটি বনের বর্তমান ও অতীতের অবস্থা নিয়ে কাজ শুরু করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে সাতছড়ি, রেমাকালেঙ্গ বনাঞ্চল ও লাউছড়া। বিগত ৩০ বছর আগে ওইসব বনের কোন অবস্থা ছিল, আর বর্তমানে ওইসব বনের অবস্থা কেমন রয়েছে তা খুঁজে বের করা হবে।’ আগামী ৬ মাসের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি। 

জলাশয় সম্পর্কে বেলার নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘দেশে জলাশয় ভরাট নিয়ে আইন রয়েছে। কিন্তু সেই আইন বাস্তবায়িত হয় না।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই আইনজীবী বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত এই আইনে কারো বিচার হয়নি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘লাউছড়া উদ্যানকে এখন পার্ক করে ফেলা হয়েছে। লাউয়াছড়ায় ঢুকলে মনে হয় রমনা পার্কে ঢুকেছি। বনের গাম্ভীর্য ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। অবাধে গাছ কাটা হচ্ছে। এর প্রভাব যেমন বন্যপ্রাণীর ওপর পড়ছে তেমনি সংস্কৃতির ওপরও পড়ছে।’

জাফলং সম্পর্কে রেজওয়ানা বলেন, ‘২০ বছর আগের জাফলং এখন আর নেই। ওই এলাকায় পাথর ভাঙার মেশিন বসানো হয়েছে। ওইসব মেশিনের শব্দে স্কুল শিক্ষার্থীরা শ্রবণশক্তিও হারাচ্ছে।’ সংবাদ সম্মেলরের শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম। 

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ উদ্দিন, শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি সায়েন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. নারায়ন সাহা, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন ও বাপা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে