Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-২০-২০১৬

জিকার সংক্রমণ রুখতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পাপ নয়, বলছেন পোপ

জিকার সংক্রমণ রুখতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পাপ নয়, বলছেন পোপ

মেক্সিকো, ২০ ফেব্রুয়ারী- দয়া করে অন্তঃসত্ত্বা হবেন না— আগেই ঘোষণা করেছে ব্রাজিল।

রাষ্ট্রপুঞ্জেরও বার্তা, ‘জন্ম নিয়ন্ত্রণ করুন বা গর্ভপাত করান’।

কিন্তু জিকা ভাইরাস আক্রান্ত ৩৪টি দেশের অধিকাংশই ক্যাথলিক রাষ্ট্র। গর্ভপাত বা জন্মনিয়ন্ত্রণ সেখানে নিষিদ্ধ। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছিল, রাষ্ট্রপুঞ্জ যতই প্রচার চালাক, আদৌ কি এই সব দেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব? এ বার সবুজ সঙ্কেত দিলেন পোপ ফ্রান্সিসও। বললেন, ‘‘বিশ্বজুড়ে যে ভাবে মহামারী দেখা দিয়েছে, তাতে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া আটকানো কোনও ভাবেই পাপ নয়!’’

পাঁচ দিনের মেক্সিকো সফর সেরে ভ্যাটিকান ফেরার পথে সাংবাদিকদের এ কথা জানালেন তিনি। যদিও গর্ভপাতের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন পোপ। বলেছেন, ‘‘গর্ভপাত করা পাপ। আর এর সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। এটা মানুষেরই একটা খারাপ দিক। আবার ঠিক সে রকমই গর্ভনিরোধক বড়ি খেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া আটকানোও পুরোপুরি অন্যায় নয়।’’ ইতিহাসে এর নজিরও আছে। সেই উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘‘সন্ন্যাসিনীদের হাত দিয়ে ১৯৬০ সালে বেলজিয়ান কঙ্গোয় লাগাতার ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়েদের কাছে গর্ভনিরোধক বড়ি পাঠানোয় সম্মতি দিয়েছিলেন পোপ ষষ্ঠ পল। এ রকম কিছু ক্ষেত্রে (যেমন জিকার সংক্রমণ) জন্ম নিয়ন্ত্রণে অন্যায় নেই।’’

জিকা ভাইরাস সংক্রমণে জ্বর, গায়ে গোটা বেরনো, মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কিন্তু এর পরিণতি মারাত্মক যদি কোনও অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সংক্রামিত হন। সে ক্ষেত্রে তাঁর সন্তানের মাইক্রোসেফালি হওয়া নিশ্চিত। এ রোগে শিশু অপরিণত মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মায়। বয়স বাড়লেও মাথার খুলি বাড়ে না। কিন্তু বাড়তে থাকে মুখমণ্ডল। ফলে মুখ অস্বাভাবিক চেহারা নিয়ে এগিয়ে আসতে থাকে মাথা থেকে। দেহের বাড়বৃদ্ধি ঘটে না। কথা বলতেও শেখে না শিশু। এ রোগের কোনও প্রতিষেধক নেই, নেই চিকিৎসাও। ভাইরাসটি বহন করে এডিস ইজিপ্টাই মশা। যৌন সম্পর্কেও ভাইরাসটি ছড়ায় বলে প্রমাণ মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রাজিল-সহ বেশ কিছু দেশ ঘোষণা করে, ‘অন্তঃসত্ত্বা হবেন না’। রাষ্ট্রপুঞ্জ আরও এক ধাপ এগিয়ে জানায়, ‘যদি কোনও মহিলা গর্ভবতী হয়েও পড়েন, গর্ভপাত করান’। কিন্তু রাষ্ট্রপুঞ্জেরই একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করে, ক্যাথলিক দেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণ কি আদৌ সম্ভব? এ প্রশ্নের জবাবও মেলে দ্রুত। দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কিছু ধর্মযাজক সরব হন, পোপ এ নিয়ে কোনও সবুজ সঙ্কেত দেননি। তা ছাড়া তিনি অন্য রকম কিছু বললেও গির্জার শিক্ষা বদলে যাবে না।

কিন্তু এখন তো তিনি (গর্ভপাতে নিষেধাজ্ঞা জারি রাখলেও) জন্ম নিয়ন্ত্রণে সায় দিয়েছেন! কী বলছেন বিশপরা? বস্টন কলেজের এক ধর্মবিষয়ক শিক্ষকের কথায়, ‘‘পোপ শুধু বলেছেন, পরিস্থিতি বিচার করে কেউ জন্ম নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবতে পারেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পোপ নিশ্চয় অনুমান করেছিলেন গির্জার নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। আর আজ উনি যা বলেছেন, তাতে আমার ধারণা এই বিতর্কের মুখোমুখি হতে পোপ প্রস্তুত।’’

কলম্বিয়ার এক বিশপ আবার বলেছেন, ‘‘পোপের মন্তব্যে আবার মনে করবেন না জন্ম নিয়ন্ত্রণের ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হল। এটা মোটেই ব্ল্যাঙ্ক চেক নয়।’’ প্যারাগুয়ের এক ধর্মযাজকের কথায়, ‘‘পোপ একটা কথা বলেছেন। ওটা স্রেফ একটা কথার কথা হিসেবেই দেখা উচিত। উনি ঠিক কী বলতে চেয়েছেন, এখনই তার ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।’’

এল সালভাদোরের নারীবাদী আন্দোলনের মুখ অ্যাঞ্জেলিকা রিভ্যাসের বক্তব্য, পোপের কথায় পরিস্থিতি এতটুকু বদলাবে না। তাঁর দেশে এখনও যৌন শিক্ষা নিষিদ্ধ। আর তা ছাড়া, যে মেয়েরা ইতিমধ্যেই গর্ভবতী, জন্ম নিয়ন্ত্রণে সায় মিললেও তাঁদের তো বিপদ কাটছে না।

উত্তর আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে