Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-২০-২০১৬

ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অপূর্ব সুন্দর প্রবাল স্তর গ্রেট ব্যারিয়ার রীফ!

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি


ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অপূর্ব সুন্দর প্রবাল স্তর গ্রেট ব্যারিয়ার রীফ!

সমুদ্রকে ভালোবাসেনা এমন মানুষ হাতে গোনা যাবে। ভাবুন তো, একদিকে বালুর ঝরঝরে স্পর্শ, আরেকদিকে নীলচে পানির নোনতা ঘ্রাণ- ভালো না বেসে পারা যায়? বিশেষ করে সেই নীলচে তরলের পাশে যদি ফেনিল সমুদ্রের আরেকটি আশ্চর্য সৃষ্টি প্রবাল স্তর তৈরি হয়, তবে তো কথাই নেই! আর সেটা যদি হয় পৃথিবীর সবচাইতে বৃহৎ প্রবাল স্তর গ্রেট ব্যারিয়ার রীফ! একে যারা দেখেছেন একবার তাদের চোখ দুটো স্বপ্নালুভাবে ভরে যেতে বাধ্য নামটি শুনে। কিন্তু আপনি কি জানেন সম্প্রতি ভাইরাসের আক্রমণে নিজের অপূর্ব সৌন্দর্যের অনেকটাই ফিকে হয়ে যাচ্ছে এই প্রবাল স্তরের?

বাস্তবিকভাবেই বিশেষজ্ঞদের মতে বেশ কঠিন একটা সময়ের ভেতরে দিয়ে বর্তমানে যেতে হচ্ছে এই কোরাল উপত্যকাটিকে। আর এটার এই অবস্থার জন্যে প্রাথমিকভাবে দায়ী মনে করা হচ্ছে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন, এল নিনো ইভেন্ট- যেটা কিনা প্রবালের সব ধরনের রঙ-মাধুর্যকে একেবারের মতন নষ্ট করে দিয়েছে। সাথে আরও আছে মানুষের নানাবিধ অসচেতনতামূলক কর্মকান্ড। তবে এতো অনেক পুরোন কথা। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন আরো ভয়াবহ সংবাদ। আর সেটি হচ্ছে এই যে, কেবল এই মানবসৃষ্ট পরিশোধন কার্যক্রমই নয়, গ্রেট ব্যারিয়ার রীফকে ধ্বংস করতে এগিয়ে এসেছে হার্পস বা দাদের মতন একধরনের ভাইরাসও ( আইফলসাইন্স )!

এমনিতে এই ধরনের ভাইরাসকে এর আগেও দেখা গিয়েছে প্রবালের ভেতরে। নানারকম প্রাণীর কাছ থেকে নিজেদের খাবার সংগ্রহ করতো তারা। আর সেটা কাউকে কোনরকম সমস্যায় না ফেলেই। কিন্তু বর্তমানে যে অবস্থা দেখা দিয়েছে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে পুরো জিনিসটা এত ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যে, মনে করা হচ্ছে আগামী ২০৩০ সালে একেবারের মতন ধ্বংসের মুখে পড়ে যেতে পারে এই অসম্ভব সুন্দর স্থানটি। তাও আবার এই ক্ষুদ্র ভাইরাসের দ্বারাই ( জার্নাল. ফ্রন্টিয়ারসিন )।

সম্প্রতি গবেষনাগারে নিয়ে গিয়ে অ্যাক্রোপোরা অ্যাসপেরা প্রবালকে অতিরিক্ত গরম, প্রবল বৃষ্টিপাতসহ আরো নানারকম পরীক্ষার ভেতর দিয়ে পরিচালিত করেছেন গবেষকরা আর জানতে পেরেছেন যে, এই অতিরিক্ত ব্যাপারগুলো সত্যিই প্রবালকে প্রচন্ড নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে আর ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে সাহায্য করে।

এসময় কোরালের ভেতরে হার্পাস ভাইরাস, মেগাভাইরাস ও রেট্রোভাইরাসসহ আরো নানারকমের ভাইরাসের উপাদানকে লক্ষ্য করেন তারা। এমনিতে এরা প্রবালের খুব একটা ক্ষতি না করলেও ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে খানিকটা অনুকূল পরিবেশ পেলেই প্রচন্ডভাবে সাহায্য করে ভাইরাসগুলো একটি প্রবালকে নষ্ট হয়ে যেতে। এসময় একটি প্রবালকে খুবই বাজে আবহাওয়ার ভেতরে রেখে তিন-চারদিন পর সেটাকে পরীক্ষা করেন গবেষকেরা। আর দেখতে পান যে, সেটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে আর আগের চাইতে প্রচুর পরিমাণে বেশি পরিমাণে হার্পাস ভাইরাস দেখা যাচ্ছে তাতে।

গত বছর ন্যাশনাল ওশেনিক এন্ড এটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দেওয়া এক তথ্যানুসারে বেশকিছু বছর ধরেই ভারতীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরের প্রবাল স্তর বৈম্বিক উষ্ণতার শিকার হচ্ছে। আর এরকমটা চলতে থাকলে খুব বেশি দেরি নেই এগুলোর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে। তবে যথেষ্ট সতর্ক সংকেত দেওয়া হলেও এখনো অব্দি এ নিয়ে খুব একটা এগিয়ে আসেনি এখনো কেউই।

পরিবেশ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে