Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-২০-২০১৬

‘ইসলাম শান্তি ও ভালোবাসার ধর্ম, উদাহরণ তাজমহল’

‘ইসলাম শান্তি ও ভালোবাসার ধর্ম, উদাহরণ তাজমহল’

আপনি যখন ‘ইসলাম’ শব্দটি শুনেন, তখন আপনার কী মনে হয়? প্রশ্নটা বাংলাদেশের মানুষদের জন্য নয়, বরং বর্তমান বাস্তবতায় পুরো বিশ্বের জন্য। সত্যি করে বলুন তো, ‘ইসলাম’ শব্দটির সাথে ‘ভালোবাসা’ শব্দটির কোনো মিল খুঁজে পান? বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেকের কাছেই ইসলাম ও ভালোবাসা পরস্পর বিপরীত শব্দ মনে হতে পারে। এখন ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয়। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন ভালোবাসা আর ইসলাম ছিল পাশাপাশি শব্দ। তখন মুসলমান বিশ্বাসের মূলেই ছিল বন্ধু, ঘনিষ্ঠ, পরিচিত, অপরিচিতজনকে ভালোবাসা। এখনও ইসলামের মূল বিশ্বাসগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। সেদিক থেকে ইসলামকে বলা যেতে পারে ‘ভালোবাসার ধর্ম’।

তাজমহল। বহু শতক ধরে আগ্রায় ভালোবাসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক অসাধারণ স্থাপনা, ভালোবাসার প্রতীক। মোঘল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ এ স্থাপনাটি তৈরি করেছিলেন। ১৬৩০ সালের দিকে শাহজাহানের স্ত্রী মমতাজ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। সেসময় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মায়েদের মারা যাওয়া ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু মমতাজ তো আর সাধারণ কোনো নারী নন। তিনি সম্রাট শাহজাহানের স্ত্রী। সম্রাট শাহজাহানকে তৎকালীন বিশ্বে সবচেয়ে ধনী রাজা বলে মনে করা হতো। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ তিনি অনন্য এ স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। শাহজাহান চেয়েছিলেন, তার মৃত্যুর পরও তাদের ভালোবাসা অমর হয়ে থাকুক।

শাহজাহান ছিলেন সুন্নী মতাবলম্বী, কিন্তু মমতাজ ছিলেন শিয়া। কিন্তু শিয়া-সুন্নী মতবিরোধ তাদের কাছে আসায় কোনো বাধা হলো না। তারা পরস্পরের কাছে আসলেন। প্রেমে পড়লেন। বিয়ে করলেন। তাদের সন্তানেরা পরবর্তীকালে রাজ্য শাসন করেছে। প্রত্যেকে এখন একই সারিতে সমাহিত।
এখকার যুগে যেসব আত্মজীবনী বের হচ্ছে, তার অধিকাংশই আধুনিক ও উন্নত জীবনের মিশেল। জীবনীকার আগের যুগের মানুষদের সাথে নিজের তুলনা করছেন। কিন্তু এসব জীবনীগুলোয় জীবনীকারের ব্যক্তিগত দর্শন, অনুভূতি, নিজের জীবনের ভুলগুলোর উল্লেখ তেমন একটা করেন না। সেদিক থেকে সেন্ট অগাস্টিনের ‘কনফেশন’কে আমরা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে পারি। কিন্তু মোঘল সম্রাট বাবরের আত্মজীবনী ‘বাবর নামাহ’ সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই জানে না। এটি সম্রাট বাবরের আত্মজীবনী। এটিতে বাবর অত্যন্ত উদার ও সৎভাবে নিজের জীবনের বর্ণনা দিয়েছেন। পূর্বপুরুষদের স্নেহ সান্নিধ্যে কীভাবে বেড়ে উঠেছিলেন, তারও নির্মোহ বর্ণনা দিয়েছেন বাবর।

মোঘল সাম্রাজ্য ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এ সাম্রাজ্য ছিল ঔপনিবেশিকতার, ক্ষমতার, শক্তির, ঐশ্বর্যের, সংস্কৃতির। যদিও সেসব এখন বহু অতীত, কিন্তু বর্তমান বিশ্বে ইসলামকে যেভাবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে, সে প্রেক্ষাপটে মোঘল সাম্রাজ্যের কিছু বিষয় এখনো আলোচনার দাবি রাখে। ইসলাম কেমন ধর্ম, তার একটা চিত্র পাওয়া যেতে পারে বহু শতক আগের সেসময়কাল থেকেও। বর্তমান প্রেক্ষাপটের ইসলামের সাথে মোঘল আমলের ইসলামের তুলনা করেছেন ওয়াশিংটন পোস্টের হারুন মুঘল।

ওয়াশিংটন পোস্টে নিজের কলামে তিনি লিখেছেন, ‘আমি অতীতকে খুব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করিনি। আমি মনে করি, সেসময়ের মুসলিম সাম্রাজ্যবাদের সাথে আধুনিক মুসলিমদের কোনো সম্পর্ক নেই। তখন রাজারা শক্তি প্রদর্শন করে রাজ্য দখল করেছেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাদের কাছ থেকে শেখার কিছু নেই’।

মোঘল সম্রাটরা তাদের সমকালীন প্রায় সব শাসকদের তুলনায় অধিক সহনশীল ও ধৈর্যশীল ছিলেন। তারা তাদের সময়ের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে ছিলেন এবং শুধু মুসলমানদের সাথেই নিজেদের তুলনা করতেন না। সেখানে আধুনিক যুগের ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র কিংবা মানবাধিকারেরও কোনো বিষয় ছিল না। কিন্তু তা সত্বেও কোনো মোঘল শাসক তাদের প্রজাদের ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করেননি।  

তারা কৃষ্টি ও সংস্কৃতির চর্চা করতেন। মোঘল আমলের বহু স্থাপনা এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। মোঘল সম্রাটরা স্থাপনা ও ঐতিহ্য ধংসের পরিবর্তে সেগুলো সযত্নে সংরক্ষণ করে গেছেন। সেসব ঐতিহ্যের মূলে আছে ভালোবাসা। রুমির কবিতায় মূল যে বক্তব্য রয়েছে, সেটি হচ্ছে ভালোবাসা। রুমির কবিতা এখনো সারা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। 

সবকিছু হিসেবের বাইরে রাখলেও মুসলমানরা এমন একজন সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখেন, যাকে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না। কিন্তু মুসলিম বিশ্বাস অনুসারে তিনি সর্বময় ক্ষমতার মালিক। সৃষ্টিকর্তার প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা না থাকলে এ বিশ্বাস স্থাপন সম্ভব নয়। মুসলিম বিশ্বে ভালোবাসা বহিঃপ্রকাশের অন্যতম বড় উদাহরণ হচ্ছে, মতবিরোধ ভুলে শিয়া-সুন্নির বিয়ে। তাজমহল ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এটি সারা বিশ্বে মুসলিম স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং শুধু ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এটি। তাজমহলের বিভিন্ন স্থানে কোরআনের আয়াত খচিত আছে।

তাজমহলকে শুধু শাহজাহান-মমতাজের ভালোবাসার নিদর্শন বললে ভুল বলা হবে। মানুষের কাছে এর বহু রকম অর্থ অাছে। তাজমহল শিয়া-সুন্নি ঐক্যেরও প্রতীক। এটি মুসলমানদের এমন এক সময়ের নির্দেশক যেখানে নিজের প্রতি, সৃষ্টিকর্তার প্রতি, পরিবার ও প্রতিবেশীদের প্রতি ভালোবাসার প্রাধান্য ছিল সবচেয়ে বেশি। এমন একটি সময়, যেটি বারবার ফিরে আসা উচিত।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে