Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-১৯-২০১৬

বঙ্গ কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে সিপিএমের সিলমোহর

বঙ্গ কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে সিপিএমের সিলমোহর

কলকাতা, ১৯ ফেব্রুয়ারী- পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে অবশেষে সিপিএমের সিলমোহর পড়ল। সরাসরি কংগ্রেসের নাম না করেও প্রকারান্তরে তাদের সঙ্গেই জোটবদ্ধ হয়ে এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের মোকাবিলার প্রশ্নে সায় দিল সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি। এক দিনের পলিটব্যুরো ও দুই দিনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সিপিএম এই সিদ্ধান্ত নেয়, যাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরী।

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে সিপিএম তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা করবে কি না, প্রশ্ন ছিল সেটাই। দলের রাজ্য নেতৃত্বের বেশির ভাগই এই জোটের পক্ষে। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে গণতান্ত্রিক পরিবেশটাই নষ্ট করে দিয়েছে। এই অবস্থায় কংগ্রেসসহ অন্য গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির এক জোট হওয়া প্রয়োজন। না হলে বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসেরই সুবিধা হবে। রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকের পর গত সপ্তাহে এই প্রস্তাবই পাঠানো হয়েছিল সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটিতে। বুধ ও বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিবৃতিতে রাজ্য কমিটির ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেয়। তবে বিবৃতিতে কংগ্রেসের নাম উচ্চারণ করা হয়নি। কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি জোটবদ্ধ হওয়ার কথাও বলা হয়নি। কিন্তু কৌশলে সেই জোটের কথাই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গে প্রধান কাজ হলো গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা এবং মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে হারানো। সে জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাত করতে হবে। এই কাজে রাজ্যের সব গণতান্ত্রিক শক্তির সাহায্য সিপিএম চাইবে, যাতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাস্ত করা যায় ও বিজেপিকে বিচ্ছিন্ন করা যায়।’

সিপিএম যাতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ না হয় সে জন্য প্রবল চাপ ছিল কেরালা ও ত্রিপুরার রাজ্য নেতৃত্বের অধিকাংশ এবং দলের ‘কেরালা লবির’। প্রকাশ কারাটের নেতৃত্বাধীন এই কেরালা লবির জন্যই ১৯৯৬ সালে জ্যোতি বসু দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি, সিপিআই রাজি হলেও সিপিএম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়নি এবং পরমাণু চুক্তির প্রতিবাদে ২০০৮ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের ওপর থেকে তারা সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। দলীয় নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘কেরালা লবি’র কাছে বারবার পরাস্ত হতে হয়েছে ‘বেঙ্গল লবি’কে। এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য নেতৃত্ব নিজেদের ইচ্ছা-প্রতিষ্ঠায় সফল হলো।

রাজ্যে বিধানসভার ভোট নিয়ে কাদের সঙ্গে কথা বলা হবে, আসন সমঝোতার চরিত্র কী হবে, কে কত আসনে লড়বে—এসব বিষয়ে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী তাদের প্রস্তাব সিপিএম পলিটব্যুরোর কাছে পাঠাবে। কংগ্রেস হাইকমান্ডও অপেক্ষায় ছিল সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির রায় জানতে। এখন কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে ঠিক করতে হবে তারা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য নেতাদের মতামতকে প্রাধান্য দেবে কি না।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে