Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-১৯-২০১৬

মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে সিন্ডিকেট থাকবে না

মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে সিন্ডিকেট থাকবে না

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারী- ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জনশক্তি নেয়া হবে। নির্দিষ্ট কোন এজেন্সি বা  গ্রুপ এ প্রক্রিয়ায় একচেটিয়া সুযোগ পাবে না। অনিয়মের অভিযোগ থাকা কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি যুক্ত হতে পারবে না জনশক্তি পাঠানোর এ প্রক্রিয়ায়।  

জনশক্তি পাঠানো নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সইয়ের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ঢাকা সফররত মালয়েশীয় মানবসম্পদমন্ত্রী সেরি রিচার্ড রায়ট আনক জিম। 
 
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ইস্কাটনস্থ প্রবাসী কল্যাণ ভবনে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া আগামী তিন বছরে ১৫ লাখ কর্মী পাঠানো নিয়ে জিটুজি প্লাস চুক্তি সই করে।
 
রিচার্ড রায়ট আনক জিম বলেন, ‘স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া হবে। এতে কোনো মনোপলি (একচেটিয়া) থাকবে না। বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সির (বিআরএ) মধ্যে যাদের সুনাম ও স্বচ্ছতা আছে তারা কর্মী পাঠাতে পারবে। একইসঙ্গে রিচার্ড জিম বেলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত কিংবা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কর্মী হিসেবে মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন না।’

কর্মী যাওয়া কবে নাগাদ শুরু হবে জানতে চাইলে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘আজ চুক্তিতে সই হল। এরপরের কার্যক্রম হল, যারা কাজ করতে (মালয়েশিয়া) যেতে ইচ্ছুক তারা খুব শিগগিরই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। তাই কয়েক দিনের মধ্যে এর কার্যক্রম শুরু হবে।’

ন্যূনতম মজুরির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এর আগে ‘জিটুজি’ চুক্তিতে কর্মীর ন্যুনতম মজুরি ছিল ৮শ’ থেকে ৯শ’ রিঙ্গিত। নতুন চুক্তিতেও আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী এবং স্থানীয় শ্রমিকরা যেটা পায়, সেটা অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না।’


বাংলাদেশের প্রশংসা করে মালয়েশিয়ার এই মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অতিথিপরায়ণতা দেখে আমি অভিভুত। আমাদের দেশে ইতিপূর্বে ‘জিটুজি’ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি শ্রমিক যাচ্ছিল। আজকের এই চুক্তির (‘জিটুজি প্লাস) মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর গতি বৃদ্ধি পাবে। এই চুক্তির মধ্যে কর্মীর অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো লোক পাঠাতে পারবে। আজকে শুধু স্বাক্ষর হল, এরপর থেকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও-এর মাধ্যমে বাকি কার্যক্রম চুড়ান্ত করা হবে। এ চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশই উপকৃত হবে।’

চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘পাঁচ বছরের জন্য এই চুক্তি সই হয়েছে। পরবর্তীতে এ সময় বাড়ানো যাবে। অতীতে মালয়েশিয়ায় শুধু প্লানটেশন খাতে কর্মী গেলেও নতুন চুক্তি অনুযায়ী কনস্ট্রাকশন, সার্ভিস, প্লান্টেশন, অ্যাগ্রিকালচার এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কর্মী যেতে পারবে।’ 

বিএমইটির ডাটাবেইজ থেকে কর্মী নিয়োগ করা হবে। কর্মীর অভিবাসন ব্যয় হবে ৩৪ হাজার থেকে ৩৭ হাজার টাকার মধ্যে। কর্মীর অন্যান্য খরচ মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা বহন করবে বলে জানান তিনি।

‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তির শর্তগুলো তুলে ধরে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, নিয়োগকর্তা ও কর্মীর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিপত্র মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন সত্যায়ন করবে। এক্ষেত্রে কর্মীর প্রতিস্থাপনে সুযোগ থাকবে না। কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ার কোনো দুর্বলতা ও অভিযোগ থাকলে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিকারের ব্যবস্থা নিবে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব বেগম শামসুন নাহার, কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলামসহ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

মালয়েশিয়ার পক্ষে সেদেশের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল (পলিসি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল) মোহাম্মদ সাহার দারুসমান, শ্রম বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জেফরি বিন জোয়াকিম, আন্ডার সেক্রেটারি (লেবার পলিসি ডিভিশন) বেটি হাসান, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কর্মকর্তা রবার্ট দাপান, অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি (লেবার অব পলিসি ডিভিশন) সতিশ শ্রীনিভাসান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি (ফরেন ওয়ার্কাস ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন) মোহাম্মদ জামরি বিন মাত জাইন এবং ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ান রাষ্ট্রদূত নূর আশিকান বিনতি মোহাম্মদ তিয়াব উপস্থিত ছিলেন।
 
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকার পর ২০১২ সালে শেষের দিকে ‘জিটুজি’ চুক্তি করে বাংলাদেশ। এরইপ্রেক্ষিতে বিগত প্রায় ৩  বছরে এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ হাজারের মতো কর্মী যায় মালয়েশিয়ায়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় গতি না থাকায় সমুদ্রপথেই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করে হাজারো মানুষ। এরপর জিটুজি পদ্ধতি সংস্কার করে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও (বিটুবি) অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরিবর্তে ‘জিটুজি’ সংস্কার করে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে