Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (32 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-১৮-২০১৬

জলঢাকায় পাল আমলের মন্দিরের সন্ধান

মীর মাহমুদুল হাসান


জলঢাকায় পাল আমলের মন্দিরের সন্ধান

নীলফামারী, ১৮ ফেব্রুয়ারী- নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের গড় ধর্মপাল গ্রামে পাল আমলের মন্দিরের সন্ধান পাওয়া গেছে।

গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, গড় ধর্মপাল গ্রামে মন্দিরের দেয়ালসহ স্থাপনা ঢেকে রাখা হয়েছে পলিথিন দিয়ে। তা দেখতে দূরদূরান্তের নানা বয়সের মানুষ দল বেঁধে আসছেন। সেখানে দুজন নিরাপত্তা প্রহরী রেখে প্রত্নতাত্ত্বিক দল প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে একই ইউনিয়নের পাইটকাপাড়া শাহ্ গোরক কামাল (রহ.) পীরের মাজার এলাকায় গেছে।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও খননকাজ চলছে। কাজ তদারক করছেন খনন দলের সদস্য এস এম হাসানাত বিন ইসলাম। তিনি বগুড়ার মহাস্থান জাদুঘরের অ্যাসিস্ট্যান্ট কাস্টোডিয়ান। এ সময় তিনি বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানার নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন দলের সদস্যরা গত ২ জানুয়ারি পরীক্ষামূলক খনন শুরু করেন। প্রথমে তাঁরা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ধরে কিছু স্থান চিহ্নিত করেন। এরপর পাঁচটি সেক্টরে খননকাজ শুরু করা হয়। ১ ও ২ সেক্টরে কিছু পাওয়া না গেলেও ৩ ও ৪ নম্বর সেক্টরে সামান্য কিছু মৃৎপাত্র পাওয়া যায়। এরপর পঞ্চম সেক্টরে বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান পাওয়া যায়। বৌদ্ধ মন্দিরের চারদিকে প্রদক্ষিণের পথ থাকে। সন্ধান পাওয়া মন্দিরের চারদিকে ঘোরার পথ রয়েছে। সে হিসেবে এটি বৌদ্ধমন্দির ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৩ ফেব্রুয়ারি প্রত্নতত্ত্ব দলটি ওই মাজার এলাকায় গিয়ে খননকাজ শুরু করে। এরপর হাজীপাড়া জামে মসজিদ, সতিষের ডাঙ্গাসহ আরও কয়েকটি স্থানে খননকাজ পরিচালনা করা হবে। ধারণা করা হয়, বৌদ্ধ মন্দিরটির আয়তন ছিল ১২ দশমিক ২৫ মিটার। এর চারদিকে সীমানাপ্রাচীর পাওয়া গেছে।
পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান আমীর আলী বলেন, ধর্মপাল ওই এলাকা শাসন করেছিলেন। তাঁর আমলে জলঢাকা উপজেলার বর্তমান ধর্মপাল ইউনিয়ন এবং ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের কিছু অংশে রাজধানী স্থাপন করা হয়েছিল। বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রাসাদের বাইরে মাটির উঁচু প্রাচীর তৈরি করা হয়। সেই থেকে ওই এলাকাটির নাম হয় গড় ধর্মপাল বা ধর্মপালের গড়।

স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রয়াত সাংবাদিক সামসুল হুদা জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘ধর্মপাল বাঁচাও’ আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৭ সালে ধর্মপালকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এর রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় মূল্যবান অনেক কীর্তি হারিয়ে গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করে একটি জাদুঘর স্থাপন এবং পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণা করা হোক। সাংসদ বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে দুই দিন জাতীয় সংসদে আলোচনা করেছি। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি এ বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক।’

নীলফামারী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে