Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-১৭-২০১৬

যুদ্ধ ওদের স্কুলে যাওয়া থামাতে পারেনি 

যুদ্ধ ওদের স্কুলে যাওয়া থামাতে পারেনি 

দামেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারী- সিরিয়ায় ২০১১ সালে আরব বসন্তকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাত বলতে গেলে এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা তো দেখা যাচ্ছেই না, বরং সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলেই মনে হচ্ছে। বাশার আল আসাদের বাহিনীসহ মোট ছয়টি বাহিনী দেশটিতে পরস্পরবিরোধী যুদ্ধে লিপ্ত। সিরিয়াকে এখন বলা যায় একটি ধ্বংসস্তূপ। আর এ ধ্বংসস্তূপের তালিকায় যে এলাকাটির নাম শুরুতেই আসে সেটি হলো আলেপ্পো।

বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ার সবচেয়ে বড় এই শহরটিতে রুশ বিমান বাহিনীর সহায়তায় হামলা অব্যহত রেখেছে আসাদ বাহিনী। তারা চাইছে এলাকাটি পুনরায় নিজেদের অধিকারে নিতে। তবে ছাড় দিতে নারাজ বিদ্রোহীরাও। দুপক্ষের এ লড়াইয়ের শিকার লাখ লাখ নিরীহ মানুষ। ইতিমধ্যে আলেপ্পোর প্রায় লাখ খানেক মানুষ পাড়ি জমিয়েছে তুর্কি সীমান্তে। 

যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী সিরিয়ার শিশুরা। মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো থেকেই শুধু তারা বঞ্চিত নয়, জীবনের নিরাপত্তা পর্যন্ত নেই সেখানে। তবে জীবনের এই নিরাপত্তাহীনতা দেশটির অনেক শিশুর স্কুলে যাওয়াই থামাতে পারেনি। প্রতি মুহূর্তে বিমান হামলার ভয় নিয়েও মানবিক সংকটের নগরী আলেপ্পোর কিছু শিশু তাদের স্কুল গমন অব্যহত রেখেছে। 

স্কুলগুলোতে উপস্থিতির হার খুব কম। আছে নামমাত্র একটি পাঠ্যক্রম। তার ওপর অব্যহত বিমান হামলা আর শিক্ষক সংকটের কারণে আলেপ্পোর অধিকাংশ স্কুলই বন্ধ। এর মধ্যে যে কয়টি স্কুল খোলা আছে সেখানে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে অনেকে। 

গত পাঁচ বছরের যুদ্ধে তৈরি হওয়া ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে হেঁটে প্রতিদিন স্কুলে যায় ১৬ বছরের সামির আত্রাশ। সে আলেপ্পোর একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। ইতিহাস এবং ভূগোল কঠিন মনে হয় তার কাছে। তবে সামিরের প্রিয় বিষয় হিসাব বিজ্ঞান আর শারীরিক শিক্ষা।   

আলেপ্পোর আরেক বাসিন্দা ১৫ বছরের সাদি আল-আগা। বাবার সাথে নিজেদের কফির দোকানে কাজ করে সে। সাদিও চালিয়ে যাচ্ছে তার পড়াশুনা। তার পছন্দের বিষয় আরবি। বড় হয়ে আরবি ভাষার শিক্ষক হতে চায় সাদি। তবে হামলার ভয়ে সাদিকে স্কুলে যেতে দিতে চান না তার বাবা। 

২০১২ সালে সিরিয়াতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্কুলগুলো হামলার লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। আর এ কারণে অনেক মা-বাবা তাদের সন্তানদের স্কুলে যেতে দিতে চায় না। শিশু বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’র এক পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত আলেপ্পোর ৩০টির বেশি স্কুল হামলার শিকার হয়েছে। স্কুলগুলোতে বিমান হামলা চালাচ্ছে মূলত রুশ বিমান বাহিনী।        


যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনেক স্কুলের মতো আত্রাশের স্কুলটিও দুই বছর ধরে বন্ধ ছিল। আত্রাশের ভাষায়, ‘আমি এবং আমার সহপাঠিরা দুই বছর ধরে স্কুলে যেতে পারিনি। এখানে স্কুলে যাওয়া খুব কঠিন। এখন স্কুল খুলেছে। তবে বিমান হামলা চলছে। তারপরও আমাদের স্কুলে যেতে হয়।’

সিরিয়ার একটি এনজিও সংস্থার কর্মী কেশ মালেক জানান, আলেপ্পোতে বর্তমানে ১৩০টি স্কুল চালানো সম্ভব হচ্ছে। আগের চেয়ে হামলা কিছুটা কমে যাওয়ায় অনেক শিক্ষকরা স্কুলে আসতে শুরু করেছেন। 

আলেপ্পোর শাকার হালাক স্কুলের শিক্ষক মজিদ মারাই’র শ্রেণিতে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী আছে। তাদের ইংরেজি ভাষা শেখান মজিদ। তিনি জানান, যুদ্ধের পর অনেক শিক্ষার্থীদের আচরণে পরিবর্তন এসেছে। তারা প্রাপ্ত বয়স্কদের মতো আচরণ করে। এটা প্রথমে দেখতে ভালো লাগে। তবে তাদের শৈশবকালের জন্য এ আচরণ ঝুঁকিপূর্ণ। স্কুলগুলো আগের চেয়ে এখন অনেকটা নিরাপদ। 

তবে অর্থের অভাবে ক্ষতিগ্রস্থ অনেক স্কুলের মেরামত সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা মজিদ। এছাড়া নতুন করে কোনো পাঠ্যক্রম রচনা করাও সম্ভব হচ্ছে না। সিরিয়ার শিক্ষা বিভাগের পরিচালক আইমান আমর হাশেম জানান, স্কুলগুলোর পাঠ্যক্রম সংস্কার করা দরকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোও মেরামত করা দরকার।  

স্কুলগুলো মেরামত করতে স্থানীয় সরকারের এখন সবচেয়ে বেশি দরকার অর্থ সহায়তা। বিদেশ থেকে অবশ্য কিছু অর্থ সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এছাড়া এ সহায়তাগুলো বেশিরভাগই আসছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। তারা রাজনৈতিক বিবেচনায় সহায়তা দিয়ে থাকে।    


আশার কথা হচ্ছে, সিরিয়ার স্কুলগুলো খুলতে শুরু করেছে। জীবনের ঝুঁকি নেয় হলেও অনেকে স্কুলে যেতে শুরু করেছে। আত্রাশ জানায়, যখন উপর থেকে বোমা বর্ষণ শুরু হয়, তখন সে তার মাথার ওপরে হাত দিয়ে টেবিলের নিচে ঢুকে পড়ে।

মধ্যপ্রাচ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে