Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-১৫-২০১৬

অবসর সুবিধায় আইন পেশা: মীর কাসেমের মামলা ছাড়লেন বিচারপতি নজরুল

অবসর সুবিধায় আইন পেশা: মীর কাসেমের মামলা ছাড়লেন বিচারপতি নজরুল
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারী- অবসরোত্তর সুবিধায় থাকা অবস্থায় যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর পক্ষে মামলা লড়তে এসে সমালোচনার মুখে ওই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন হাই কোর্টের সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

সোমবার মীর কাসেমের আপিল মামলার তৃতীয় দিনের শুনানির উপস্থিত হয়ে তিনি আদালতের কাছে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বলেন। পরে তিনি বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের বলেন, “প্রচণ্ড বৈরী পরিবেশের কারণে আমি এ মামলার কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছি।”

এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি  বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী এই আপিল মামলায় দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে উপস্থিত হয়ে পেপারবুক থেকে অভিযোগ পড়ে শোনান। ওইদিনই তার অবসরোত্তর সুবিধায় থাকার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

পরে মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, নজরুল ইসলাম চৌধুরী হাই কোর্টের বিচারক হিসেবে অবসরকালীন সুবিধায় সরকারি বাসভবন, গাড়ি ও গানম্যান পাচ্ছেন। এ অবস্থায় আইনজীবী হিসেবে মামলা লড়া ‘নৈতিকতার চরম বিরোধী’।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সেদিন বলেছিলেন, সাবেক ও বর্তমান বিচারপতিরা রীতি ও আইন মেনে চলবেন বলেই তিনি আশা করেন। এ নিয়ে নানামুখি আলোচনার মধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ১১ ফেব্রুয়ারি বলেন, এখন উচ্চ আদালতের বিচারকদের জন্যও আচরণবিধি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার মীর কাসেমের আপিল মামলায় আদালতে আসেন নজরুল ইসলাম, যার শুনানি চলছে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চে।

মীর কাসেমের আইনজীবীর দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার কথা জানিয়ে আদালতকে তিনি বলেন, “স্যরি মাই লর্ড। অন্য দুজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রয়েছেন। আমি নিজেকে প্রত্যাহার করতে চাইছি।” এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনি এই মামলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করছেন?” উত্তরে বিচারপতি নজরুল বলেন, “ইয়েস।”

পরে আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও আইনজীবী হিসেবে মামলায় অংশ নেওয়ার অধিকার আমার রয়েছে। এটি অসাংবিধানিক বা অনৈতিক নয়।”

সাবেক এই বিচারক জানান, গতবছর ১২ ডিসেম্বর অবসরে যাওয়ার পর ৩ জানুয়ারি থেকে তিনি নিয়মিত আপিল বিভাগের বিভিন্ন মামলার শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে মীর কাসেমের মামলা ছাড়াও আরও দুটি মামলায় তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিপরীতে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন।

“অন্য মামলার ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেল কোনো প্রশ্ন না তুললেও এ মামলায় (মীর কাসেম) আমার অংশ নেওয়ার বৈধতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যা অনাকাঙ্ক্ষিত।” এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদের ২ এর (১) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর আপিল বিভাগে ওকালতি করতে পারেন। সে অনুযায়ী বিচারপতি নজরুল ইসলামের আইন পেশায় নিয়োজিত হতে বাধা না থাকলেও অবসরোত্তর ছুটিতে সরকারি সুবিধায় থাকা অবস্থায় তার এ ভূমিকায় আদালতে আপত্তি তুলেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী ২০০১ সালের ৩ জুলাই হাই কোর্ট বিভাগে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০০৩ সালের ৩ জুলাই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে পাস করার পর তিনি আইন পেশায় আসেন এবং ১৯৭৭ সালে হাই কোর্টে ও ১৯৯২ সালে আপিল বিভাগে তালিকাভুক্ত হন।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে