Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-১৫-২০১৬

দেশে শিশুদের রক্ত ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি

দেশে শিশুদের রক্ত ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারী- বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে রক্ত ক্যানসারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে চোখের ক্যানসার। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) একটি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের বেশির ভাগই সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশে ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তির সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে জাতীয় কোনো সমীক্ষা নেই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সারা বিশ্বে প্রতিবছর দেড় লাখের বেশি শিশুর ক্যানসার ধরা পড়ে। মানসম্মত পরিচর্যা পেলে ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের ৮০ শতাংশই সেরে ওঠে এবং পরিপূর্ণ সুস্থ জীবন যাপন করতে পারে। তবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর অনেক শিশু পুরোপুরি চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা পায় না। ফলে ক্যানসারে শিশুমৃত্যুর অন্তত ৯০ শতাংশই ঘটে দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলগুলোতে। এ পরিস্থিতিতে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু ক্যানসার দিবস।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০১২ সালের জুলাই মাস থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ক্যানসারে আক্রান্ত ৫৫৭ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ২৬০ জনই লিউকেমিয়ায় (রক্তের ক্যানসার) আক্রান্ত।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেলের শিশু রক্তরোগ ও ক্যানসার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান আমিরুল মোরশেদ বলেন, ক্যানসারের মূল কারণ জিনগত পরিবর্তন (মিউটেশন)। তবে এ পরিবর্তন ঠিক কী কারণে হয়, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। ধারণা করা হয়, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও কীটনাশকের ব্যবহারের কারণে এই জিনগত পরিবর্তন ঘটতে পারে।

নিপসমের জরিপটি করেছে প্রতিষ্ঠানটির অকুপেশন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক জিয়াউল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল। ২০১১ সালে ক্যানসারের জন্য বিশেষায়িত কিছু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৯৯ জন শিশুর মধ্যে এ জরিপটি করা হয়। তাদের ৪০ দশমিক ৪ শতাংশের বয়স ৬-১০ বছর। মফস্বল থেকে আসা শিশুর সংখ্যা ছিল ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ, ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ গ্রামের এবং ২৭ দশমিক ২ শতাংশ শহরাঞ্চলের। এদের মধ্যে ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ পাকা বাড়িতে বাস করে।

জরিপের ফলাফল-সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি গত বছর বাংলাদেশ জার্নাল অব মেডিকেল সায়েন্স-এ ছাপা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, শিশুদের রক্ত ক্যানসারের হার সবচেয়ে বেশি (৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ)। রেটিনেব্লাস্টোমায় (চোখের ক্যানসার) ১৪ দশমিক ১ শতাংশ, নিউরোব্লাস্টোমায় (স্নায়ুকোষের ক্যানসার) ১০ দশমিক ১ শতাংশ এবং উইলমস টিউমারে (কিডনির ক্যানসার) আক্রান্ত ছিল ১০ দশমিক ১ শতাংশ শিশু।

জরিপে দেখা যায়, রক্ত ক্যানসারে আক্রান্তদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ শিশু শহরাঞ্চলে, চোখ ও টিউমার ক্যানসারে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ মফস্বলে এবং স্নায়ু ক্যানসারে আক্রান্তদের অর্ধেকই গ্রামে বাস করে।

জিয়াউল ইসলাম বলেন, ২০১০ সালের অন্য একটি জরিপের চেয়ে তাঁদের জরিপে শিশুদের ক্যানসারের হার বেড়েছে। গ্রামাঞ্চল থেকে আসা অধিকাংশ শিশুর ক্যানসার ধরা পড়েছে শেষ পর্যায়ে। প্রাথমিক অবস্থায় হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়ে সাময়িক সুস্থতা লাভ করলেও পরে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে। একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ক্যানসার নির্ণয় হলে চিকিৎসা খুব বেশি কার্যকর হয় না।

গত শনিবার ঢাকা মেডিকেলের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, সাড়ে আট বছরের একটি ফুটফুটে মেয়ে ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছে। তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দুই মাস ধরে প্রায়ই জ্বরে ভুগত সে। গিরা ব্যথা, হাঁটতে অসুবিধা, খাবারে অরুচি আর কাশিও ছিল। পরে তার রক্তে ক্যানসার ধরা পড়ে।

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জোহ্রা জামিলা খান জানালেন, খাদ্যে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান, খাদ্য সংরক্ষণের জন্য মিশ্রিত বিষাক্ত পদার্থ, খাদ্যে ভেজালের কারণেও জিনগত পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়। গর্ভাবস্থায় এক্স-রে বা অন্য কোনো বিকিরণের সংস্পর্শেও শিশু ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারে।

দ্রুত রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করা গেলে ক্যানসার রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যেতে পারে বলে জানান জোহ্রা জামিলা খান। তাঁর পরামর্শ, শিশু যদি খুব দ্রুত ফ্যাকাশে হয়ে যায়, শরীরে লাল বা কালো চাকা দেখা যায়, যদি দ্রুত ওজন কমে যায়, ঘন ঘন জ্বর হয়, পেটে অস্বাভাবিক কোনো চাকা অনুভূত হয়, পেট, গলা, কুঁচকি বা বগলে কোনো গোটা বের হয়, চোখের মণি সাদা হয়ে যায়, হাড়ে অস্বাভাবিক ব্যথা হয়, হাড়ের কোনো প্রান্ত বা অস্থিসন্ধি ফুলে যায়, বিনা আঘাতে রক্তপাত হয়, তাহলে দ্রুত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

আরেকজন মা সালমা চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয়। কিডনির একধরনের বিরল ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৩ সালে তাঁর সন্তান আশিক হোসেন চৌধুরী মারা যায়। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। সন্তানের মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের সহযোগিতা করার লক্ষ্যে গড়ে তোলেন ‘আশিক’ নামের একটি সংগঠন। তিনি জানালেন, তাঁর সন্তানও প্রায়ই জ্বরে ভুগত, শরীর খারাপ লাগলে সে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ত। সন্তানের পেটে হাত দিয়ে তিনি অনুভব করেছিলেন, তার পেট বেশ শক্ত হয়ে গিয়েছিল।

২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট এবং আশিক-এ আসা ২০ বছরের কম বয়সী ক্যানসার রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ১৮২। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুদের ক্যানসারের সঠিক কারণ জানা যায় না। তাই এর কারণ নির্ণয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা হওয়া প্রয়োজন এবং দ্রুত রোগনির্ণয়ের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে