Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-১৪-২০১৬

রাজকীয় ভালোবাসা- ল্যান্সেলট ও গুয়েনেভের

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি


রাজকীয় ভালোবাসা- ল্যান্সেলট ও গুয়েনেভের

ভালোবাসা মানেনা কোন নিয়ম, বাধা কিংবা সমাজ। রীতি-নীতি, ভিন্নতা আর পিছুটানের ভয়ে কখনোই মাথা নোয়ায় না সে। দুজন মানুষের খুব আলতো স্পর্শ আর যত্নের মাঝে একটু একটু করে গড়ে ওঠে শক্ত আর মজাবুত ভালোবাসার গাঁটছড়া। তবে তা বলে প্রতিটি ভালোবাসার গল্পই কিন্তু অমর আর পরিচিত হয়ে ধরা দেয়না সবার চোখে। আজ অব্দি এমন কিছু ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে পৃথিবীতে যেগুলোর ভেতরে কেবল দুজন মানুষের মনের গল্পই নেই, আছে হাজারো জনের তিক্ত প্রতিহিংসা, রাগ আর ঘৃণার আগুন। তবে যে আগুন যতটাই উগ্র হোক না কেন তাতে কিন্তু ভালোবাসার বন্ধনগুলোর এতটুকু এদিক-সেদিক হয়নি। নিজেদের ভালোবাসার মানুষকে হারিয়েও ঠিকই মনের ভেতরে জুড়ে থাকা তার অবস্থানকে নিয়ে কাটিয়ে গিয়েছে এই প্রেমীরা নিজেদের বাকীটা জীবন। বেঁচেছে নিজেও, আর বাঁচিয়ে রেখেছে নিজেদের ভালোবাসাকেও সবার মাঝে। আর এই তালিকার শত-শত নামের মাঝে আজ আপনাদেরকে শোনাব ল্যান্সেলট আর গুয়েনেভেরের কথা।

গল্পটা আর দশটা প্রেমের গল্পের মতন নয়। আর এই ভিন্নতার অন্যতম কারণ হচ্ছে এর পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষের থেকে অনেকটা দূরে রাজপ্রাসাদের কঠিন দেয়ালে জন্ম নিয়েছিল এই ভালোবাসার অঙ্কুর। একটু একটু করে রূপ নিয়েছিল মহীরূহের। সেসময় রাণী গুয়েনেভের রাজা আর্থারের বিয়ে করা স্ত্রী। আর্থার কি কম ভালোবাসতেন নিজের স্ত্রীকে? না! গুয়েনেভের আর আর্থারের ভালোবাসাটা ছিল আর দশটা সাধারণ স্বামী-স্ত্রীর মতনই। বেশ চলে যাচ্ছিল এই দুজনের দিনকাল। হঠাত্ সেসময় তাদের সংসারে হানা দেয় তৃতীয় একটি নাম- ল্যান্সেলট। আর্থারের বাহিনীর এক দুর্ধর্ষ আর সাহসী বীর নাইট (হিস্টরি এন্ড উইমেন)।

প্রথম দেখাতেই গুয়েভেরেকে ভালোবেসে ফেলে এই ল্যান্সেলট। রাজার স্ত্রী জেনেও বারবার চেষ্টায় থাকে গুয়েননেভেরের ভালোবাসা পাওয়ার। প্রথমদিকে না বরলেও একটা সময় গিয়ে ল্যান্সেলটের ভালোবাসায় সাড়া দেয় গুয়েনেভের। জন্ম নেয় তাদের ভালোবাসা। যদিও এর ভেতরে বেশ অনেকটা সময় কেটে গিয়েছিল। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু হঠাত্ করেই প্রাসাদের কিছু মানুষের সন্দেহের কারণ হয় ল্যাঞ্চেলট। এই নাইটের বাড়িতে হঠাত্ এক রাতে আর্থারের দুই ভাতিজা আগ্রাভিয়ান আর মদ্রেদ হানা দেয়। ঘরে তখন ল্যান্সেলট আর গুয়েনেভের দুজনই ছিলেন।

মারামারি করে ল্যান্সেলট পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও গুয়েনেভের ধরা পড়ে যায়। তার শাস্তি হিসেবে আগুনে পুড়িয়ে মারাকে নির্ধারন করা হয়। নিজের জীবনের কোন ভয় ছিলনা ল্যান্সেলটের। ততদিনে পালিয়ে গিয়েছে সে অনেক দূরে। কিন্তু গুয়েনেভেরের শাস্তির কথা শুনে তাকে বাঁচাতে ছুটে আসে সে। ধরা পড়ে রাজার সৈন্যদের হাতে।

এই সময়ে দুভাগে ভাগ হয়ে যায় আর্থারের পুরো দেশ। তার নাইটরাও ভাগ হয়ে যায়। দেশের ভেতরে প্রচন্ডরকম বিভক্তি কাজ করতে শুরু করে। শেষ অব্দি আগুনের হাত থেকে বেঁচে যায় গুয়েনেভের। তবে জীবনে আর কখনো মিলিত হতে পারেনি এই প্রেমীরা। শেষ জীবনেও ধর্মযাজক আর নান হয়ে মারা যান তারা ( আমোলাইফ )।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে