Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-১৩-২০১৬

সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটা ধ্বংসের পথে

সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটা ধ্বংসের পথে

কিশোরগঞ্জ, ১৩ ফেব্রুয়ারী- গ্রামের নাম মসুওয়া, গ্রামের শ্যমল-সবুজ ছায়াঘেরা শান্ত পরিবেশ। এই গ্রামেই বিশ্ববরেণ্য অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি। অযত্ন অবহেলায় বাড়িটি এখন বিলীন হওয়ার পথে। 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা সদর থেকে ৫ কি. মি. দূরে মসুয়া বাজারের কাছে সেই ঐতিহাসিক বাড়িটি।

এই ঐতিহাসিক বাড়িটির পূর্ব দিকে রয়েছে শান বাঁধানো ঘাট, পশ্চিমে কয়েক একর জায়গা জুড়ে বাড়িটি। পূর্বে প্রাচীর ও সিংহ দরজা ছিল যা এখন নেই। পশ্চিমে জরাজীর্ণ ভবন যা এখন ভূমি অফিস। তার একটু পশ্চিমে গেলেই ডাকঘর। বাড়ির ভেতরে রয়েছে কারুকার্যখচিত প্রাচীন দালান, বাগানবাড়ি, হাতির পুকুর, খেলার মাঠ ইত্যাদি। 

সত্যজিৎ রায়ের পিতামহের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি এখন সরকারের রাজস্ব বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে আছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে ২০১২ সালে ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি রেস্টহাউজসহ বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও রাস্থাঘাট সংস্কার করা হয়। 

এই বাড়িতে ১৮৬০ সালের ১২ মে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়ের পিতামহ প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী। তিনি ছিলেন বিখ্যাত শিশু কিশোর পত্রিকা ‘সন্দেশের’ (১৯১৩) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। তার বাবার নাম ছিল কালীনাথ রায়। পাঁচ বছর বয়সে নিঃসন্তান কাকা হরি কিশোর রায় চৌধুরী তাকে দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেন। বাবার দেয়া কামদারঞ্জন রায় নাম বদলিয়ে রাখেন উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী। কিন্ত দত্তক গ্রহণের বেশ ক‘বছর পর হরি কিশোর রায় চৌধুরী ঘরে নরেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী জন্মগ্রহণ করায় দত্তক ছেলে উপেন্দ্র কিশোরের গুরুত্ব কমতে থাকে। হরি কিশোর রায় চৌধুরী ছিলেন জমিদার। 

উপেন্দ্র কিশোর ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৮৮০ সালে প্রবেশিকা এবং কলকাতা মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট থেকে বিএ পাস করেন। এদিকে, হরি কিশোর রায় চৌধুরী ভবিষ্যতে সম্পদের উত্তরাধিকার নিয়ে নিজের ও দত্তক ছেলের মধ্যে যাতে কোনো সংঘাত না বাধে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এজন্য বাড়ির চার দেয়ালের বাইরে নকশা করে লোহার খুঁটি দিয়ে দত্তক ছেলের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা বাড়ির সীমানা নির্ধারণ করে নেন। লোহার খুঁটিগুলো আজও রয়েছে। 

সেই বাড়িতে উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর ঘরে ১৮৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন জ্যেষ্ঠ ছেলে সত্যজিৎ রায়ের বাবা শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়। জন্মের পরই সুকুমার রায়সহ উপেন্দ্র কিশোর চলে যান কলকাতায়। মাঝে মাঝে নিজ বাড়িতে ছেলে মেয়েদের নিয়ে বেড়াতে আসতেন তিনি। তার মেজো মেয়ে পুণ্যলতার অনেক সাহিত্যকর্মের মধ্যে ছোট বেলার দিনগুলোতে সেকালের মসুয়ার বর্ণাঢ্য রায় চৌধুরীর পরিবারের বিবরণ পাওয়া যায়।

হরি কিশোর রায় চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার ছেলে নরেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী মসুয়ায় জমিদারি লাভ করেন। উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী হয়ে পড়েন কলকাতাকেন্দ্রিক। নাতি সত্যজিৎ রায়ের জন্ম কলকাতাতেই এবং বেড়ে ওঠা সবই হয়েছে কলকাতায়। মসুয়া গ্রামের ভাঙাচোরা সত্যজিৎ রায়ের এই পৈতৃক বাড়িটি দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বহু জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। সত্যজিৎ রায় কোনদিনই এখানে আসেননি। সবাই জানে এটি সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি। এ অঞ্চলের মানুষ মনেপ্রাণে এখনও ধরে রেখেছেন সেই বিশ্ববরেণ্য অস্কার বিজয়ী চলচিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ঐতিহাসিক পৈতৃক বাড়িটি। 

একদা এ বাড়িকে বলা হতো ‘পূর্ব বাংলার জোড়াসাঁকো’। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ বুধবার এ ঐতিহাসিক বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় বৈশাখী মেলা। মসুয়া গ্রামে সত্যজিৎ রায়ের পরিবারের স্মৃতি চিহ্নটুকু ধরে রাখার জন্য গঠিত হয়েছে সত্যজিৎ  রায় স্মৃতি সংসদ। প্রতি বছর ৫ মে পালন করা হয় সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিবস। প্রতিদিন বহু দর্শনার্থী কবি-সাহিত্যিক বাড়িটি পরিদর্শনে আসেন। তাছারা গ্রামের শ্যমল-সবুজ ছায়াঘেরা শান্ত পরিবেশের দুর্নিবার আকর্ষণ তো রয়েছেই।

বাড়িটি সংরক্ষণের নেই কোনো উদ্যোগ। ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি রেস্টহাউজ নির্মাণ করা হলেও তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকে সারাবছর। দর্শনার্থীরা বাড়িটির এ করুণ অবস্থা দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যান। 

এলাকাকাসী ও আগত দর্শনার্থীরা বাংলামেইলেকে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর দিলে ঐতিহাসিক এই বাড়িটিকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে মনোরম নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র।

কিশোরগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে