Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-১২-২০১৬

ক্যানারি দ্বীপে বর্নিল ভ্রমণ (দেখুন ছবিতে)

আফসানা সুমী


ক্যানারি দ্বীপে বর্নিল ভ্রমণ (দেখুন ছবিতে)

ইউরোপিয়ানদের কাছে ক্যানারি দ্বীপমালা একটি চমৎকার ছুটি কাটানোর জায়গা। দ্বীপটির চারিদিকে মোহনীয় বীচ আর চমৎকার রোমাঞ্চকর আবহাওয়া এক অপার্থিব শান্তির আবহ তৈরি করে। প্রতিবছর ১২ মিলিয়ন মানুষ বেড়াতে যায় ক্যানারি দ্বীপে। আপনার ইয়রোপ ভ্রমণে বিখ্যাত সব জায়গার পাশে তালিকায় রাখতে পারেন এই অপূর্ব দ্বীপমালাটিও। জেনে নিই কী কী দেখতে এবং বিশেষ কী কারণে বেড়াতে যাবেন এখানে। 


মাউন্ট টাইড-
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ হল টেনেরিফ। এখানে দেখতে পাবেন পৃথিবীর ৩য় উচ্চতম আগ্নেয়গিরি। এর উচ্চতা ৩,৭১৮ মিটার (১২,১৯৮ ফুট)। মাউন্ট টাইড নামের এই আগ্নেয়গিরিটি স্পেনের সর্বোচ্চ বিন্দু হিসেবে পরিচিত। চমৎকার এবং একই সাথে বিস্ময়কর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ইউনেস্কো ২০০৭ সালে এই আগ্নেয় দ্বীপটিকে বিশ্বের ঐতিহ্যময় স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।


আবহাওয়া-
ক্যানারি আইল্যান্ডের আবহাওয়া অসাধারণ আনন্দদায়ক এবং স্থিতিশীল।  স্থানীয় উষ্ণ ক্রান্তীয় জলবায়ু আর সমুদ্রের শীতল বাতাসের কারণে একটা চমৎকার ভারসাম্য বজায় থাকে যা বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া যায় না। 


স্কুবা ডাইভিং-
ক্যানারি আইল্যান্ড এর সমুদ্র বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রানীদের আবাসস্থল। স্কুবা ডাইভিং বা স্নোর কেলিং এর আসধারণ অভিজ্ঞতা নিতে হলে এই দ্বীপ আদর্শ। বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি এখানে আছে ৫ টি ভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ। বিভিন্ন সময়ে তাদের দেখা পাওয়া যায়। এদের মধ্যে বিপন্ন প্রজাতির লগারহেড কচ্ছপ অন্যতম।


সার্ফিং-
ক্যানারি আইল্যান্ডের পূর্বের দ্বীপটির নাম লানজারোট। সমুদ্রে সার্ফিং করার জন্য জনপ্রিয় জায়গাটি। সারা বছরই চমৎকার সামুদ্রিক ঢেউ এর কারণে সার্ফিং এর অভিজ্ঞতা নেওয়া যাবে যে কোন সময়ই। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সৈকত এই দ্বীপের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ। 


সমুদ্র সৈকত-
ক্যানারি আইল্যান্ডস এ ৫০০ টি ভিন্ন ধরণের বীচ আছে। তাদের ভিন্ন ভিন্ন রং, দৈর্ঘ বৈচিত্রময় পৃথিবীর সমস্ত উল্লাস তুলে দেবে আপনার হাতে। প্লায়া ডেল এঙ্গেল বীচ থেকে শুরু করে আইকনিক লস পেটেল বীচ অবধি যেন স্বর্গ, পৃথিবীর কোন জায়গা নয়!


ক্যাল্ডেরা ডি ট্যাবুরেন্ট ন্যাশনাল পার্ক-
ক্যানারি আইল্যান্ডস এ ৪ টি ন্যাশনাল পার্ক আছে। ক্যাল্ডেরা ডি ট্যাবুরেন্ট ন্যাশনাল পার্কটি তার অন্যতম। এখানকার জীববৈচিত্র আপনাকে নিশ্চিতভাবে মুগ্ধ করবে। পার্কটি দ্বীপমালার সবচেয়ে ছোট সদস্য লা পালমা দ্বীপে অবস্থিত।  


খাবার-
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ বিভিন্ন চমৎকার স্বাদের খাবারের জন্যেও প্রসিদ্ধ। বিশেষ করে ক্যানারিদের তৈরি পনির যা অবশ্যই টেস্ট করে দেখবেন। এখানে সান্তা মারিয়া শহরে প্রতি বসন্তে উৎযাপিত হয় পনির ফেস্টিভাল। এই উৎসবে নতুন নতুন উপায়ে পনির তৈরি দেখানো হয় এবং সব সময়ই বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকে Queso de flor de Guia নামের এক ধরণের পনির যা ভেড়ার দুধের তৈরি।


বোটানিক্যাল গার্ডেন-
লা অরোতাভার চমৎকার ভ্যালিতে এই বাগান অবস্থিত। এখানে ৩০০০ প্রজাতির অদ্ভূত সব ট্রপিক্যাল এবং সাব ট্রপিক্যাল প্রজাতির গাছ রয়েছে যেগুলো উৎপত্তির দিক থেকে মূলত দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকান, আফ্রিকান এবং অস্ট্রেলিয়ান।


বালিয়াড়ি-
গ্রান ক্যানারিয়া দ্বীপের দক্ষিণে মাস্পালোমাস একটি পর্যটন শহর। অঞ্চলটির মূল আকর্ষণ বিস্তীর্ণ বালুকাভূমি। দ্বীপের অন্যসব কিছুর তুলনায় একেবারেই ভিন্ন স্বাদের এলাকা এটি। যা আপনার ভ্রমণে যোগ করবে ভিন্নমাত্রা। 


কফি-
ক্যারাবিয়ান অঞ্চলের বাইরে ক্যানারি আইল্যান্ড একমাত্র জায়গা যেখানে কফি উৎপাদন হয়। গ্রান ক্যানেরিয়ার উত্তরে আগাটি দ্বীপে গেলে আপনি উপভোগ করতে পারবেন কফি চাষের যাবতীয় দৃশ্যাবলী। এক ভ্রমণে বিচিত্র অভিজ্ঞতার সমষ্টি ক্যানারি দ্বীপ। এখানে অবশ্যই বেশী সময় নিয়ে বেড়াতে যাওয়া উচিৎ। তাহলে উপভোগ করতে পারবেন দ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন আমেজ।

লিখেছেন- আফসানা সুমী

পর্যটন

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে