Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-১২-২০১৬

তিতাস এমডির শত কোটি টাকার সংযোগ বাণিজ্য

হাসনাইন ইমতিয়াজ


তিতাস এমডির শত কোটি টাকার সংযোগ বাণিজ্য

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারী- ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানিতে চলছে রমরমা সংযোগ বাণিজ্য। অনেক শিল্প মালিক তিতাস কর্মকর্তাদের সহায়তায় অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করছেন। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নওশাদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এভাবে শতশত কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে।

খোদ কোম্পানিটির পরিচালনা বোর্ডের তদন্তে এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে। গত সোমবার এই তদন্ত প্রতিবেদন জ্বালানি বিভাগে জমা দেয়া হয়েছে।

গত বছর ২০ অক্টোবর তিতাস পরিচালনা বোর্ডের সদস্য খান মঈনুল ইসলাম মোস্তাককে আহ্বায়ক করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করে জ্বালানি বিভাগ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, তিতাস বোর্ডের পরিচালক লিয়াকত ভূঁইয়া এবং পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) যাবেদ চৌধুরী।

কমিটি অভিযোগ করেছে, তিতাস এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (জিটিসিএল) কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতায় কারণে তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোনো রুপ সাহায্য করেননি। সাড়ে তিন মাসের তদন্তে দেখা গেছে,  গৃহস্থালীর চেয়ে শিল্পেই বেশি অবৈধ সংযোগ রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ দিয়ে অবাধে এসব কর্মকাণ্ড চলছে ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ সংযোগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের নামের আড়ালে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার একটি সিন্ডিকেট জড়িত।

তদন্ত কমিটি ছয় সদস্যর একটি সিন্ডিকেট খুঁজে পেয়েছে। সিন্ডিকেটের সদস্য হলেন, ভালুকার ব্যবস্থাপক মশিউর রহমান ঝন্টু, গাজীপুরের ব্যবস্থাপক আ. ম. সাইফুল ইসলাম, ফতুল্লার ব্যবস্থাপক শহিরুল, চন্দ্রার উপ ব্যবস্থাপক তোরাব আলী, সিবিএ নেতা ফারুক হাসান। তদন্ত কমিটি মনে করছে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন তিতাসের এমডি নিজেই ।

তদন্ত কমিটি বলছে, এই সিন্ডিকেট  গ্যাসের অবৈধ পন্থায় শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য করছে। দুর্নীতিবাজ এসব কর্মকর্তা কর্মচারী নিজের ব্যাংক হিসাবেই ঘুষের টাকা লেনদেন করছেন। এদের প্রায় সকলেই ট্রুথ কমিশনে গিয়ে নিজের অবৈধ সম্পদের কথা স্বীকার করেছিলেন।

তদন্ত কমিটি  মতে, তিতাসের আওতাধীন সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও কালিগঞ্জ এলাকায় অবৈধ বিতরণ লাইনের পরিমাণ সব থেকে বেশি।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মঈনুল ইসলাম মোস্তাক বলেন, ‘আমরা আমাদের ফাইন্ডিংস জমা দিয়েছি, বাকিটা মন্ত্রণালয়ের বিষয়।’
 
তিন পৃষ্ঠার এই তদন্ত প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় ৪.১ এ বলা হয়েছে, ‘তিতাসের গাজিপুরের মহাব্যবস্থাপক’ তদন্ত কমিটিকে বলেছেন তার এলাকায় কয়েকটি শিল্প কারখানায় উপরোস্থ কর্তৃপক্ষের’ নির্দেশে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বজায় রয়েছে।'

প্রতিবেদনের তৃতীয় পৃষ্ঠায় ৪.৪ এ বলা হয়েছে, ‘কমিটি তদন্ত চলাকালীন সময়ে গাজিপুরের আঞ্চলিক মহাব্যবস্থাপকের কাছে কয়েকটি শিল্প কারখানা পরিদর্শনে সহায়তা চায়। ওই সময় মহাব্যবস্থাপক জানান, অবৈধ গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করণ ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে সহায়তা করতে হলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আর যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতি ছাড়া তা দেয়া সম্ভব নয়। ভালুকার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকও বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতি ছাড়া  তথ্য সরবরাহ করা যাবে না।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘তিতাসের সচিবের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে কোন প্রকার সদুত্তর ও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।’

 কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, চাহিদা অনুযায়ি তথ্য সরবরাহ না কারায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।

তদন্ত কমিটির সদস্য লিয়াকত ভূঁইয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তিতাসের নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট সরকারের নাম ভাঙ্গিয়ে ঘুষ বাণিজ্য চালাচ্ছে। তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়েছে।’

এ বিষয়ে  প্রতিক্রিয়া জানতে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মোবাইল নম্বরে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মিলেনি।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে