Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-১১-২০১৬

ক্ষমতায়ন জটিলতায় বন্ধ ৬০ প্রকল্প!

ক্ষমতায়ন জটিলতায় বন্ধ ৬০ প্রকল্প!

ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারী- বগুড়ার শেরপুর উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতায় চলতি বছর এখনো উপজেলায় শুরু হয়নি সাধারণ বরাদ্দের ৬০টি প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম। প্রকল্পগুলো ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার নির্দেশ রয়েছে। এসব প্রকল্প উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তরের অধীনে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামছুন্নাহার শিউলী বলেন, উপজেলা পরিষদের নামে এসব বরাদ্দের বিপরীতে আর্থিক ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দবিবুর রহমানের ওপর। কিন্তু তিনি বর্তমানে নাশকতার একাধিক মামলায় জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে নির্বাচিত অন্য দুজন ভাইস চেয়ারম্যান প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তর থেকে তাঁদের আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। ফলে ওই সব প্রকল্পের বিপরীতে প্রকল্পের খাদ্যশস্য ছাড় করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করা না গেলে বরাদ্দ ফেরত যাবে।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিষদের ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান বলেন, গত বছর এ উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান দুজনই জামায়াত ও বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নামসহ উপজেলা চেয়ারম্যানের নামে নাশকতার মামলা ও চার্জশিট দেওয়ায় তাঁরা গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। এরপরও তিনি পরিষদের ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণেই আর্থিক ক্ষমতায়ন করা নিয়ে এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলায় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় সাধারণ বরাদ্দের খাদ্যশস্য হিসেবে ১৩টি কাবিখা প্রকল্পের বিপরীতে ১২৯ দশমিক ১০৯ মেট্রিক টন চাল ও টিআরের ৪৭টি প্রকল্পের বিপরীতে ১০৪ দশমিক ২৮৮ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ রয়েছে। এসব খাদ্যশস্যের সরকারি দাম ৭৭ লাখ ৩৪ হাজার ২২৭ টাকা। গত ১৪ জানুয়ারি বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি বরাদ্দের বিপরীতে উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশনাও রয়েছে।

উপজেলা পিআইও কার্যালয়ের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিখা) বরাদ্দের মধ্যে গ্রামীণ সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সৌর বিদ্যুতের সোলার প্যানেল কেনা ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি (টিআর) বরাদ্দের শতকরা ৫০ ভাগ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ বাকি ৫০ ভাগ সৌর বিদ্যুতের সোলার প্যানেল কেনার পেছনে ব্যয় করার প্রকল্প রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) জি এম মোস্তফা কামাল বলেন, সাধারণ প্রকল্পের আওতায় তাঁর ইউনিয়নের রানীজাঙ্গাল থেকে জামালপুর গ্রামের সড়ক সংস্কারের প্রকল্প রয়েছে। বর্ষা শুরু হলে সড়কে মাটি কাটার কাজ করা সম্ভব হবে না।

সীমাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব হোসেন তালুকদার বলেন, তাঁর ইউনিয়নের একটি সড়কে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় আট মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। অথচ সড়কটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সংস্কার করা জরুরি।

উপজেলার খামারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে আর্থিক ক্ষমতার এ প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনাও হয়েছে। সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ওই সব প্রকল্পের কাজ শুরু করাই যায়নি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম সরোয়ার জাহান বলেন, উপজেলা পরিষদের আর্থিক ক্ষমতায়ন নিয়ে এ জটিলতার বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছেন। এখনো এ সমস্যা নিরসনে কোনো নির্দেশনা পাননি তিনি।

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে