Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-১০-২০১৬

বাবার ছোট মেয়ে! সরকারি চাকুরেদের এনআইডি জালিয়াতির হিড়িক

দ্বীপান্বিতা চামেলী


বাবার ছোট মেয়ে! সরকারি চাকুরেদের এনআইডি জালিয়াতির হিড়িক

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারী- লালা দাস। জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মসাল ১৯৫২। নতুন বেতন কাঠামোর পর জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সুযোগে তিনি জালিয়াতি একটু সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে বেশি লোভ করতে গিয়ে হয়তো হুঁশ ছিল না। ঔরশজাত কন্যার বয়স নিজের থেকেও যে এক বছর কমে গেছে সেটি তার নজর ফসকে গেছে!

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পরে সরকারি চাকুরের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করায় সংশোধনের হিড়িক পড়েছে। এনআইডি সংশোধন করতে এসে অনেকেই বয়স বাড়ানোর চরম জালিয়াতিতে মেতে উঠেছেন। অনেকে আছেন যারা ভোটার হওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রে সঠিক তথ্য দিয়েছেন। পরে চাকরি নেয়ার সময় বয়স কমিয়ে চাকরি নিয়েছেন। এখন ওই তথ্য সংশোধন করতে গিয়ে নানা গড়মিল পাওয়া যাচ্ছে।

লালা দাস এনআইডি সংশোধন করতে গিয়ে ১৯ বছর কমিয়ে ১৯৭১ সাল করার আবেদন করেছেন। অথচ তার প্রথম সন্তান কোকিলা রানীর জন্মসাল ১৯৭২! যদিও লাল দাশের শারীরিক অবস্থা দেখে কেউ বলবে না বয়স ৪৪ বছর।

এদিকে বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ার কারণে তার সংশোধনী আবেদনটি তদন্তে পাঠিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ(এনআইডি উইং)।

এনআইডি উইং এর কর্মকর্তারা জানান, গত ৩ মাস ধরে নতুন বেতন কাঠামোর কারণে অনেক সরকারি চাকরিজীবী এনআইডি সংশোধন করতে আসছেন। এদের অনেকের বয়সের গড়মিল পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই সার্ভিস বুক দিয়ে সংশোধন করে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশের নিচে। কারণ তাদের ক্ষেত্রে এনআইডি সংশোধন করতে সার্ভিস বুক দেখা হচ্ছে।

সার্ভিস বুক একটি সরকারি ডকুমেন্ট। কিন্তু এমন এমন কিছু আবেদন করা হয় যার সঙ্গে বাস্তবতার অনেক তারতম্য। বাধ্য হয়েই সেগুলো ফেরত দিতে হয়। এছাড়া নির্বাচন কমিশনাররা এমন কিছু কিছু সুপারিশ করেন দেখা যায়, সেটি সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত ডকুমেন্টস নেই। তারপরেও করে দিতে হয়। আমরা তো এখানে পার্মানেন্ট নই সুতারাং চাকরি বাঁচাতেই করে দিতে হয়। হয়তো ওনারাও জানেন না যে এটি সংশোধন যোগ্য নয়। যোগ করেন কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের মহাপরিচলাক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহউদ্দীন বলেন, ‘আমরা অনেক আবেদন পাচ্ছি যেগুলোতে তারা বয়স এতটাই কমানোর চেষ্টা করছেন যে চোখে লাগার মতো। এর মধ্যে কেউ কেউ আছেন যারা প্রয়োজনীয়  তথ্য উপস্থাপন করতে  না পেরে ভুয়া সনদ সংযুক্ত করে দেন। সেগুলো যাচাই করেই আমরা সংশোধন করে দেই। কোনো তথ্যে গড়মিল পেলে এই আবেদনগুলো তদন্ত করার চেষ্টা করছি। সঠিক তথ্য পাওয়ার  পরেই সংশোধন করা হচ্ছে।‘

তিনি আরো বলেন, ‘এছাড়া অনেকেই বয়স কমানোর পায়তারা করছে এ বিষয়গুলো আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানাবো। তারা তাদের কর্মকর্তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেবেন- নাকি নেবেন না সেটা তাদের উপর নির্ভর করবে।’

লালা দাসের জমা দেয়া আবেদনে দেখা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স ২৪-০৭-১৯৫২। কিন্তু এখন তিনি ১৯ বছর বয়স কমিয়ে ০৭-০২-১৯৭১ করার আবেদন করেছেন। আবেদনের সঙ্গে সার্ভিস বুকের ফটোকপিও জমা দিয়েছেন। এছাড়া জমা দেয়া অন্য ডকুমেন্টে দেখা যায় লালা দাসের প্রথম সন্তান কোকিলা রানীর জন্ম ১৯৭২ সালে। অথচ লালা দাসের বর্তমান দাবি তার জন্ম ১৯৭২ সালে!

এ ধরনের আবেদনের বিষয়ে এনআইডি উইং এর এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের অনেক আবেদন এসেছে। অনেকেই বড় কারো সুপারিশ নিয়ে কার্ড সংশোধন করে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা বেশি গড়মিল পেলে এগুলো তদন্তের ব্যবস্থা নিচ্ছে।

আরেকটি এনআইডি দেখা যায়, শাহনাজ আক্তার নামে একজন এনআইডি করার সময় নিজেকে এসএসসি পাস বলে উল্লেখ করেন। এখন নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন করার সময় নিজেকে এসএসসি পাস প্রমাণ না করতে পেরে ভুয়া সনদপত্রের কপি জমা দিয়েছেন। এটা প্রমাণিত হলে তিনি এবার নিজেকে অষ্টম শ্রেণি পাস দাবি করে সংশোধনের আবেদন করেছেন।

তবে তার আবেদনের সঙ্গে সার্ভিস বুকের গড়মিল পাওয়ায় তার পরিচয়পত্র সংশোধন করে দেয়নি এনআইনডি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি আরো তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মুসা বলেন, আমাদের এখানে সংশোধনের আবেদন গ্রহণের নিয়ম না থাকলেও আমরা আবেদন নিচ্ছি। মানবিক বিবেচনায় সরকারি চাকুরেদের তথ্য সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করতে আমরা এখন শুক্র-শনিবারও কাজ করছি। এর মধ্যে কেউ জালিয়াতির চেষ্টা করলে, সঠিক তথ্য প্রমাণ হাজির করতে না পারলে সেটা আমরা করছি না।

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীরা সংশোধন আবেদনের সঙ্গে সার্ভিস বুক কিংবা অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র জমা দিচ্ছেন সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাচাইয়ের সুযোগ নেই। এমন কি তিনি ওই অফিসে চাকরি করেন কি না, সেটাও যাচাইয়ের সুযোগ নেই। তাই কেউ নিজেকে সরকারি চাকরিজীবী দাবি
করলেও আমাদের কিছু করার নেই। এ জন্যই প্রায় দুই মাস ধরে সংশোধন আবেদনের চাপ কমছে না বলে সন্দেহ পোষণ করছেন অনেকে।

গত ১৫ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের পর জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের হিড়িক পড়ে। নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ করতে চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এরপর থেকে তথ্য সংশোধনের জন্য এ পর্যন্ত দুই লাখের বেশি আবেদন পড়েছে বলে জানান এনআইডি উইংয়ের কর্মকর্তারা। তবে এর সঠিক সংখ্যা নিরুপণ করা হয় না।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে