Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-১০-২০১৬

নারায়ণগঞ্জে হচ্ছে ‘দ্বিতীয় হাতিরঝিল’

সোহরাব হাসান ও আসিফ হোসেন


নারায়ণগঞ্জে হচ্ছে ‘দ্বিতীয় হাতিরঝিল’

নারায়ণগঞ্জ, ১০ ফেব্রুয়ারী- ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) উদ্যোগে শহরের জিমখানায় লেক ও বিনোদন পার্ক নির্মিত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা মনে করছেন, এটি হবে ‘দ্বিতীয় হাতিরঝিল’।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লেকের মাটি খনন ও পাড় নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। এখন হাঁটা পথ, পাশের সড়ক উন্নয়ন ও পদচারী–সেতুর পাইলিংয়ের কাজ চলছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লেক ও পার্ক হওয়ায় তাঁরা খুশি। কিন্তু কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা বোধ করছেন। এলাকার বাসিন্দা ও সংস্কৃতিকর্মী শাহেদ আলী বলেন, প্রভাবশালী মহল প্লট তৈরি করে জায়গাটি বিক্রি করার উদ্দেশ্যে লেক ও পার্ক নির্মাণের কাজে বাধা দিচ্ছে। অথচ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জের মানুষ মুক্ত জায়গায় নিশ্বাস নিতে পারবে।

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থাকতেই মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী জিমখানা বিনোদন কেন্দ্র ও লেক নির্মাণের পরিকল্পনা নেন এবং উপযুক্ত স্থানের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লেখালেখি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ২০১১ সালের ২৭ জুন মেয়রকে এক চিঠিতে জানায়, নারায়ণগঞ্জের জিমখানা মৌজার প্রস্তাবিত ১৬ একর জায়গা রাজউক প্রণীত ঢাকা ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (DAP) অন্তর্ভুক্ত এবং এটি খেলাধুলা ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। জলাধার সংরক্ষণ সাপেক্ষে পার্ক নির্মাণের ব্যাপারে অনাপত্তিও দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হওয়ার পর এর অনুকূলে বরাদ্দ বা ব্যবহারের সুযোগ দিতে নাসিকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ৩৫ বার চিঠি দেওয়া হয়; কিন্তু উত্তর মেলেনি। এর আগে সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ২০০৯ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রীকে জিমখানার অব্যবহৃত ১৬ একর জমি হস্তান্তর বা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করেন। রেলওয়ে সেই অনুরোধও উপেক্ষা করে।

গত বছরের ৯ আগস্ট নাসিক জিমখানা লেক উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে মেসার্স রত্না এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তি করে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। চুক্তি অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে, অর্থাৎ আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। উন্নয়নকাজের মধ্যে থাকবে চারপাশে হাঁটা পথ, তিনটি ঘাটলা, দুটি বসার প্যাভিলিয়ন, দুটি অবলোকন ডেক, একটি পদচারী–সেতু, শিশুপার্ক, পাবলিক টয়লেট ইত্যাদি।

স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেড এর নকশা করেছে। এটি সিটি করপোরেশন নিজস্ব অর্থায়নে করলেও দ্বিতীয় ধাপে বাবুরাইল সংযোগ খালটির ওয়াকওয়ে, দুই পাড়ে বাঁধাই, ড্রেজিং এবং সৌন্দর্যবর্ধন ও পাতালপথ নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায়। সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। জিমখানার বাবুরাইল খালটির সংস্কারকাজ শেষ হলে শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীর মধ্যকার সংযোগ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। একসময় এই খাল দিয়ে পণ্যবাহী নৌকা চলাচল করত।

সিটি করপোরেশনের দাবি, রেলওয়ের জমি হাতিয়ে নেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। বরং আয় দিয়ে ব্যয় নির্বাহের পর এই প্রকল্পের মুনাফা রেলওয়ে ও নাসিকের মধ্যে ভাগাভাগি হবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে রেলওয়ে নানা সময়ে বাধা দিয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্ররোচনাতেই রেলওয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা লেক ও পার্ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের ধাওয়া করে। প্রতিবাদের মুখে রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা নুরন্নবী কবির বলেন, তাঁরা প্রকল্পের কাজ বন্ধ করতে বলেননি। রেলওয়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে কাজ করতে বলেছেন।

এ ব্যাপারে নাসিকের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘জলাধার আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশন অধিভুক্ত যেকোনো জলাধার সংরক্ষণ করতে পারে। ড্যাবের পরিকল্পনায়ও রেলওয়ের এই জলাধারটি রেখে পার্ক করার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সব শহরে জলাশয়গুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলার জন্য খোলা জায়গা রাখার কথা বলেছেন। ১০ লাখ লোক অধ্যুষিত নারায়ণগঞ্জে কোনো পার্ক বা জলাধার নেই। তাই নাগরিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এ পার্ক ও লেক তৈরি করছি।’

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান জানান, ‘আমরা ২০০৬ সাল থেকে পার্ক করার জন্য আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের একটি মহল রাজউক ও রেলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এটি সফল হতে দেওয়া হবে না।’

সূত্র আরও জানায়, মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর মেয়াদ আগামী অক্টোবরে শেষ হচ্ছে। এর আগে প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে নগরবাসী সেটি তাঁর সাফল্য হিসেবেই বিবেচনা করবে। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সেটি হতে দিতে জায় না।

এ ব্যাপারে নকশাকারী প্রতিষ্ঠান ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, এ সরকার জলাঞ্চলনির্ভর যে গণপরিসর বা পার্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেটাই বাস্তবায়ন করছেন। কিন্তু মেয়রের একার পক্ষে এ ধরনের কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্পে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও দপ্তর সহায়তা করলেও নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ে সেটি করছে না।

নারায়নগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে