Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-১০-২০১৬

একবার চুমুতে ১৫ বছরের শান্তি

একবার চুমুতে ১৫ বছরের শান্তি

মেক্সিকোর প্রাচীন শহর গুয়ানাজুয়াতো আজও হারিয়ে যাওয়া সময়ের কথা বলছে। শহরের ঔপনিবেশিক আমলের দালানগুলোর শরীরে বাতাস শিস কেটে যেতে যেতে কোনো এক অতীত সময়ের কথা বলে যায় গোপনে। কে জানে, হয়তো ১৬ শতকের জমজমাট গুয়ানাজুয়াতোতে এই বাতাসের শিসকেই অনুষঙ্গ করে রচিত হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী স্প্যানিশ অনেক গান। ইতিহাস বলে এই অঞ্চল থেকে যতগুলো সঙ্গীত রচিত হয়েছে তার অধিকাংশই নর-নারীর প্রেমনির্ভর এবং অধিকাংশ সঙ্গীত আজও টিকে আছে। অবশ্য এর কারণও হয়তো প্লাজা ডি লস অ্যাঞ্জেলস নামক স্থানটির সঙ্গেই মিশে আছে। গুয়ানাজুয়াতো শহরের ক্যাল্লেজন ডেল বেসো অথবা বাংলা করলে দাড়ায় ‘চুমুর জগৎ’ হলো ঐতিহাসিক ব্যালাড গানের তীর্থক্ষেত্র।


পাথুরে ব্যালকনির দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে আলেজান্দ্রো মার্টিন এবং পওলিনা অ্যাকভেডো নামের দুই কিশোর-কিশোরী। অনেক ধৈর্য্যের সঙ্গে তারা দাঁড়িয়ে আছে তাদের চুমু দেয়ার পালা আসার জন্য। যে দেয়ালটির পাশে এই কিশোর-কিশোরী দাঁড়িয়ে আছে, সেই দেয়ালটি লাল রঙে রঞ্জিত। আর কে না জানে, লাল রং হলো ভালোবাসায় সৌভাগ্যের প্রতীক। মার্টিন তার বিশতম জন্মদিনে নিজের প্রেমিকার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে পরবর্তী জীবনে সৌভাগ্যের প্রত্যাশায়।

জন্মদিনের উপহার হিসেবে আলেজান্দ্রো মার্টিন তার প্রেমিকা অ্যাকভেডোকে নিয়ে এসেছে গুয়ানাজুয়াতো শহরে। যদিও মেক্সিকোর সান লুইস পটাসিতে তাদের বসতি। শুধুমাত্র প্রেমকে মহিমান্বিত করার জন্য তারা নিজ জেলা থেকে এত দূরের শহরে এসেছে। মার্টিন তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলে, ‘এই স্থানটির সম্পর্কে অনেকের মুখেই আমরা শুনেছি। অনেক মানুষই আমাদের এখানে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন, তাই আজ এখানে আসা।’

এই অঞ্চলের ঐতিহ্য অনুযায়ী তারা একে অপরকে চুমু দিয়েছে কি না জিজ্ঞেস করা হলে লজ্জ্বিত প্রেমিক-প্রেমিকা সমস্বরে বলে ওঠে ‘না’। অবশ্য কয়েক মিনিট পরেই তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত সময় এসে যায় চুমু দেয়ার। এরকম বহু নর-নারী অপেক্ষা করে আছে ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে প্রিয়জনের ঠোঁটে ঠোঁট রাখার। পরিবার-সমাজ কিংবা সংস্কৃতি তাদের কোথায় নিয়ে যাবে তারা কিছুই জানে না। কিন্তু তবু নিজেদের সম্পর্কের স্বীকৃতিটুকু দিতে তারা মিলিত হতে চাইছে একে-অপরের সঙ্গে।


এই ব্যালকনিতেই পরস্পরকে চুমু দিয়েছিল অ্যানা ও কার্লোস

মার্টিন ও অ্যাকভেডোর মতো আমার প্রেমিকা পওলিনাকে নিয়ে আমিও যাই গুয়ানাজুয়াতো এবং তাকে নিয়ে বিখ্যাত চুমুর জগতে পৌঁছায়। নানান বয়সের মানুষ একে-অপরের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। একটি সরু গলির পাশের দেয়ালে ঠেস দিয়ে আমাদের মতো অনেক নর-নারীই দাঁড়িয়ে আছেন নিজেদের সময় আসার অপেক্ষায়। নির্দিষ্ট স্থানে চুমু দেয়ার পরে অপর একটি সরু গলি দিয়ে বের হয়ে যেতে হয়, সেখানে গেলে দেখা যায় অনেক নারী পুরুষ একে-অপরের ঠোঁটের সঙ্গে ঠোঁট মিশিয়ে আলিঙ্গনরত অবস্থায় রয়েছে। এ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য, যেখানে প্রতিদিন হিংসা-হানাহানি আর সংঘর্ষের বলি হয়ে অগুনতি মানুষ মারা যাচ্ছে।

চুমুর জগতে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে অনেক স্বপ্রণোদিত গাইডের দেখা মিলবে। তাদের মুখেই শোনা যাবে অ্যানা ও কার্লোসের করুণ প্রেমকাহিনী। কোনো এক গাইডের ভাষায়, ‘অ্যানা ছিলেন খুব ধনী স্প্যানিয়ার্ড, যিনি ওই ব্যালকনির বা দিকে বাস করতেন। ভ্যালেন্সিয়িানার কাছাকাছি একটি খনিতে কাজ করতেন গরিব কার্লোস। এক রাতে অ্যানার বাবা এই দুই প্রেমিক-প্রেমিকাকে সরু ব্যালকনির দেয়ালের পাশে চুম্বনরত অবস্থায় দেখে ফেলে। ওই দৃশ্য দেখার পর ক্ষুব্ধ বাবা সাফ জানিয়ে দিলেন, আর যদি এমন দেখা যায় তাহলে তিনি তার মেয়েকে হত্যা করবেন। পরবর্তী দিন অ্যানা ও কার্লোস আবারো পরস্পরকে চুমু দেয় এবং বাবার কাছে ধরা পড়ে যায়। তখন ক্ষুব্ধ বাবা তার মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন।’ যদিও কিছু গল্পকার এমনও জানান যে, অ্যানাই ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এবং ঘাড় ভেঙে মারা যান। যা-ই হোক, ঘটনাটি এরকম যে সমাজের ধনী-গরিব, জাত-পাত ইত্যাদি বিভেদ আগেও যেমন ছিল, আজও তেমন আছে। তাই তো যুগে যুগে সময়ের ফেরে নতুন নতুন করুণ প্রেমের কাহিনী আমাদের হৃদয়কে সিক্ত করে।


এমন প্রেমিক-প্রেমিকা পাওয়া যাবে না যারা চুমুর জগতে গিয়েছেন কিন্তু একে-অপরকে চুমু দেননি। অবশ্য এর পেছনেও একটা ছোট্ট কারণ আছে। যদি কেউ ওই স্থানে দিয়ে চুমু না দেয় তাহলে আগামী সাত বছর তার জীবনে দুর্ভাগ্য নেমে আসবে। আর যদি চুমু দেয় তবে পরবর্তী পনেরো বছর তাদের সুখে শান্তিতে কাটবে। আর কে সেধে সেধে জীবনে দুর্ভাগ্য নিয়ে আসতে চায়। সবচেয়ে বড় কথা, পৃথিবীতে যত পর্যটনকেন্দ্র আছে তার সবগুলোই মানুষের দৃষ্টিসীমা পর্যন্তই বিদ্যমান। কিন্তু মেক্সিকোর এটাই একমাত্র পর্যটন কেন্দ্র যেখানে পর্যটকদেরও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে যেতে হয়।

বিচিত্রতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে