Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-১০-২০১৬

যেভাবে সৃষ্টি হলো মহাবিশ্ব

যেভাবে সৃষ্টি হলো মহাবিশ্ব

কয়েক বছরে বিজ্ঞানের নতুন শাখাগুলোর একটি হল অ্যাস্ট্রোপার্টিকেল‌‌‍‍‌‌‌‌‌‍‌‌‍‍‌‌‌‌‌। এই শাখার গবেষণা অনুসারে আমাদের মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতে প্রতিবেশি নীহারিকাগুলো অন্তর্বর্তী দূরত্ব ছিল শূন্য। প্রায় ১৫০০ কোটি বছর আগে এক মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে অসীম ঘনত্বের এক পুঞ্জীভূত অবস্থা থেকে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞানী এডুইন হবল প্রথম বলেন, দূরবর্তী ছায়াপথ সমূহের বেগ সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এরা পরষ্পর দূরে সরে যাচ্ছে অর্থাৎ মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই তত্ত্বের মাধ্যমেই ১৯৪৮ সালে জর্জ গ্যামফ অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণের অস্তিত্ব রয়েছে। ১৯৬০ এর দশকে এটি আবিষ্কৃত হয় এবং স্থির অবস্থা তত্ত্বকে অনেকটাই বাতিল করে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বকে প্রমাণ করতে সমর্থ হয়।

এই সৃষ্টি প্রক্রিয়ার প্রথম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে উৎপত্তি হয়েছে চারটি বল ও কয়েকটি মৌলিক কণিকা। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন বিগ ব্যাং এর ১০-৪৩ সেকেন্ড পর্যন্ত সুপার ফোর্স একসাথে মিশেছিল পৃথিবীর চার ধরনের বল। সেগুলো হল ১) অভিকর্ষ শক্তি ২) বিদ্যুৎ চৌম্বক শক্তি ৩) ক্ষীণ কেন্দ্রীক শক্তি ৪) প্রবল কেন্দ্রীক শক্তি। এক সেকেন্ড পর কোয়ার্ক, ইলেক্ট্রন, প্রোটন, নিউট্রন সৃষ্টি হয়। তিন সেকেন্ডের সময় প্রোটন ও নিউট্রন। যা থেকে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম তৈরি হয়।


স্টিফেনহকিং [A Brief history of time অনুসারে] মনে করেছেন, বিগ ব্যাং এর ১০০ সেকেন্ড পরে তাপমাত্রা ১০০ কোটি ডিগ্রিতে নেমে এসেছিল। এই অবস্থায় বস্তু পুঞ্জে বিরাজমান ইলেক্ট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন মিলিত হয়ে  পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি করেছিল হাইড্রোজেন, হিলিয়ামলিথিয়াম, বেরিলিয়াম পরমাণু।

সৃষ্টির প্রাথমিক কালে মহাবিশ্ব সুষম এবং সমতাপীয়রূপে একটি অতি উচ্চ শক্তি ঘনত্ব এবং উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপ বিশিষ্ট পদার্থ দ্বারা পূর্ণ ছিল। মহাবিশ্ব সৃষ্টির ১০-৪৩ সেকেন্ড পর পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রগুলো কার্যকারিতা লাভ করে। এই সময়কে প্ল্যাংকের সময় বলা হয়।

প্ল্যাংকের সময়ের প্রায়১০-৪৩ সেকেন্ড পর একটি দশা পরিবর্তন তথা অবস্থান্তর অবস্থার সূচনা ঘটে যার ফলে মহাজাগতিক স্ফীতি শুরু হয়। এই সময় মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। এ সময় থেকে মূলত মহাবিশ্বের exponential সম্প্রসারণ শুরু হয়। মহাবিশ্বের আয়তন যত বৃদ্ধি পেতে থাকে ততই এর তাপমাত্রা কমতে থাকে।


তাপমাত্রা হ্রাসের সময় কোন এক পর্যায়ে দশার অবস্থান্তর অবস্থা সৃষ্টি হয় যার ফলে শুরু হয় প্রতি সাম্য ভাঙন। এই ভাঙনের কারণে পদার্থ বিজ্ঞানের আলোচ্য মৌলিক বলসমূহ পৃথক পৃথক স্বাধীন অস্তিত্ব লাভ করে। এসময় মৌলিক কণিকাসমূহ সৃষ্টি হয় যা এখনও সেই আদি অবস্থাতেই রয়েছে। কোয়ার্ক এবং গ্লুওন একত্রিত হয়ে বেরিয়ন যেমন প্রোটন এবং নিউট্রন তৈরি করে। বর্তমান মহাবিশ্বের অধিকাংশ স্থান জুড়ে একটি রহস্যময় ধরণের শক্তি বিরাজ করছে। মহাবিশ্বের বিপুল ভর ও শক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি  দায়ী এই শক্তিকে অদৃশ্য শক্তি বা ডার্ক এনার্জি (dark energy) বলা হয়। বর্তমান মহাবিশ্বের মোট শক্তি ঘনত্বের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ জুড়ে রয়েছে এই অদৃশ্য শক্তি।

এই তত্ত্বের কিছু প্রমাণ
বিগ ব্যাঙ্গ থিওরি নিয়ে আলোচনা করার সময় আমাদের মনে একটা প্রশ্ন জাগতেই পারে, এমন কোন বড় প্রমাণ আছে কি যা এই তত্ত্বকে সমর্থন করে?

সবার প্রথমে, আমরা যুক্তিসঙ্গত ভাবে একটা বিষয়ে নিশ্চিত যে, আমাদের মহাবিশ্বের একটা সূচনা ছিল। দ্বিতীয়ত, ছায়াপথগুলো আমাদের কাছ থেকে তাদের দূরত্বের অনুপাতে দূরে সরে যাচ্ছে। একে বলা হয় “হাবলের নীতি (Hubble’s Law)”।


এই নীতির নামকরণ করা হয়েছিল বিজ্ঞানী এডুইনহাবল (১৮৮৯-১৯৫৩) এর নামানুসারে যিনি ১৯২৯ সালে এই অদ্ভুত ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এই পর্যবেক্ষণটি আমাদের মহাবিশ্বের সম্প্রসারণকেই সমর্থন করে এবং এ থেকে আমরা জানতে পারি যে আমাদের মহাবিশ্ব এক সময় ছিল সংকুচিত ও দৃঢ়। তৃতীয়ত, আমাদের মহাবিশ্ব প্রাথমিক অবস্থায় যদি খুব এবং খুবই গরম হয়ে থাকে,তাহলে বিগ ব্যাং থিওরি বলে যে বর্তমানে আমরা এই তাপের কিছু অবশিষ্টাংশ পেতে পারি। ১৯৬৫ সালে দুই বেতার জোতির্বিদ, আরনোপেনজস এবং রবার্ট উইলসন একটি ২.৭২৫ ডিগ্রি কেলভিন (-৪৫৪.৭৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট, -২৭০.৪২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রার কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড (CMB) খুঁজে পান যা পর্যবেক্ষণশীল মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই অবশিষ্টাংশকে ভাবা হয় যা বিজ্ঞানীরা অনেকদিন ধরেই খোঁজ করছিলেন। পদার্থবিদ্যার উপর এই আবিষ্কারের জন্য ১৯৭৮ সালে তাদেরকে নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হয়।


সবশেষে, ‘আলোক উপাদান (Light Elements)’  হাইড্রোজেন এবং হিলিয়ামের প্রাচুর্য পর্যবেক্ষণশীল মহাবিশ্বে পাওয়া গেছে যা বিগ ব্যাং থিওরির উত্পত্তির কারণকেই সমর্থন করে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে