Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-০৯-২০১৬

বেঁচে আছেন লাদেন, থাকছেন বাহামা দ্বীপে!

বেঁচে আছেন লাদেন, থাকছেন বাহামা দ্বীপে!

ওয়াশিংটন, ০৯ ফেব্রুয়ারী- আল-কায়দার সাবেক প্রধান ওসামা বিন-লাদেন বেঁচে আছেন! সাধারণের কাছে এ খবর অবিশ্বাস্য। সংবাদ মাধ্যমের সামনে এটি বিচার-বিশ্লেষণের। একইসঙ্গে অনুসন্ধানেরও বিষয়। দুর্ধর্ষ গেরিলা নেতা হিসেবে খ্যাত বিন-লাদেনকে ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে গোপন মেরিন সেনাদলের অভিযানে হত্যা করার কথা জানিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউজে বসে সে বিশেষ অভিযানের দৃশ্য দেখেছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ প্রশাসনের মীর্ষ কর্তারা। অভিযান শেষে আল-কায়েদার এ নেতার মরদেহ মুসলিম রীতিতে সৎকার করে সাগরে ভাসিয়ে দেয়ার কথাও বলা হয়েছিলে সে সময়। 

আল-কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে নিয়ে একসময় মুখরোচক আলোচনা ছিল বিশ্বজুড়ে। মার্কিন মুল্লুকে বেড়ে ওঠা সৌদি বংশোদ্ভুদ ওসামা বিল-লাদেন বিশ্ব মিডিয়ায় হৈ-চৈ ফেলে দেয়া এ গেরিলা নেতা সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন বহুবার। কখনও আফগানিস্তানে যুদ্ধবাজ এ গেরিলা নেতার গোপন আস্তানা নিয়ে, কখনও তার রণকৌশল নিয়ে, আবার কখনও তার পারিবারিক জীবন বিশেষত স্ত্রী-সন্তান-সন্তুতি নিয়ে। তবে তেমনভাবে মিডিয়ায় আসেনি বিন লাদেন ও তার পরিবারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের মালিকানায় পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে। রাশিয়ার দখল থেকে আফগানিস্তানকে মুক্ত করতে পাকিস্তান প্রশাসনের সহযোগিতায় মার্কিনিরা বিন-লাদেনকে সব কিছু দিয়ে সহায়তা করেছে সে বিষয়ও মিডিয়ায় তেমন বিষদভাবে উঠে আসেনি।

একসময় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার এ গেরিলা নেতাকে হত্যার চার বছর পর তার জীবিত থাকার কথা বলছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্লোডেন। বিন-লাদেন জীবিত আছেন এমন প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। গত রোববার রুশ পত্রিকা মস্কো ট্রিবিউনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন স্নোডেন। মার্কিন নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক কর্মি ক’বছর ধরে রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে বসবাস করছেন।

সাক্ষাৎকারে স্নোডেন বলেন, ‘অ্যাবোটাবাদে মার্কিন সেনার হানায় মৃত্যু হয়নি ওসামা বিন লাদেনের। তিনি এখনো জীবিত আছেন এবং পরিবার-পরিজনসহ বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। জীবনধারণের জন্য তাকে নিয়মিত মাসোহারা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’

স্নোডেনের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বাহামা দ্বীপে রাখা হয়েছে লাদেনকে। পরিবারের সঙ্গে দ্বীপের গোপন আস্তানায় তার ওপর কঠোর নজরদারির দায়িত্বে রয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। পাশাপাশি প্রতি মাসে লাদেনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা দিচ্ছে গুপ্তচর সংস্থাটি। ব্যবসায়ী ও কিছু সংস্থার মাধ্যমে লাদেনের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হয়ে থাকে।  অর্থের পরিমাণ ১ লাখ মার্কিন ডলার বলেও জানান স্লোডেন।

সাবেক এ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মি বলেন, ‘পাকিস্তানের সহায়তায় এ্যবোটাবাদে ওসামা বিন-লাদেনকে হত্যার নাটক সাজায় মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। মরদেহ মুসলিম রীতিতে সাগরে ভাসিয়ে দেয়ার কথা বলে পরিবার-পরিজনসহ বিন লাদেনকে গোপন স্থানে সরিয়ে নেয়া হয় বলেও দাবি স্লোডেনের। বিন-লাদেনের বেঁচে থাকা নিয়ে সংগৃহীত সব তথ্য দিয়ে শিগগিরই বই লিখবেন এবং তা প্রকাশ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন সাবেক এ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মী।’

বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম স্লোডেনের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। সাক্ষাতকারে স্লোডেন আল-কায়দার সাবেক নেতা ওসামা বিন-লাদেনসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে স্লেডেনের এ বক্তব্য নিশ্চিত করেনি। 

ব্রিটেনভিত্তিক সংবাদপত্র দি ইনডিপেনডেন্টের খবর অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে স্নোডেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএর সঙ্গে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার অধিকারী এই তরুণ এনএসএর গোয়েন্দা নজরদারি কর্মসূচির বেআইনি কার্যকলাপ ধরে ফেলেন, নিজের কম্পিউটারে গোপনে কপি করে নেন এনএসএর বিপুল পরিমাণ তথ্য।

২০১৩ সালে তার যোগাযোগ ঘটে আমেরিকান আইনজীবী ও সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ডের সঙ্গে, যিনি তখন ব্রিটেনের দৈনিক গার্ডিয়ান-এর জন্য লিখতেন। স্নোডেন সে সময় কর্মরত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে, আমেরিকান নিরাপত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বাজ অ্যালান হ্যামিল্টনের’ কর্মী হিসেবে। ওই প্রতিষ্ঠানটি ছিল এনএসএর ঠিকাদার। সে সময়ই এনএসএর ‘টপ সিক্রেট’ শ্রেণির নানা তথ্য দৈনিক গার্ডিয়ান-এর হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্নোডেন। তবে সেটা করার আগে তিনি আমেরিকার ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যান হংকং। সেখান থেকেই তিনি কাজটা করেন।

তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৩ সালের জুন মাসে গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড গার্ডিয়ানে ধারাবাহিক প্রতিবেদন লিখতে শুরু করেন। এতে ফাঁস হয়ে যায়, ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ব্যাপারে মার্কিন কার্যকলাপসহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এতে মার্কিন সরকারের কাছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড আমেরিকান’ হন এডওয়ার্ড স্নোডেন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক হুলিয়াও জারি করে মার্কিন প্রশাসন।

এ সময় হংকংয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন স্নোডেন। কারণ মার্কিন সরকার হংকং কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ দিচ্ছিল স্নোডেনকে গ্রেপ্তার করে তাদের হাতে তুলে দিতে। এ অবস্থায় দ্রুত হংকং ত্যাগ করেন স্নোডেন ।

এসময় তার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ হয় উইকিলিংকসের জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে। গোপন তথ্য প্রকাশ করে অ্যাসাঞ্জ বিরাগভাজন হনে ব্রিটেন, আমেরিকাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের। গ্রেপ্তার এড়াতে লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে এ যোগাযোগের আগেই আশ্রয় নিয়েছিলেন অ্যাসাঞ্জ।সমুহ বিপদ থেকে রক্ষা করতে স্নোডেনকে ইকুয়েডরে পাঠানোর চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু হংকং থেকে বিমানে চড়ে ইকুয়েডরে পৌঁছাতে পারেননি স্নোডেন। মাঝপথে তিনি থেকে যান মস্কো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রানজিট লাউঞ্জে।

আমেরিকার চাপে কোনো দেশের বিমান কোম্পানি স্নোডেনকে বহন করে ইকুয়েডর কিংবা কিউবা নিয়ে যাবার সাহস পায়নি। পরে স্নোডেন রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। রাশিয়া সঙ্গে সঙ্গে সে আবেদন মঞ্জুর না করলেও ২০১৪ সালের শুরুর দিকে স্নোডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়।

এরপর তিনি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে মস্কো শহরের কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে আশ্রয় নেন। সেই থেকে তিনি মস্কোতেই আছেন।

মস্কোতে নামার সময় স্নোডেনের সঙ্গে ছিল তিনটি ল্যাপটপ। কানাঘুষায় আছে, তার কাছে আমেরিকার যত ‘টপ সিক্রেট’ তথ্য রয়েছে, তার সবই তিনি দিয়ে দিয়েছেন রুশ গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষকে। স্নোডেন অবশ্য এটা বারবারই অস্বীকার করেছেন।

উত্তর আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে