Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-০৯-২০১৬

এবার প্রকাশকদের মুখে হাসি

প্রান্ত পলাশ


এবার প্রকাশকদের মুখে হাসি

ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারী- এক সপ্তাহ পার করেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। গতবছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বইমেলার এ সময় দর্শনার্থীই আসতে পারেনি বইমেলায়। তবে এবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো ও সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর হওয়ায় প্রথম দিন থেকেই বইমেলা ফিরেছে তার চিরচেনা রূপ নিয়ে। 

প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার প্রথম সপ্তাহে বই বিক্রি হয়েছে অনেক। আর এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেশিরভাগ প্রকাশক। তবে কিছু প্রকাশনা সংস্থা অভিযোগ করেছে, মানুষের আগমন বেশি হলেও শুধুমাত্র স্টল বিন্যাসে ত্রুটির কারণে অনেক স্টলে মানুষ ঢুকছে না।

সোমবার বইমেলা ঘুরে বিভিন্ন স্টল ঘুরে সত্ত্বাধিকারী ও বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহে বই বিক্রি গতবারের তুলনায় অনেক ভালো। পাঠক সমাবেশের ম্যানেজার শামস শুভ্র বলেন, ‘গতবার যেখানে এ সময়ে মেলা জমেই ওঠেনি, এবার প্রথম দিন থেকেই মেলা জমজমাট। আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ টাকার বই বিক্রি করেছি।’ 

না প্রকাশ না করে অন্যপ্রকাশের এক বিক্রয়কর্মী জানান, এক সপ্তাহে তাদের বিক্রির পরিমাণ ১০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

ইউনিভার্সেল প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিক্রয়কর্মী মোহাম্মদ জরিফ হোসেন বলেন, ‘বইয়ের বিক্রি বেশ ভালো। এখন পর্যন্ত আমরা আড়াই লাখ টাকার বেশি বই বিক্রি করেছি।’

তবে আগামী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী সুমন গাজী অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এবার স্টল বিন্যাসে ত্রুটি আছে। ভালো জায়গায় আমাদের প্যাভিলিয়ন পড়েনি। প্যাভিলিয়ন নিয়ে তা হলে কী লাভ হলো? এখন পর্যন্ত আমাদের বিক্রি দেড় লাখ টাকার মতো।’

শিশুদের নিয়ে নানা আয়োজন থাকে সিসিমপুরের। বিক্রয়কর্মীরা জানালেন, তাদের বিক্রি অনেক ভালো। বিক্রয়কর্মী শোভন জানান, এ পর্যন্ত তারা সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি বিক্রি করেছেন।

মধ্যম ও ছোট প্রকাশনাগুলোও এবার বিক্রি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আফসার ব্রাদার্সের বিক্রয়কর্মী শাকির বলেন, ‘এক সপ্তাহে তাদের বিক্রি ৭৭ হাজার টাকা।’ হাসি প্রকাশনীর রাজু তালুকদার জানান, এক সপ্তাহের তাদের বিক্রি ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া স্বরবৃত্ত প্রকাশনী ২০ হাজার, গ্রন্থপ্রকাশ ১০ হাজার, জয়তী প্রকাশনী ১২ হাজার, জ্ঞান প্রকাশ ১০ হাজার, তৃণলতা ৪ হাজার টাকা এক সপ্তাহে বিক্রি করেছে।

তবে আদর্শ প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী মামুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমাদের বিক্রি এবার খুবই কম। গতবার রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও বিক্রি এবারের তুলনায় ভালো ছিল।’ কারণ হিসেবে তিনি জানান, এবার স্টল বিন্যাসে ত্রুটির কথা। গতবার যেখানে গড়ে প্রতিদিন তাদের ৬০ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে, এবার পুরো সপ্তাহ মিলে বিক্রি হয়েছে তা।

একই অভিযোগ তোলেন বিপ্লবীদের কথা প্রকাশনার লাবণী মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘স্টল বিন্যাসে ত্রুটির কারণেই আমাদের বিক্রি কম। এখন পর্যন্ত ৯ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। অথচ গতবার এর চেয়েও ভালো বিক্রি ছিল।’

সোমবারও মেলায় ছিল লক্ষণীয় দর্শনার্থীদের ভিড়। দুপুর ৩টায় মেলা শুরুর আগেই প্রবেশপথগুলোর সামনে ছিল মানুষের লাইন। নিরাপত্তাকর্মীদের তাদের এক এক করে ভেতরে প্রবেশ করান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিশুচত্বরে দেখা যায় ছোট ছোট স্কুল শিক্ষার্থীদের ভীড়। জানা গেলো, এই শিশুদের ঝাঁক এসেছে মোহাম্মদপুর কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিনা আক্তার সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন তাদের। ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিবা বিন্তি ইমরান জানায়, সে ‘দানবের গল্প’, ‘ক্যান্টারভিল প্রাসাদের ভূত’ ও ‘মধ্যরাতে ভূত’ বইগুলো কিনেছে।

সাদমান সৌমিক উদয় জানায়, তার পছন্দ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও শাহরিয়ার কবিরের বইগুলো। সে কিনেছে সৈয়দ নাজমুল আবদানের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ নামের বইটি। শিক্ষক সেলিনা আক্তার বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এসেছি তারা যেন বইমেলা ঘুরে দেখে। বই কেনা ও বই পড়ার দিকে আগ্রহ যেন বাড়ে।’

মূল মঞ্চের আয়োজন
সোমবার বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘পাঠ্যপুস্তক রচনা, অতীত থেকে বর্তমান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুব্রত বড়ুয়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রতন সিদ্দিকী, মলয় ভৌমিক ও নূরুন্নাহার মুক্তা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক অজয় রায়। 

এসময় বক্তারা বলেন, পাঠ্যপুস্তক কেবল শ্রেণি কক্ষের নির্দিষ্ট পরিসরে অনুসরণের জন্য রচিত হয় না। তার পরিসর ব্যাপক হওয়া প্রয়োজন, যাতে অধীতব্য বিষয়ের সার্বিক ব্যাপ্তি তাতে প্রতিফলিত হয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় প্রবীর সরদারের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’র শিল্পীরা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী ফাতেমা-তুজ-জোহরা, ইয়াকুব আলী খান, ইয়াসমিন মুশতারী, লীনা তাপসী খান, সুমন মজুমদার ও বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী।

মেলায় আসা নতুন বই 
বাংলা একাডেমির তথ্য মতে, সোমবার মেলায় প্রকাশিত হয়েছে ৭৫টি নতুন বই। এর মধ্যে গল্প ২, উপন্যাস ১৯, প্রবন্ধ ৫, কবিতা ১৫, গবেষণা ২, শিশু সাহিত্য ৭, জীবনী ৩, মুক্তিযুদ্ধ ১, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ২, ইতিহাস ৩, রম্য/ধাধা ২ ও অন্যান্য ১২টি বই। 

উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে অবসর থেকে প্রকাশিত আল মাহমুদের ‘নির্বাচিত সেরা সাত’, আদর্শ থেকে তুষার আবদুল্লাহর ‘এনার্জি রিপোর্টিং’, ঐতিহ্য থেকে তাপস রায়ের ‘রসিক রবীন্দ্রনাথ’, দেশ পাবলিকেশনস থেকে তানিম ইশতিয়াকের ‘আমাকে আরোগ্য দেবে একটি হৃদয়’, ঐতিহ্য থেকে বুলবুল সরওয়ারের ‘হৃদয় আমার মির্জা গালিব’, কবি প্রকাশনী এনেছে ত্রিশাখ জলদাসের ‘মোমঘর’, বিভাস এনেছে ইজাজ আহমেদ মিলনের ‘কোনখানে রাখব এনাম’, কথাপ্রকাশ এনেছে আবুল কাশেম ফজলুল হকের ‘বাংলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য’, অন্বেষা এনেছে মোস্তফা মামুনের ‘আবরার শিশির এবং জয়িতা’, পার্ল পাবলিকেশন্স এনেছে আনিসুল হকের ‘কৌতুক যৌতুক’।

মঙ্গলবার মূল মঞ্চের আয়োজন
মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের প্রকাশনা কার্যক্রম : অতীত থেকে বর্তমান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আহমাদ মাযহার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন শিল্পী রফিকুন নবী, কবি তারিক সুজাত, লেখক রেজানুর রহমান ও পশ্চিমবঙ্গের লেখক-গবেষক ইমানুল হক। সভাপতিত্ব করবেন শিল্পী হাশেম খান। এছাড়া প্রতিদিনকার মতো সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

সাহিত্য সংবাদ

আরও সাহিত্য সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে