Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.2/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-০৭-২০১৬

দেড় লাখ কোটি টাকা পড়ে আছে

দেড় লাখ কোটি টাকা পড়ে আছে

ঢাকা, ০৭ ফেব্রুয়ারী- বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ১৯ বিলিয়ন ডলার পড়ে আছে, টাকার অঙ্কে যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এই অর্থ বৈদেশিক সহায়তার। ব্যবহার করতে পারছে না বলে অর্থগুলো হাতেও পাচ্ছে না বাংলাদেশ। অথচ এ দিয়ে বাংলাদেশ পাঁচটি পদ্মা সেতু তৈরি করতে পারবে। আবার এই অর্থ দেশের বর্তমান বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিরও (এডিপি) প্রায় দেড় গুণ।

দেশে একদিকে ব্যাংকগুলো বসে আছে সোয়া লাখ কোটি টাকা অলস অর্থ নিয়ে, কিন্তু বিনিয়োগ হচ্ছে না। অন্যদিকে দাতারা বসে আছে আরও বেশি অর্থ নিয়ে। ব্যবহার করতে পারছে না সরকার। এর প্রায় পুরোটাই প্রকল্প সাহায্য। সামান্য আছে খাদ্য সাহায্য, মাত্র সাড়ে ২২ কোটি ডলার। আয় নয়, দেশের জন্য তার চেয়েও বড় সমস্যা এখন অর্থ খরচের।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি মনে করেন, বিদেশি সহায়তা ব্যবহার করতে না পারার জন্য ৭৫-৮০ শতাংশই দায়ী দেশের প্রশাসনিক সক্ষমতার অভাব।

অন্যদিকে বিদেশি সহায়তা ব্যবহারে প্রশাসনিক সক্ষমতার অভাবের কথা স্বীকার করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম। তাঁর মতে, বিদেশি সহায়তা ব্যবহারে অবশ্যই প্রশাসনিক সক্ষমতা অর্জন করা প্রয়োজন।

বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্যই মূলত এই অর্থের প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল সরকার, কিন্তু অর্থ ছাড় করাতে পারেনি বাংলাদেশ। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে সেই অর্থ ফেরত পাঠাতেও হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দাতাদের শর্তের কারণেও অর্থ পাওয়া যায়নি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত অনুদান ও ঋণ মিলিয়ে ৯ হাজার ২১৫ কোটি ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দাতারা। টাকার বর্তমান মূল্যে এর পরিমাণ ৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। এর প্রায় ২৯ শতাংশ অর্থই বাংলাদেশ ব্যবহার করতে পারেনি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ সাহায্য ব্যবহার করতে পেরেছে ৬ হাজার ৫৪৩ কোটি ডলার বা প্রায় ৫ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

আর ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি প্রায় ২ হাজার ৬৭২ কোটি ডলার। এর মধ্যে দুর্নীতিসহ নানা কারণে দাতা সংস্থা ও দেশগুলো সাহায্য বাতিল করেছে প্রায় ৮০৩ কোটি ডলার। বাকি ১ হাজার ৮৬৯ কোটি ডলার (১ লাখ ৪৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা) এখন পাইপলাইনে পড়ে আছে।

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রশাসনিক সক্ষমতার অভাবের কথা জানিয়ে বলেন, দর-কষাকষির দক্ষতার অভাবে, পাশাপাশি সময়মতো প্রকল্পের কেনাকাটা শেষ করা যায় না। ভূমিসংক্রান্ত জটিলতাও রয়েছে। আবার বড় প্রকল্পের ক্রয় অনুমোদন দিতে দাতারাও অনেক সময় দেরি করে, এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত পাইপলাইন বড় হতে থাকে।

সাহায্যের সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য দাতাদের সমন্বয়ে একটি যৌথ সহায়তা কৌশল (জেসিএস) তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি খাতেই সরকার ও দাতা প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যৌথ দল রয়েছে, কিন্তু তাতেও কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না, বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, সে সময়ে পাইপলাইনে অব্যবহৃত সাহায্য ছিল ৮৮৫ কোটি ডলার। পরের সাত বছরে তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে হয়ে গেছে ১ হাজার ৮৬৯ কোটি ডলার।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, বিদেশি সহায়তার সুদের হার অনেক কম। আর বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পে শুধু অর্থই আসে না, প্রযুক্তিও আসে। তাই বিদেশি সহায়তা যত বেশি ব্যবহার করা সম্ভব, অর্থনীতির জন্য তত বেশি ভালো। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে স্বল্প সুদের বিদেশি সহায়তা ব্যবহার করতেই হবে।

কেন ব্যবহার হয় না: অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে সাহায্যের কার্যকর ব্যবহার নিয়ে একটি প্রকল্প আছে। এই ‘এইড ইফেকটিভনেস’ প্রকল্পের নীতি ও সমন্বয় বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতার অভাব রয়েছে। আর পাইপলাইনে যে বিপুল অর্থ পড়ে আছে, তা ছাড় করার বিষয়টি নির্ভর করছে দর-কষাকষি করার সক্ষমতার ওপর। সব মিলিয়ে এত বছরেও দক্ষতা অর্জন না করা দুঃখজনক।

মিজানুর রহমানের মতে, দাতাদের ক্রয়নীতি অনেক ক্ষেত্রে বেশ শ্লথগতির। আবার তাঁরা এ ক্রয় প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি সরকারের হাতে ছেড়ে দিতে চান না। এ ছাড়া ইআরডি ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও রয়েছে। এ জন্য একটি খাতভিত্তিক মূল্যায়ন দল গঠন করা উচিত, যারা একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর বিদেশি সহায়তার প্রবাহ ও বাস্তবায়ন মূল্যায়ন করবেন।

মিজানুর রহমান বলেন, প্রকল্প-সংক্রান্ত সভায় খাওয়াদাওয়াসহ অন্যান্য খাতে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। এ ধরনের খরচও বন্ধ করা উচিত। দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগেও অনেক ব্যয় হয়।

কার কাছে কত: পাইপলাইনে থাকা বিপুল অর্থের দুই-তৃতীয়াংশই আছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান—এই তিনটি দাতা দেশ ও সংস্থার কাছে। সবচেয়ে বেশি বিদেশি সহায়তা পাইপলাইনে আছে বিশ্বব্যাংকের কাছে। এর পরিমাণ মোট পাইপলাইনে থাকা সাহায্যের এক-চতুর্থাংশ বা ৪৯৭ কোটি ডলার। এরপরেই জাপানের কাছে আছে ৩৪৮ কোটি ডলার এবং এডিবির কাছে ৩৩৮ কোটি ডলার। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় কমিশন, ইউনিসেফ, ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও ২৯টি দাতার কাছে বাকি ৬৮৬ কোটি ডলার।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি সহায়তার ধরনও পাল্টেছে, বদলেছে প্রতিশ্রুতিও। স্বাধীনতার পর প্রথম কয়েক বছর দাতারা যে সাহায্য করত, এর মধ্যে প্রকল্প সহায়তা ছিল গড়ে ১৪-১৫ শতাংশ। বাকি সহায়তা ছিল খাদ্য ও পণ্য সাহায্য। কয়েক দশকের ব্যবধানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। এখন বিদেশি সহায়তার প্রায় শতভাগই প্রকল্প সাহায্য। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দাতারা যে সহায়তা দিয়েছে, এর মধ্যে ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ প্রকল্প সাহায্য। বাকিটা খাদ্য-সহায়তা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ বিদেশি সহায়তার হিসাবে ধরা হয় না। এ ছাড়া বিদেশ থেকে নেওয়া বিমান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মতো বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ঋণও বিদেশি সহায়তার অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

প্রকল্প তদারকির দায়িত্ব বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি)। এ বিভাগের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, এখন বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প পাসের আগে জমি অধিগ্রহণ, বাস্তবায়ন দক্ষতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশোধিত এডিপি প্রণয়নের সময় বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে উন্নতি হওয়ায় এডিপিতে ক্রমান্বয়ে বিদেশি সহায়তার পরিমাণও কমে আসছে। একসময় এডিপির ৭০ শতাংশই আসত বিদেশিদের দেওয়া অর্থ দিয়ে, এখন তা ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে